মুনীর চৌধুরী রচিত নাটকের নাম নাম-
সঠিক উত্তর হলো রক্তাক্ত প্রান্তর। মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্মের মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ঐতিহাসিক নাটক।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত।
- মুনীর চৌধুরী বাংলা নাটকের জগতে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নাট্যকার, আর তাঁর এই নাটকটি পাঠ্যবই এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- অন্যান্য অপশনগুলো অন্য লেখকদের লেখা, তাই বিভ্রান্ত না হয়ে শুধু মনে রাখুন—ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি বললেই আমাদের মাথায় সবার আগে আসে মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর-এর কথা।
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকের পটভূমি হলো-
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকটির সঠিক উত্তর হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- নাটকটি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মুনীর চৌধুরী এই কালজয়ী নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকের মূল বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে শহীদ হওয়া ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অমানবিক দমন-পীড়ন।
সহজ কথায়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও সেই সময়ের বাস্তব চিত্রই এই নাটকের মূল ভিত্তি।
মুনীর চৌধুরী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকাকালীন কোন বিখ্যাত নাটকটি লিখেছিলেন?
সঠিক উত্তর হলো কবর। মুনীর চৌধুরী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। সেই বন্দী জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই তিনি এই কালজয়ী নাটকটি রচনা করেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- সময়কাল: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়।
- স্থান: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার।
- নাটকের গুরুত্ব: এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও প্রভাবশালী প্রতীকী নাটক হিসেবে পরিচিত।
কারাগারের সেই অবরুদ্ধ পরিবেশে বসেই তিনি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রেক্ষাপটে এই অসাধারণ সৃষ্টিটি উপহার দিয়েছিলেন, যা আজও আমাদের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মুনীর চৌধুরীর অনূদিত নাটক কোনটি?
মুনীর চৌধুরীর অনূদিত নাটক হলো রূপার কৌটা। জন গলসওয়ার্দির বিখ্যাত নাটক 'দ্য সিলভার বক্স' (The Silver Box)-এর বাংলা অনুবাদই হলো 'রূপার কৌটা'।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে মৌলিক নাটকের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের বেশ কিছু কালজয়ী নাটক অনুবাদ করেছেন।
- 'রূপার কৌটা' তাঁর অনূদিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ, যা মূলত সামাজিক ও আইনি বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা।
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক কোন্ পটভূমিতে লিখিত?
সঠিক উত্তর হলো পানি পথের যুদ্ধ। মুনীর চৌধুরীর লেখা এই বিখ্যাত নাটকটি মূলত ১৭৬১ সালে সংঘটিত ঐতিহাসিক তৃতীয় পানি পথের যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
- নাটকটিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়কে খুব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- ইতিহাসের পাতায় থাকা এই যুদ্ধের করুণ পরিণতিই নাটকের মূল উপজীব্য।
- সহজ কথায়, পানি পথের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই লেখক এই কালজয়ী নাটকটি সাজিয়েছেন।
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর নাটক কোনটি?
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর বিখ্যাত নাটক হলো সুড়ঙ্গ। এটি তার অন্যতম একটি সার্থক সৃষ্টি। এই নাটকটি মূলত মানুষের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা এবং অস্তিত্বের সংকটের এক চমৎকার বহিঃপ্রকাশ।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর নাট্যকার হিসেবে পরিচিতি মূলত তার গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের জন্য।
- সুড়ঙ্গ নাটকটি তার সৃজনশীলতার এক অনন্য নিদর্শন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
‘হাত হদাই’ নাটকের নাট্যকার কে?
সঠিক উত্তর হলো সেলিম আল দীন।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। সেলিম আল দীন বাংলা নাটকের জগতে এক অনন্য নাম, যিনি তাঁর নিজস্ব ঘরানার নাট্যশৈলীর জন্য পরিচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু সৃষ্টির মধ্যে 'হাত হদাই' অন্যতম। এই নাটকটি মূলত তাঁর নিরীক্ষাধর্মী নাট্যচিন্তার একটি চমৎকার উদাহরণ।
- নাট্যকার: সেলিম আল দীন।
- বৈশিষ্ট্য: তাঁর নাটকে লোকজ উপাদান ও ভাষার এক দারুণ সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা 'হাত হদাই' নাটকেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
পরীক্ষার জন্য এটি মনে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক যেমন—'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' বা 'কেরামতমঙ্গল'-এর সাথে 'হাত হদাই'-কেও তাঁর তালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মনে রাখা।
‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘এক্সপ্লোসিড ও মূলসমস্যা’ ‘চারকাকড়ার ডকুমেন্টারি’ প্রভৃতি নাটকের নাট্যকার-
সঠিক উত্তর হলো সেলিম আল দীন। বাংলা নাটকের জগতে তিনি একজন কিংবদন্তি এবং তার নাট্যশৈলী একেবারেই অনন্য।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
- সেলিম আল দীন মূলত 'দ্বৈতাদ্বৈতবাদী' নাট্যতত্ত্বের প্রবক্তা।
- তার নাটকে লোকজ উপাদান এবং জীবনবোধের এক চমৎকার সংমিশ্রণ দেখা যায়।
- প্রশ্নোক্ত নাটকগুলো—যেমন ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘এক্সপ্লোসিড ও মূলসমস্যা’ এবং ‘চারকাকড়ার ডকুমেন্টারি’—তার সৃজনশীলতার এক অনন্য নিদর্শন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে তাকে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন আসলে মনে রাখবেন, নিরীক্ষাধর্মী এবং ভিন্নধর্মী নাটকের নাম শুনলেই সেলিম আল দীনের কথা মাথায় আনা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ!
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
সঠিক উত্তর হলো বন পাংশুল। বাংলা নাট্যসাহিত্যের আধুনিক ধারার অন্যতম প্রধান রূপকার সেলিম আল দীন তাঁর সৃজনশীল লেখনীতে লোকজ উপাদান এবং জীবনবোধকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- সেলিম আল দীনের নাটকের ভাষা ও বিষয়বস্তু সাধারণত মাটি ও মানুষের খুব কাছাকাছি থাকে।
- বন পাংশুল তাঁর অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য নাটক, যা তাঁর নাট্যশৈলীর স্বকীয়তাকে প্রকাশ করে।
- পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক যেমন—সংবাদ কার্টুন, হাঁসুলী উপাখ্যান বা নিমজ্জন-এর সাথে এই নামটি আলাদাভাবে মনে রাখলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
যৈবতী কন্যার মন’ নাটকটির রচয়িতা কে?
‘যৈবতী কন্যার মন’ নাটকটির রচয়িতা হলেন সেলিম আল দীন। বাংলা নাটকের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম, যিনি লোকজ উপাদান ও মিথের ব্যবহারে নাটককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- সেলিম আল দীন মূলত গ্রামীণ জীবন, লোকগাথা এবং লোকজ ভাষার ওপর ভিত্তি করে নাটক লিখতে পছন্দ করতেন।
- ‘যৈবতী কন্যার মন’ নাটকটি তাঁর সেই ধারারই একটি কালজয়ী সৃষ্টি, যেখানে লোকজ সংস্কৃতির গভীর ছাপ পাওয়া যায়।
- তাঁর নাটকের ভাষা ও আঙ্গিক সাধারণ নাটকের চেয়ে কিছুটা আলাদা ও কাব্যিক হয়, যা এই নাটকটির ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।