বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি?
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক হলো শর্মিষ্ঠা। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৫৯ সালে এটি রচনা করেন। কেন এটি সার্থক নাটক, তা খুব সহজে বুঝে নেওয়া যাক:
- নাট্যরীতির প্রয়োগ: এর আগে বাংলা নাটকে সংস্কৃত বা যাত্রার প্রভাব থাকলেও, মধুসূদনই প্রথম পাশ্চাত্য নাট্যরীতির আদলে এটি সাজিয়েছেন।
- গঠনশৈলী: এতে দৃশ্য ও অঙ্কের সুশৃঙ্খল বিন্যাস ছিল, যা তৎকালীন বাংলা নাটকে একেবারেই নতুন ছিল।
- ভাষার ব্যবহার: অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার না থাকলেও, নাটকের সংলাপগুলো ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও আধুনিক, যা বাংলা নাটকের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সহজ কথায়, নাটকের গঠন, সংলাপ এবং মঞ্চায়নের উপযোগী আধুনিক শৈলীর কারণে শর্মিষ্ঠা-কেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক হিসেবে গণ্য করা হয়।
নিচের কোন নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সবগুলো। কারণ দীনবন্ধু মিত্র বাংলা নাট্যসাহিত্যের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নাট্যকার, যার লেখনীতে এই নাটকগুলো উঠে এসেছে।
- নবীন তপস্বিনী: এটি দীনবন্ধু মিত্রের একটি বিখ্যাত প্রহসনমূলক নাটক।
- কমলে কামিনী: এটিও তাঁর রচিত একটি উল্লেখযোগ্য নাটক।
- বিয়ে পাগলা বুড়ো: সামাজিক কুসংস্কার ও হাস্যরসের মিশেলে লেখা তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্রহসন।
সহজ কথায়, এই তিনটি নাটকই দীনবন্ধু মিত্রের সৃজনশীলতার ফসল, তাই সঠিক উত্তর হবে সবগুলো।
বিষয়বস্তুর দিক হতে ‘নীলদর্পণ’ একটি-
সঠিক উত্তর হলো সামাজিক নাটক। দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক, কারণ এটি তৎকালীন সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
কেন এটি সামাজিক নাটক, তা খুব সহজে এভাবে বোঝা যায়:
- বাস্তবতা: এই নাটকে নীলকর সাহেবদের দ্বারা বাংলার সাধারণ কৃষকদের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
- সামাজিক প্রেক্ষাপট: এটি কোনো কাল্পনিক বা ঐতিহাসিক রাজা-বাদশার গল্প নয়, বরং সেই সময়ের গ্রামীণ সমাজের জ্বলন্ত সমস্যা ও শোষণের দলিল।
- উদ্দেশ্য: সমাজের অন্যায় ও অবিচারকে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরাই ছিল এই নাটকের মূল লক্ষ্য, যা সামাজিক নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সহজ কথায়, যে নাটক সমাজের সমসাময়িক কোনো সমস্যা বা বাস্তব ঘটনা নিয়ে রচিত হয়, তাকেই সামাজিক নাটক বলা হয়। ‘নীলদর্পণ’ ঠিক সেই কাজটিই করেছে।
'কৃষ্ণকুমারী' কি ধরনের গ্রন্থ?
সঠিক উত্তর হলো নাটক। মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা 'কৃষ্ণকুমারী' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি বা বিয়োগান্তক নাটক হিসেবে পরিচিত।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রাজস্থানের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এই নাটকটি রচিত হয়েছে।
- বাংলা নাটকের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক, কারণ এতেই প্রথম ট্র্যাজেডির সার্থক রূপ ফুটে ওঠে।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হলো কৃষ্ণকুমারী। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে এই নাটকটি রচনা করেন।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য কিছু সহজ তথ্য:
- লেখক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- প্রেক্ষাপট: রাজস্থানের ইতিহাস অবলম্বনে এটি রচিত।
- গুরুত্ব: এর আগে বাংলা নাটকে ট্র্যাজেডির অভাব ছিল, মধুসূদন দত্ত এই নাটকের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি বা বিয়োগান্তক নাটকের ধারা প্রবর্তন করেন।
সহজ কথায়, ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে ট্র্যাজেডির এক দারুণ সংমিশ্রণই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে অনন্য করে তুলেছে।
বাংলা সাহিত্যে মুসলমান চরিত্র অবলম্বনে রচিত প্রতম নাটক কোনটি?
বাংলা সাহিত্যে মুসলমান চরিত্র অবলম্বনে রচিত প্রথম নাটক হলো জমিদার দর্পণ। নাটকটি রচনা করেছেন মীর মশাররফ হোসেন।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায়:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।
- ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত এই নাটকটিতে তৎকালীন জমিদারদের অত্যাচার এবং গ্রামীণ মুসলিম সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- বাংলা নাটকের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক, কারণ এর আগে নাটকে মুসলিম চরিত্রের এমন বলিষ্ঠ ও বাস্তবসম্মত উপস্থাপন খুব একটা দেখা যায়নি।
‘নন্দিনী, কিশোর’ রবীন্দ্রনাথের কোন নাটকের চরিত্র?
সঠিক উত্তর হলো রক্তকরবী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই রূপকধর্মী নাটকটি মূলত যক্ষপুরীর যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে মানুষের জয়গান গায়।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- নন্দিনী এই নাটকের প্রধান চরিত্র, যে প্রাণশক্তির প্রতীক।
- কিশোর হলো নন্দিনীর ভক্ত এক কিশোর চরিত্র, যে মাটির নিচে সোনা খোঁজার কাজ করত।
- পুরো নাটকটি আবর্তিত হয়েছে নন্দিনীকে কেন্দ্র করেই, তাই এই চরিত্রগুলোর নাম শুনলেই সরাসরি রক্তকরবী নাটকের কথা মনে রাখা সবচেয়ে সহজ।
‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
সঠিক উত্তর হলো নাটকের নাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রতীকী নাটক।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- রবীন্দ্রনাথের এই সৃষ্টিটি মূলত একটি রূপকধর্মী নাটক, যেখানে যক্ষপুরীর প্রেক্ষাপটে মানুষের যন্ত্রসভ্যতা ও শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
- সাহিত্যিক ধারায় এটি কোনো গল্প বা উপন্যাস নয়, বরং মঞ্চে অভিনয়ের উপযোগী একটি ধ্রুপদী নাটক হিসেবেই স্বীকৃত।
কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থগুলোর মধ্য কোনটি নাটক নয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ছায়ানট। কারণ বিষয়টি খুব সহজ—কাজী নজরুল ইসলামের ছায়ানট কোনো নাটক নয়, বরং এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
মনে রাখার সুবিধার্থে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:
- ছায়ানট ১৯২৫ সালে প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ, যেখানে কবির দেশপ্রেম ও বিদ্রোহের সুর ফুটে উঠেছে।
- অন্যদিকে, ঝিলিমিলি, পুতুলের বিয়ে এবং আলেয়া—এই তিনটিই নজরুলের লেখা জনপ্রিয় নাটক।
পরীক্ষায় গুলিয়ে ফেলা এড়াতে শুধু মনে রাখুন, নজরুলের কাব্যগ্রন্থের তালিকায় ছায়ানট একটি অন্যতম নাম, নাটক নয়।
শওকত ওসমান রচিত নাটক কোনটি?
শওকত ওসমানের লেখা নাটকগুলোর মধ্যে আমলার মামলা অন্যতম। এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক নাটক। শওকত ওসমান মূলত তার তীক্ষ্ণ লেখনী এবং সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরার জন্য পরিচিত, আর এই নাটকেও তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- লেখক: শওকত ওসমান।
- নাটকের নাম: আমলার মামলা।
- বিষয়বস্তু: আমলাতন্ত্রের জটিলতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই নাটকের নাম এবং লেখকের নাম একসাথে মনে রাখলে খুব সহজেই উত্তর দেওয়া সম্ভব।