কোন দু'টি গ্রন্থ বেগম রকেয়ার রচনা?
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা কালজয়ী দুটি গ্রন্থ হলো পদ্মরাগ ও অবরোধবাসিনী। এই দুটি বইয়ের পেছনের মূল কারণগুলো খুব সহজ:
- পদ্মরাগ: এটি রোকেয়া সাখাওয়াতের লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যেখানে তিনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব এবং সমাজের কুসংস্কার নিয়ে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।
- অবরোধবাসিনী: এই গ্রন্থে তিনি তৎকালীন সমাজের নারীদের পর্দার আড়ালে বন্দী থাকার ভয়াবহতা ও করুণ চিত্র অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
সহজ কথায়, নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে বেগম রোকেয়ার এই দুটি সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে আজও অনন্য। তাই সঠিক উত্তরটি হলো পদ্মরাগ ও অবরোধবাসিনী।
বেগম রোকেয়ার জন্ম কতসালে?
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মসাল মনে রাখা খুব সহজ। তিনি ১৮৮০ সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেন, তবে সঠিক সালটি হলো ১৮৮২।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য এই তথ্যটি মাথায় রাখতে পারেন:
- বেগম রোকেয়ার জন্ম: ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮২।
- জন্মস্থান: রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
তিনি ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত, তাই তাঁর জন্মসালটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সালটি মনে রাখার জন্য ১৮৮২ সংখ্যাটি বারবার মনে মনে আওড়ালে খুব সহজেই আয়ত্তে চলে আসবে।
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটকের নাম নাম-
সঠিক উত্তর হলো রক্তাক্ত প্রান্তর। মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্মের মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ঐতিহাসিক নাটক।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত।
- মুনীর চৌধুরী বাংলা নাটকের জগতে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নাট্যকার, আর তাঁর এই নাটকটি পাঠ্যবই এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার আসে।
- অন্যান্য অপশনগুলো অন্য লেখকদের লেখা, তাই বিভ্রান্ত না হয়ে শুধু মনে রাখুন—ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি বললেই আমাদের মাথায় সবার আগে আসে মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর-এর কথা।
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকের পটভূমি হলো-
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকটির সঠিক উত্তর হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- নাটকটি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মুনীর চৌধুরী এই কালজয়ী নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকের মূল বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে শহীদ হওয়া ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অমানবিক দমন-পীড়ন।
সহজ কথায়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও সেই সময়ের বাস্তব চিত্রই এই নাটকের মূল ভিত্তি।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীর পটভূমিতে রচিত ‘কবর’ নাটকের রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর হলো মুনীর চৌধুরী। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক হলো 'কবর'।
- মুনীর চৌধুরী যখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন, তখন মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনি এই কালজয়ী নাটকটি রচনা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে নাট্যরূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই ছিল প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী প্রয়াস।
তাই যখনই 'কবর' নাটক এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা আসবে, চোখ বন্ধ করে মুনীর চৌধুরী-কে মনে রাখবেন!
মুনীর চৌধুরী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকাকালীন কোন বিখ্যাত নাটকটি লিখেছিলেন?
সঠিক উত্তর হলো কবর। মুনীর চৌধুরী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। সেই বন্দী জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই তিনি এই কালজয়ী নাটকটি রচনা করেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- সময়কাল: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়।
- স্থান: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার।
- নাটকের গুরুত্ব: এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও প্রভাবশালী প্রতীকী নাটক হিসেবে পরিচিত।
কারাগারের সেই অবরুদ্ধ পরিবেশে বসেই তিনি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রেক্ষাপটে এই অসাধারণ সৃষ্টিটি উপহার দিয়েছিলেন, যা আজও আমাদের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মুনীর চৌধুরীর অনূদিত নাটক কোনটি?
মুনীর চৌধুরীর অনূদিত নাটক হলো রূপার কৌটা। জন গলসওয়ার্দির বিখ্যাত নাটক 'দ্য সিলভার বক্স' (The Silver Box)-এর বাংলা অনুবাদই হলো 'রূপার কৌটা'।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে মৌলিক নাটকের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের বেশ কিছু কালজয়ী নাটক অনুবাদ করেছেন।
- 'রূপার কৌটা' তাঁর অনূদিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ, যা মূলত সামাজিক ও আইনি বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা।
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক কোন্ পটভূমিতে লিখিত?
সঠিক উত্তর হলো পানি পথের যুদ্ধ। মুনীর চৌধুরীর লেখা এই বিখ্যাত নাটকটি মূলত ১৭৬১ সালে সংঘটিত ঐতিহাসিক তৃতীয় পানি পথের যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
- নাটকটিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়কে খুব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- ইতিহাসের পাতায় থাকা এই যুদ্ধের করুণ পরিণতিই নাটকের মূল উপজীব্য।
- সহজ কথায়, পানি পথের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই লেখক এই কালজয়ী নাটকটি সাজিয়েছেন।
‘কাশবনের কন্যা’ গ্রন্থটির লেখক কে?
‘কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন শামসুদ্দিন আবুল কালাম। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় উপন্যাস, যা মূলত গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির পটভূমিতে লেখা।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- উপন্যাসটির মূল উপজীব্য হলো গ্রামীণ জনপদ ও মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা।
- শামসুদ্দিন আবুল কালাম তাঁর লেখনীতে আঞ্চলিক ভাষার চমৎকার ব্যবহার করেছেন, যা এই বইটিকে অনন্য করে তুলেছে।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই লেখকের নামের সাথে বইটির নাম মিলিয়ে মনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
‘কাঞ্চনমালা’ গ্রন্থটি কার রচনা?
সঠিক উত্তর হলো শামসুদ্দিন আবুল কালাম।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। শামসুদ্দিন আবুল কালাম মূলত গ্রামীণ জীবন ও লোকজ সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস হলো 'কাঞ্চনমালা'। এই বইটি মনে রাখার জন্য আপনি নিচের কৌশলটি ব্যবহার করতে পারেন:
- শামসুদ্দিন আবুল কালাম মানেই গ্রামীণ পটভূমির গল্প।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর তালিকায় 'কাঞ্চনমালা' নামটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- পরীক্ষায় বারবার আসা এই প্রশ্নটি মনে রাখতে 'কাঞ্চনমালা' নামটি তাঁর নামের সাথে মিলিয়ে একবার পড়ে নিলেই হবে।