ব্যাথার দান কি? কে লেখেন?
ব্যথার দান হলো বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর লেখা প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি মূলত একটি গল্পগ্রন্থ।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- লেখক: কাজী নজরুল ইসলাম।
- ধরন: এটি কবির প্রথম প্রকাশিত বই, যা ছোটগল্পের সংকলন।
- প্রকাশকাল: ১৯২২ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
পরীক্ষার জন্য মনে রাখা জরুরি যে, নজরুল ইসলামের সাহিত্যিক জীবনের শুরুর দিকের এই সৃষ্টিটি মূলত আবেগ ও অনুভূতির মিশেলে লেখা ছোটগল্পের একটি চমৎকার সংকলন।
‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’, ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’ প্রভৃতি ছোট গল্পগ্রন্থের রচয়িতা হলেন-
সঠিক উত্তর হলো শওকত ওসমান। সাহিত্যিক শওকত ওসমানের সৃজনশীল কর্মের মধ্যে ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ এবং ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’ অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি ছোটগল্প সংকলন।
মনে রাখার সহজ উপায়:
- শওকত ওসমান তার লেখনীতে সমাজ ও মানুষের জীবনের গভীর দিকগুলো ফুটিয়ে তুলতেন।
- এই দুটি গ্রন্থই তার ছোটগল্পের সংকলন হিসেবে বাংলা সাহিত্যে স্বীকৃত।
- পরীক্ষায় বারবার আসা এই প্রশ্নটি মনে রাখতে ‘জন্ম’ ও ‘জুনু’ শব্দ দুটির সাথে শওকত ওসমানের নাম মিলিয়ে একটি ছোট ছন্দ তৈরি করে নিতে পারেন।
‘দুই তীর ও অন্যান্য গল্প’ গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
বিষয়টা মনে রাখা খুব সহজ। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মূলত তাঁর কালজয়ী উপন্যাস 'লালসালু'র জন্য বিখ্যাত হলেও, বাংলা ছোটগল্পের ভুবনেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর লেখা ছোটগল্পগুলোর মধ্যে 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- লেখক: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ধরন: এটি তাঁর ছোটগল্পের একটি বিখ্যাত সংকলন।
- মনে রাখার কৌশল: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যকর্মের তালিকায় 'দুই তীর' নামটা মাথায় গেঁথে নিলে পরীক্ষার হলে আর ভুল হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
ডি এল রায়ের সামাজিক নাটক নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো দুর্গাদাস। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ ডি এল রায়ের নাট্যসাহিত্যের ধরন অনুযায়ী নাটকগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- দুর্গাদাস মূলত একটি ঐতিহাসিক নাটক। ডি এল রায় তাঁর ঐতিহাসিক নাটকগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- অন্যদিকে, পরপারে এবং বঙ্গনারী নাটক দুটি তাঁর সামাজিক নাটকের অন্তর্ভুক্ত।
- যেহেতু প্রশ্নটি সামাজিক নাটক নয় এমনটি জানতে চেয়েছে, তাই ঐতিহাসিক ঘরানার নাটক হিসেবে দুর্গাদাস-ই এখানে সঠিক উত্তর।
সহজ কথায়, ডি এল রায়ের সামাজিক নাটকের তালিকায় দুর্গাদাস পড়ে না, এটি তাঁর ঐতিহাসিক নাটকের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাংলা সাহিত্যে সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা কে?
বাংলা সাহিত্যে সন-তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা হলেন বিজয়গুপ্ত। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- বিজয়গুপ্ত তাঁর বিখ্যাত 'পদ্মাপুরাণ' বা মনসামঙ্গল কাব্যে নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হোসেন শাহের রাজত্বকালে ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে (৮৯৯ বঙ্গাব্দ) এই কাব্য রচনা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো মনসামঙ্গল কাব্য, যেখানে রচনার সুনির্দিষ্ট সন-তারিখ পাওয়া যায়।
- তাই সাহিত্যিক বিচারে সন-তারিখের ভিত্তিতে বিজয়গুপ্তকেই প্রথম রচয়িতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
ড. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন রচিত বই--
ড. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন ছিলেন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও শিক্ষাবিদ। তার লেখা অন্যতম জনপ্রিয় ও তথ্যবহুল বই হলো সাগরের রহস্যপুরী।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- এই বইটিতে তিনি সমুদ্রের তলদেশের অজানা জগত এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের রহস্যময় জীবন নিয়ে চমৎকারভাবে আলোচনা করেছেন।
- তার অন্যান্য বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে 'আবিষ্কারের নেশায়', 'বিজ্ঞানের রাজ্যে' এবং 'আইনস্টাইন'।
- পরীক্ষায় বারবার আসা এই প্রশ্নটি মনে রাখতে চাইলে, সমুদ্র বা বিজ্ঞানের রহস্য নিয়ে তার লেখা বইগুলোর তালিকার সাথে এটি মিলিয়ে নিতে পারেন।
কোনটি গল্পগ্রন্থ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শিউলিমালা। কারণ এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন বা গল্পগ্রন্থ। অন্যদিকে, বাকি অপশনগুলোর মধ্যে 'মধুমালা' একটি নাটক এবং 'শেষ প্রশ্ন' ও 'বাঁধনহারা' হলো উপন্যাস। তাই খুব সহজেই বোঝা যায় সঠিক উত্তর কোনটি!
বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয় কাকে?
বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের যে আধুনিক রূপ বা শৈল্পিক উৎকর্ষ আমরা দেখি, তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনিই।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সাধনা' পত্রিকা সম্পাদনার সময় থেকেই ছোটগল্প রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- তাঁর লেখা 'দেনাপাওনা', 'পোস্টমাস্টার' বা 'ছুটি'-এর মতো গল্পগুলো বাংলা ছোটগল্পের ধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- সাহিত্যের এই শাখায় তাঁর অসামান্য অবদানের কারণেই তাঁকে বাংলা ছোটগল্পের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতম শাখা কোনটি?
বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প। এর কারণ হলো, সাহিত্যের অন্যান্য শাখা যেমন কবিতা, নাটক বা মহাকাব্য অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল, কিন্তু ছোটগল্পের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে তুলনামূলকভাবে অনেক পরে।
- সাহিত্যের বিবর্তন: প্রাচীন ও মধ্যযুগে কবিতা বা নাটকের ব্যাপক চর্চা থাকলেও ছোটগল্পের মতো সুসংগঠিত আধুনিক রূপটি উনিশ শতকের আগে সেভাবে দেখা যায়নি।
- আধুনিকতার ছোঁয়া: ছোটগল্প মূলত আধুনিক জীবনের দ্রুততা এবং মানুষের জীবনের খণ্ডচিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্য তৈরি হয়েছে, যা সাহিত্যের অন্যান্য শাখার তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ও সমসাময়িক।
- রবীন্দ্রনাথের অবদান: বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের সার্থক ও আধুনিক রূপটি মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরেই পূর্ণতা পায়, যা একে সাহিত্যের আধুনিকতম শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর রচনা কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো একাত্তরের দিনগুলি। এটি মূলত শহীদ জননী জাহানারা ইমামের লেখা একটি কালজয়ী ডায়েরি বা স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- একাত্তরের দিনগুলি বইটিতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবরুদ্ধ ঢাকার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- লেখিকা এখানে নিজের চোখের দেখা যুদ্ধের ভয়াবহতা, পরিবারের ত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন তুলে ধরেছেন।
- এটি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দিনলিপি বা ডায়েরি হিসেবে এটি আমাদের ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।