উৎকর্ষতা কী কারণে অশুদ্ধ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রত্যয়জনিত। বিষয়টি খুব সহজ, একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে:
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, 'উৎকর্ষ' শব্দটির সাথে 'তা' প্রত্যয় যুক্ত করলে শব্দটি হয় উৎকর্ষ।
- মূল শব্দ 'উৎকর্ষ' নিজেই একটি বিশেষ্য পদ, তাই এর সাথে পুনরায় 'তা' প্রত্যয় যোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
- অতিরিক্ত প্রত্যয় ব্যবহারের কারণে 'উৎকর্ষতা' শব্দটি অশুদ্ধ।
সহজ কথায়, শব্দের গঠনগত ভুল বা অপ্রয়োজনীয় প্রত্যয়ের ব্যবহারের কারণেই এই শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন-
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী এই বাক্যটি কেন শুদ্ধ, তা নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
- বিদ্বান: 'বিদ্যা' শব্দের সাথে 'বান' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'বিদ্বান' শব্দটি গঠিত হয়, যা একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে বোঝায়। তাই 'বিদ্যান' বানানটি ভুল।
- দারিদ্র্য: 'দরিদ্র' শব্দের সাথে 'য' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'দারিদ্র্য' শব্দটি গঠিত হয়। 'দারিদ্রতা' বা 'দরিদ্রতা' শব্দগুলো ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ, কারণ 'দরিদ্র' শব্দের সাথে 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হয় না।
সহজ কথায়, শুদ্ধ শব্দগুলো হলো বিদ্বান এবং দারিদ্র্য। তাই এই দুটি শব্দ ব্যবহার করে গঠিত বাক্যটিই সঠিক।
কোনটি শুদ্ধ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গবেষণা। বানানটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো এর গঠন বিশ্লেষণ করা। শব্দটি গঠিত হয়েছে গো + এষণা সন্ধি বিচ্ছেদের মাধ্যমে।
- সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, 'গো' শব্দের সাথে 'এষণা' যুক্ত হলে সন্ধির ফলে 'গবেষণা' শব্দটি তৈরি হয়।
- এখানে মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহৃত হয়, যা তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিয়ম।
- সহজ কথায়, বানানটি হবে গ-ব-এ-ষ-ণ-া।
তাই সবসময় মনে রাখবেন, গবেষণার ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহার করাই শুদ্ধ এবং এটিই মানসম্মত বাংলা বানানের নিয়ম।
কোন বানানটি সঠিক?
সঠিক উত্তর হলো বাল্মীকি। বানানটি মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল মাথায় রাখতে পারেন:
- সংস্কৃত থেকে আসা অনেক শব্দের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ঈ-কার ব্যবহারের প্রবণতা থাকে।
- 'বাল্মীকি' শব্দটিতে ল-এর নিচে ম-ফলা এবং ম-এর সাথে দীর্ঘ ঈ-কার (ী) যুক্ত হয়।
- বানানটি হলো: ব + া + ল + ্ম + ী + ক + ি।
সহজ কথায়, শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার এবং মাঝখানে ম-ফলা ব্যবহারের নিয়মটি খেয়াল রাখলেই এই বানানটি আর ভুল হবে না।
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ শুদ্ধ এবং এর অর্থ একদম পরিষ্কার।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল, তা খুব সহজে বোঝা যায়:
- 'সবচেয়ে' এবং 'শ্রেষ্ঠতম' শব্দ দুটি একসাথে ব্যবহার করা বাহুল্য, কারণ 'শ্রেষ্ঠ' নিজেই একটি সর্বোচ্চ পর্যায়।
- 'অনুষ্ঠান চলাকালে' এর পরিবর্তে 'অনুষ্ঠান চলাকালীন' ব্যবহার করা বেশি শ্রুতিমধুর।
- 'সমৃদ্ধশালী' শব্দটি ভুল; সঠিক শব্দটি হবে 'সমৃদ্ধ' বা 'সমৃদ্ধিশালী'।
তাই, গঠন এবং অর্থের দিক থেকে তার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বাক্যটিই নির্ভুল।
নিচের শুদ্ধ বানান কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো বয়ঃপ্রাপ্ত। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, বিসর্গ (ঃ) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়।
- 'বয়ঃ' শব্দটি 'বয়স' শব্দের রূপান্তর, যেখানে বিসর্গটি বজায় থাকে।
- যখন 'বয়স' শব্দের সাথে 'প্রাপ্ত' যুক্ত হয়, তখন সন্ধির নিয়মে বিসর্গটি অপরিবর্তিত থাকে।
- তাই শুদ্ধ রূপটি হবে বয়ঃপ্রাপ্ত।
সহজ কথায়, বিসর্গ সন্ধির এই বিশেষ নিয়মটি মনে রাখলে বানানটি নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না।
কোনটি শুদ্ধ বানান?
সঠিক উত্তর হলো ত্রিহায়ণ। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী শব্দটির গঠন লক্ষ্য করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়।
- শব্দটি গঠিত হয়েছে ত্রি (তিন) এবং হায়ণ (বছর বা বর্ষ) এই দুটি অংশের সমন্বয়ে।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ ও বাংলা অভিধানের নিয়ম অনুযায়ী, 'হায়ণ' শব্দের বানানে সবসময় মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহৃত হয়।
- তাই 'ত্রি' এর সাথে 'হায়ণ' যুক্ত হয়ে শব্দটি দাঁড়ায় ত্রিহায়ণ, যার অর্থ হলো তিন বছর বা তিন বছর ব্যাপী।
সহজ কথায়, বানানের এই শুদ্ধ রূপটি মনে রাখতে 'হায়ণ' অংশটির দিকে খেয়াল রাখলেই চলবে, কারণ এটিই মূল শব্দ যা সবসময় ণ দিয়ে লেখা হয়।
কোন বানানটি শুদ্ধ?
সঠিক উত্তর হলো কনিষ্ঠ। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শব্দের শেষে 'ইষ্ঠ' প্রত্যয় যুক্ত হলে সাধারণত মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহৃত হয়, কিন্তু 'কনিষ্ঠ' শব্দটির ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যতিক্রম।
সহজ মনে রাখার উপায়:
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী 'কন' শব্দের সাথে 'ইষ্ঠ' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'কনিষ্ঠ' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- এখানে দন্ত্য-স (স) ব্যবহার করাই শুদ্ধ, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট শব্দরূপ যা ব্যাকরণের সাধারণ নিয়মের বাইরে।
- তাই সবসময় মনে রাখবেন, ছোট ভাই বা বয়সে ছোট বোঝাতে কনিষ্ঠ বানানটিই সঠিক।
কোনটি শুদ্ধ বানান?
সঠিক উত্তর হলো নির্নিমেষ। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, 'নিঃ' উপসর্গযুক্ত শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহৃত হয় না, বরং দন্ত্য-ন (ন) ব্যবহৃত হয়।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- 'নির্' উপসর্গের সাথে 'নিমেষ' যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- এখানে 'নিঃ' বা 'নির্' এর পরে দন্ত্য-ন (ন) ব্যবহার করাই ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ।
- বানানের ক্ষেত্রে সবসময় মনে রাখবেন, এই শব্দে কোনো মূর্ধন্য-ণ (ণ) বা মূর্ধন্য-ষ (ষ) এর প্রয়োগ নেই।
নির্ভুল বানান কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো মুহুর্মুহু। বানানটি মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল মাথায় রাখতে পারেন:
- শব্দটি গঠিত হয়েছে 'মুহুঃ' + 'মুহুঃ' সন্ধি বা দ্বিরুক্তির মাধ্যমে।
- এখানে উভয় ক্ষেত্রেই 'মুহু' অংশের 'হ'-এর নিচে র-ফলা এবং 'হ'-এর ওপর রেফ যুক্ত হয়েছে।
- মনে রাখবেন, রেফ (র্) সবসময় তার পরের বর্ণের মাথায় বসে। তাই 'মুহুর্মুহু' লিখতে 'ম' এর পর 'হ'-এর ওপর রেফ বসবে।
সহজ কথায়, বানানটি হলো মুহু + র্ + মুহু = মুহুর্মুহু। এটি বারবার বা ঘনঘন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।