৪২১
আল্লাহর পরিজন কারা?
উত্তর
সমগ্র সৃষ্টি
সমাধান
মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, পোষ্য, পরিচারক সবাই মিলে পরিজন।একটি পরিবার হল মানুষের কাছে দয়া ও ভালবাসার মতো মানবিক গুণাবলী বিকাশের সর্বোত্তম জায়গা।দায়িত্ব পালন কিংবা তাদের জন্য ব্যয়ভার বহন, ভরণ-পোষণ ইসলামে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পরিজনের প্রতি।পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার কিছু পরিজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (স.)। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ: ২১৫)
৪২২
নিচের কোনটি ঈমানের অঙ্গ?
উত্তর
স্বদেশপ্রেম
সমাধান
ইসলাম স্বাধীনতাকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইসলামে দেশপ্রেমকে ঈমানের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও বিজয় উদযাপন উপলক্ষে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশও দিয়েছে ইসলাম। তাছাড়া বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হুব্বুল ওয়াত্বানে মিনাল ঈমান অর্থাৎ দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।’নিজ জন্মভূমির প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে ভালোবাসা ছিল, তা অসাধারণ। শুধু তাই নয়, ইসলামের নবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে যেমন ছিল স্বদেশ প্রেম তেমনি তার সাহাবায়েকেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈনের মাঝেও বিদ্যমান ছিল এ দেশপ্রেম।
৪২৩
ইয়ামামার যুদ্ধে কতজন হাফিযে কুরআন শহীদ হয়েছিলেন?
উত্তর
৭০ জন
সমাধান
ইয়মামার যুদ্ধে 70 জন কোরআনের হাফিজ শাহাদাত বরণ করেন । আর তখন কোরআন বিলুপ্ত হওয়ার আসংখ্যায় কোরআন সংকলণ বোর্ড গঠন করা হয়।
৪২৪
কোনটি আখলাকে হাসীদাহ নয়?
উত্তর
পরনিন্দা
সমাধান
আখলাকে হামিদাহ বলতে মানুষের দৈনন্দিন কাজ কর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন-পরোপকারিতা,শালীনতাবোধ,সৃষ্টির সেবা,আমানত রক্ষা,শ্রমের মর্যাদা,ক্ষমা ইত্যাদি।এখানে পরনিন্দা একটি অনুত্তম আচরন যা আখালাকে হামীদার বিপরীত।
৪২৫
কোন মুসলিম মনীষী অঙ্কশাস্ত্রে বিশ্ববিখ্যাত ছিলেন?
উত্তর
আল-খারিযমী
সমাধান
মুসলিম মনীষী অঙ্কশাস্ত্রে বিশ্ববিখ্যাত ছিলেন আল - খারিযমী।
আল খারিজমি (৭৮০ - ৮৫০) মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তার পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খারিজমি।
খোয়ারিজমি রচিত কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলাতে তিনি রৈখিক এবং দ্বিঘাত সমীকরণ এর প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেন। বীজগণিতে তার প্রধান সাফল্য ছিল বর্গের সাহায্যে দ্বিঘাত সমীকরণের সমধান, এর জন্য তিনি জ্যামিতিক প্রমাণ প্রদান করেন।
সর্বপ্রথম তিনিই বীজগণিতকে স্বাধীন শাখা হিসেবে তুলে ধরেন এবং সমীকরণ সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন, তাই খোয়ারিজমিকে বীজগণিতের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
৪২৬
শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তিমূল কি?
উত্তর
আদল
সমাধান
আদল (আরবি: عدل, আদল) একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ন্যায়বিচার, এবং এটি ইসলামে আল্লাহর অন্যতম নাম। এটি বাহাই ধর্মের ইনসাফ নামক ধারণার সমার্থক। আদেল এবং আদিল, আদল শব্দটি থেকে প্রাপ্ত পুরুষবাচক নাম এবং এগুলো মুসলিম ও আরব বিশ্বে নাম হিসেবে প্রচলিত।
৪২৭
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রথম আবিষ্কারক--
উত্তর
স্যার আইজ্যাক নিউটন
সমাধান
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রথম আবিষ্কারক - - স্যার আইজ্যাক নিউটন।
স্যার আইজ্যাক নিউটন (ইংরেজি: Sir Isaac Newton; ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩ - ৩১ মার্চ ১৭২৭) প্রখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। অনেকের মতে, নিউটন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী।
১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে তার বিশ্ব নন্দিত গ্রন্থ ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশিত হয় যাতে তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ এবং গতির তিনটি সূত্র বিধৃত করেছিলেন।
এই সূত্র ও মৌল নীতিগুলোই চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, আর তার গবেষণার ফলে উদ্ভূত এই চিরায়ত বলবিজ্ঞান পরবর্তী তিন শতক জুড়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার জগতে একক আধিপত্য করেছে।
৪২৮
ভূগোল শাস্ত্রের প্রামাণ্য গ্রন্থের নাম--
উত্তর
কিতাবুল জিবার
সমাধান
ভূগোল শাস্ত্রের প্রামাণ্য গ্রন্থের নাম - - কিতাবুল জিবার।
৪২৯
পৃথিবীর নিকটতম আসমানের নাম--
উত্তর
বায়তুল ইযযাহ
সমাধান
মহান আল্লাহ তায়ালা তৈরি করেছেন ৭ আসমান জমিন এবং পৃথিবীকে করেছেন সুসজ্জিত। আর তার আরশে আজিম হলো ৭তম আসমানে কিন্তু তিনি সকল জায়গায় বিরাজমান। তিনি ১তম আসমানে আসেন বান্দার তাহাজ্জুদ নামাজের সময়।
৪৩০
সুফীবাদকে ইসলাম ধর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কে?
উত্তর
ইমাম গাযযালী (র)
সমাধান
সুফীবাদকে ইসলাম ধর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ইমাম গাযযালী (র)।
আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল - গাজ্জালি (১০৫৮ - ১১১১) বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই ইমাম গাজ্জালী হিসেবে বেশি পরিচিত, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শিক্ষাবিদ ইমাম আল - গাজ্জালির ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করেন। তার পিতার নামটিও ছিল তার নামের অনুরূপ, মুহাম্মদ।
মুহাম্মদের পিতা অর্থাৎ ইমাম গাজ্জালী - এর দাদার নাম ছিল আহমদ। তার পিতা মুহাম্মদ তখনকার সময়ে একজন স্বনামধন্য সূতা ব্যাবসায়ী ছিলেন। গাজল অর্থ সূতা, নামকরনের এই সামঞ্জস্যতা তাই তার বংশকে গাজ্জালী নামে পরিচিত করেছে।
আবার কারো মতে তিনি হরিণের চক্ষু বিশিষ্ট অপরূপ সুদর্শন ছিলেন, আর গাজাল অর্থ হরিণ, তাই পিতা মাতা তাকে শৈশবে আদর করে গাজ্জালী বলে ডাকতেন। উভয় বর্ণনানুসারে তাকে গাজ্জালী বা গাজালীও বলা হয়।
তিনি সে সময়ে ইরানের শিক্ষা নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেন। জ্ঞান অন্বেষণের জন্য তিনি দেশভ্রমণেও বেরিয়েছিলেন। ১১১১ সালে তিনি মারা যান।