বেগম রোকেয়ার রচনা কোনটি?
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো মতিচুর। এটি মূলত দুই খণ্ডে প্রকাশিত তার প্রবন্ধ সংকলন, যেখানে তিনি নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকার নিয়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা করেছেন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- মতিচুর হলো বেগম রোকেয়ার নারীবাদী চিন্তাধারার শ্রেষ্ঠ দলিল।
- তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে সুলতানার স্বপ্ন (Sultana's Dream) এবং অবরোধবাসিনী।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই এটি মনে রাখা জরুরি যে তার প্রবন্ধের নামই হলো মতিচুর।
কোন পত্রিকায় বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়?
সঠিক উত্তর হলো বিজ্ঞান সেবধি। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ পত্রিকার নামেই এর পরিচয় লুকিয়ে আছে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় বিজ্ঞান চর্চাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটির মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় সবার সামনে তুলে ধরা।
- তাই বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য সেই সময়ে বিজ্ঞান সেবধি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
‘কমলা কান্তের দপ্তর’ কোন শ্রেণীর রচনা?
সঠিক উত্তর হলো প্রবন্ধ। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘কমলা কান্তের দপ্তর’ মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক ও চিন্তাশীল প্রবন্ধ সংকলন।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র এই বইটিতে কমলাকান্ত নামক এক আফিমখোর চরিত্রের জবানিতে সমাজের নানা অসঙ্গতি ও গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন।
- যদিও এর ভাষা অত্যন্ত সরস এবং হাস্যরসে ভরা, কিন্তু গঠনশৈলী ও বিষয়বস্তুর গভীরতার কারণে সাহিত্যিক বিচারে একে প্রবন্ধ বা প্রবন্ধধর্মী রচনা হিসেবেই গণ্য করা হয়।
- এটি কোনো কাল্পনিক কাহিনী বা ভ্রমণবৃত্তান্ত নয়, বরং লেখকের নিজস্ব চিন্তার এক চমৎকার প্রকাশ।
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধের নাম?
সঠিক উত্তর হলো বাজে কথা। এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন।
- 'বাজে কথা' প্রবন্ধটি তাঁর চিন্তাশীল ও রম্য রচনার একটি অনন্য উদাহরণ।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই ধরনের প্রশ্ন আসে, তাই মূল প্রবন্ধগ্রন্থের নামগুলো একবার চোখ বুলিয়ে নিলে খুব সহজেই মনে রাখা যায়।
রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ হলো বিশ্বপরিচয়। এই বইটি মূলত বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়কে সহজ ও সাবলীল ভাষায় সাধারণ পাঠকের কাছে তুলে ধরার জন্য লেখা হয়েছে।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- বিশ্বপরিচয় গ্রন্থটিতে মহাবিশ্ব, নক্ষত্র এবং বিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্বগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য সাহিত্যকর্মের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এখানে তিনি বিজ্ঞানমনস্কতার পরিচয় দিয়েছেন।
- পরীক্ষার জন্য মনে রাখা জরুরি যে, এটি একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, কোনো গল্প বা উপন্যাস নয়।
রবীন্দ্রনাথ নিচের কোন দেশে ভ্রমণ করে প্রবন্ধ লিখেন?
সঠিক উত্তর হলো জাপান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৬ সালে জাপান ভ্রমণ করেন এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ও প্রবন্ধগুলো রচনা করেন।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য কিছু সহজ তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ১৯১৬ সালে জাপানে যান এবং সেখানে তিনি জাপানি সংস্কৃতি ও শিল্পকলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
- তাঁর এই সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা প্রবন্ধগুলো পরবর্তীতে 'জাপান যাত্রী' নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- জাপানের প্রকৃতি এবং সে দেশের মানুষের জীবনধারা তাঁর লেখায় অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
‘বীরবলের হালখাতা’ গ্রন্থটি কোন ধরনে রচনা
সঠিক উত্তর হলো প্রবন্ধ। প্রমথ চৌধুরী, যিনি 'বীরবল' ছদ্মনামে লিখতেন, তাঁর লেখা এই গ্রন্থটি মূলত একটি প্রবন্ধ সংকলন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর অধিকাংশ রচনাই মূলত চিন্তাশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রবন্ধ।
- ‘বীরবলের হালখাতা’ বইটিতে লেখকের বিভিন্ন সময়ে লেখা সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রবন্ধগুলো একত্রিত করা হয়েছে।
তাই সাহিত্যের ধরণ অনুযায়ী এটি একটি চমৎকার প্রবন্ধ গ্রন্থ।
আবুল কালাম শামসুদ্দীনের লেখা প্রবন্ধ কোনটি?
আবুল কালাম শামসুদ্দীনের লেখা প্রবন্ধগ্রন্থ হলো দৃষ্টিকোণ। সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম শামসুদ্দীন তাঁর লেখনীতে সমাজ ও সমসাময়িক বিষয়গুলোকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- দৃষ্টিকোণ তাঁর অন্যতম প্রধান প্রবন্ধ সংকলন।
- তিনি মূলত তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী রচনার জন্য পরিচিত, যা এই বইটিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- পরীক্ষায় প্রায়ই তাঁর সাহিত্যকর্ম থেকে প্রশ্ন আসে, তাই এই নামটি মনে রাখা জরুরি।
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা হলেন আলাওল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল আরাকান রাজসভার আশ্রয়ে থেকে এই অমর কাব্যটি রচনা করেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- মূল উৎস: এটি মূলত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচিত।
- সময়কাল: সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তিনি এটি অনুবাদ ও রূপান্তর করেন।
- বৈশিষ্ট্য: আলাওলের পাণ্ডিত্য এবং কাব্যশৈলীর কারণে এটি বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়।
পরীক্ষায় মনে রাখার সহজ উপায় হলো, মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কথা শুনলেই আমাদের মাথায় সবার আগে আলাওল-এর নাম আসা উচিত, কারণ তাঁর লেখনীতেই এই ধারাটি সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে।
এস ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
এস ওয়াজেদ আলীর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ভবিষ্যতের বাঙালি। তিনি মূলত একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার লেখায় বাঙালি সমাজের সংস্কার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা ফুটে উঠত।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য:
- ভবিষ্যতের বাঙালি গ্রন্থটি এস ওয়াজেদ আলীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ সংকলন।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই লেখকের নাম ও বইয়ের নাম একসাথে মনে রাখা জরুরি।