সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য
কোন ভাষা-রীতিতে এ প্রশ্ন লেখা হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চলিত রীতি। এর কারণটা খুব সহজ:
- চলিত রীতিতে ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য হয়।
- এই প্রশ্নে ব্যবহৃত 'লেখা হয়েছে' বা 'এ' শব্দগুলো চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য বহন করে।
- সাধু রীতির মতো এখানে কোনো গুরুগম্ভীর বা তৎসম শব্দের দীর্ঘ রূপ ব্যবহার করা হয়নি, বরং আমরা দৈনন্দিন জীবনে যেভাবে কথা বলি, সেই সাবলীল ভঙ্গিটিই এখানে ফুটে উঠেছে।
সহজ কথায়, যে ভাষায় আমরা বর্তমানে বইপত্র পড়ি বা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করি, সেটিই হলো চলিত রীতি।
নিচের কোন বাক্যটি চলিত ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
সঠিক উত্তর হলো: চলতি ভাষা কৃত্রিম ও অপরিবর্তনীয়।
বিষয়টা খুব সহজভাবে বুঝে নিন:
- পরিবর্তনশীলতা: চলিত ভাষা কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে থাকে না। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মুখের ভাষার পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলিত ভাষাও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হয়। তাই একে 'অপরিবর্তনীয়' বলা একদমই ভুল।
- স্বাভাবিকতা: চলিত ভাষা মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তার স্বাভাবিক রূপ থেকে গড়ে উঠেছে। এটি কোনো কৃত্রিম নিয়ম বা ল্যাবরেটরিতে তৈরি ভাষা নয়, বরং এটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলীল।
সহজ কথায়, চলিত ভাষা সবসময় জীবন্ত এবং সময়ের সাথে বদলায়, তাই এটি কৃত্রিম বা অপরিবর্তনীয় হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
‘উহা’ কোন রীতির শব্দ?
সঠিক উত্তর হলো সাধু। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- বাংলা ব্যাকরণে সর্বনাম পদের রূপ দেখে সহজেই সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য বোঝা যায়।
- ‘উহা’ শব্দটি সাধু রীতির সর্বনাম। এর চলিত রূপ হলো ‘ওটা’।
- সাধু রীতিতে সাধারণত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ পূর্ণাঙ্গ থাকে, যেমন— ‘উহা’, ‘তাহারা’, ‘করিয়াছে’। অন্যদিকে চলিত রীতিতে এগুলো সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘ওটা’, ‘তারা’, ‘করেছে’ রূপ ধারণ করে।
তাই যেখানেই ‘উহা’ শব্দটি দেখবেন, চোখ বন্ধ করে ধরে নেবেন এটি সাধু রীতির শব্দ।
‘তিনি হাঁটিতে হাঁটিতে ভাবিতেছিলেন, শুধুমাত্র মণিষী-বাক্যেই তো জীবম্মৃত যুবসমাজের কল্যাণ বহিয়া আনিতে যথেষ্ট নহে।’ চলিত রীতিতে লেখা বাক্যটিতে ভুলের সংখ্যা-
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাত। চলিত রীতিতে বাক্যটি শুদ্ধ করতে হলে আমাদের সাতটি জায়গায় পরিবর্তন করতে হবে। চলুন দেখে নিই কোথায় কোথায় ভুল আছে:
- হাঁটিতে → হাঁটতে (চলিত রীতিতে ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়)
- হাঁটিতে → হাঁটতে (দ্বিতীয়বার একই ভুল)
- ভাবিতেছিলেন → ভাবছিলেন
- মণিষী → মনীষী (বানান ভুল)
- বাক্যেই → বাক্যে (অতিরিক্ত 'ই' বিভক্তি)
- বহিয়া → বয়ে
- আনিতে → আনতে
অর্থাৎ, বাক্যটিকে চলিত রীতির আদর্শ রূপ দিতে গেলে মোট সাতটি শব্দ পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হয়। তাই সঠিক উত্তর সাত।
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশি দেখা যায়?
সঠিক উত্তর হলো ক্রিয়া ও সর্বনাম। বাংলা ভাষার এই দুটি পদ সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য তৈরি করে। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- ক্রিয়াপদ: সাধু ভাষায় ক্রিয়ার রূপ হয় দীর্ঘ (যেমন: করিতেছি, চলিল), কিন্তু চলিত ভাষায় তা সংক্ষিপ্ত ও সহজ হয়ে যায় (যেমন: করছি, চলল)।
- সর্বনাম পদ: সাধু ভাষায় সর্বনামের রূপ থাকে গুরুগম্ভীর (যেমন: তাহার, কাহারা), যা চলিত ভাষায় ছোট হয়ে দাঁড়ায় (যেমন: তার, কারা)।
মূলত এই দুটি পদের রূপ পরিবর্তনের কারণেই সাধু ও চলিত ভাষার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য ধরা পড়ে। তাই ব্যাকরণের এই নিয়মটি মনে রাখলে যেকোনো পরীক্ষায় সহজেই উত্তর দেওয়া সম্ভব।
বাংলা ভাষার উদ্ভব সম্পর্কে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মত হচ্ছে-
বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকলেও, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য এই সহজ ধাপগুলো খেয়াল করুন:
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার মূল উৎস হলো গৌড়ীয় প্রাকৃত বা গৌড়ীয় অপভ্রংশ।
- তিনি ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এই গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
- তাই যখনই শহীদুল্লাহর মতের কথা আসবে, সরাসরি গৌড়ীয় অপভ্রংশ-কে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরে নেবেন।
মানুষের মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ও মনোভাব প্রকাশক ধ্বনি সমষ্টিকে বলে
সঠিক উত্তর হলো ভাষা। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশের জন্য মুখ দিয়ে যেসব অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি উচ্চারণ করে, তাকেই মূলত ভাষা বলা হয়।
- ভাষার মূল ভিত্তি হলো ধ্বনি, আর এই ধ্বনি যখন অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখনই তা ভাষার রূপ নেয়।
- সহজ কথায়, মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত অর্থপূর্ণ ধ্বনিই হলো ভাষার প্রাণ।
বাংলা ভাষায় কতটি যতি চিহ্নের প্রচলন রয়েছে?
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতি চিহ্নের সঠিক সংখ্যা হলো ১২টি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে যতি চিহ্নের প্রবর্তন করেন। এই ১২টি চিহ্নের তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
- কমা (,)
- সেমিকোলন (;)
- দাঁড়ি (|)
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?)
- আশ্চর্যবোধক চিহ্ন (!)
- কোলন (:)
- কোলন ড্যাশ (:-)
- ড্যাশ (—)
- হাইফেন (-)
- লোপ চিহ্ন (')
- উদ্ধরণ চিহ্ন (" ")
- বন্ধনী চিহ্ন ((), {}, [])
সহজ কথায়, বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী এই ১২টি চিহ্নই বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে এবং বাক্যের গঠন বিন্যাসে ব্যবহৃত হয়।
বাংলা ভাষায় কোন রীতি সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণের অনুসারী?
সঠিক উত্তর হলো সাধু রীতি। এর কারণ হলো সাধু রীতি সবসময় ব্যাকরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও নিয়মকানুন মেনে চলে।
বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো দেখুন:
- নিয়মানুবর্তিতা: সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপ সবসময় অপরিবর্তিত থাকে এবং এটি ব্যাকরণের কঠিন নিয়ম মেনে চলে।
- স্থায়িত্ব: এই রীতিটি যেহেতু ব্যাকরণের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এর রূপ সহজে পরিবর্তিত হয় না।
- পার্থক্য: অন্যদিকে, চলিত বা আঞ্চলিক রীতি সময়ের সাথে সাথে বা স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু সাধু রীতিতে ব্যাকরণের নিয়মই প্রধান।
সহজ কথায়, যে ভাষারীতি ব্যাকরণের নিয়মকে একদম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, সেটিই হলো সাধু রীতি।