কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো লাল। বিষয়টি মনে রাখা খুবই সহজ। দৃশ্যমান আলোর বর্ণালীতে প্রতিটি রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়।
- আলোর বর্ণালীর বিন্যাস অনুযায়ী বেগুনি রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় $700 \text{ nm}$ থেকে $750 \text{ nm}$ এর কাছাকাছি হয়ে থাকে।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ার কারণেই লাল আলো অনেক দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তাই বিপদ সংকেত বা ট্রাফিক সিগন্যালে লাল রঙ ব্যবহার করা হয়।
চিপস এর প্যাকেটে কোন গ্যাস থাকে?
চিপসের প্যাকেটে সাধারণত নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এর পেছনের কারণটি বেশ মজার এবং বিজ্ঞানসম্মত:
- চিপস যাতে মচমচে থাকে এবং নষ্ট না হয়, সেজন্য প্যাকেটের ভেতর থেকে অক্সিজেন বের করে সেখানে নাইট্রোজেন ভরা হয়।
- নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস, যা চিপসের তেলের সাথে বিক্রিয়া করে না। ফলে চিপস দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ ও সুস্বাদু থাকে।
- প্যাকেটটি ফোলা রাখার মাধ্যমে এটি পরিবহনের সময় চিপসকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
সহজ কথায়, চিপসকে বাতাস থেকে রক্ষা করে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্যই নাইট্রোজেনের এই ব্যবহার।
নিচের কোনটি ভাইরাস জনিত রোগ নয় ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কলেরা। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ কলেরা কোনো ভাইরাসজনিত রোগ নয়, বরং এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ।
সহজে মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- কলেরা রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম হলো Vibrio cholerae।
- এটি সাধারণত দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
- অন্যদিকে, মাম্পস, হাম এবং হার্পিস—এই তিনটিই ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ।
তাই যখনই কলেরা নিয়ে প্রশ্ন আসবে, মনে রাখবেন এটি একটি ব্যাকটেরিয়ার কারসাজি, ভাইরাসের নয়!
চোখের কোন অঙ্গ আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে ?
সঠিক উত্তর হলো রেটিনা। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- আমাদের চোখের ভেতরে থাকা রেটিনা অনেকটা ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে।
- বাইরের জগত থেকে আসা আলোক রশ্মি যখন চোখের লেন্সের ভেতর দিয়ে গিয়ে রেটিনায় পড়ে, তখন সেখানে থাকা বিশেষ কিছু কোষ (রড ও কোণ কোষ) সেই আলোক শক্তিকে গ্রহণ করে।
- এই কোষগুলো আলোক শক্তিকে সাথে সাথে তড়িৎ সংকেতে বা ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালে রূপান্তর করে ফেলে।
- পরবর্তীতে এই তড়িৎ সংকেত অপটিক নার্ভের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছায়, আর আমরা কোনো বস্তুকে দেখতে পাই।
সহজ কথায়, রেটিনাই হলো আমাদের চোখের সেই অংশ যা আলোকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে খবর পাঠায়।
ধ্রুবতারা দেখা যায়
সঠিক উত্তর হলো উত্তর গোলার্ধে। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ ধ্রুবতারা বা পোলারিস (Polaris) সবসময় পৃথিবীর উত্তর মেরুর ঠিক উপরে অবস্থান করে।
- পৃথিবীর উত্তর মেরুর অক্ষ বরাবর আকাশের ঠিক উপরে ধ্রুবতারা স্থির থাকে।
- পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর আবর্তন করলেও ধ্রুবতারাকে সবসময় উত্তর দিকেই দেখা যায়।
- দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে এবং দিগন্তরেখার আড়ালে পড়ে যাওয়ায় এই তারাটি দেখা সম্ভব হয় না।
সহজ কথায়, আপনি যদি উত্তর গোলার্ধে থাকেন, তবে আকাশের উত্তর দিকে তাকালেই ধ্রুবতারাকে স্থির অবস্থায় দেখতে পাবেন।
রেডিওঅ্যাকটিভ মৌল অনুসন্ধান করার যন্ত্র কোনটি?
রেডিওঅ্যাকটিভ বা তেজস্ক্রিয় মৌল খুঁজে বের করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর যন্ত্র হলো গাইগার মুলার কাউন্টার। এর পেছনের কারণটা খুব সহজ:
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে প্রতিনিয়ত আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- গাইগার মুলার কাউন্টার এই অদৃশ্য রশ্মিগুলোকে শনাক্ত করতে পারে।
- যখনই কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের কাছাকাছি এই যন্ত্রটি নেওয়া হয়, তখন এটি তড়িৎ আধানের উপস্থিতিতে সংকেত বা 'ক্লিক' শব্দ তৈরি করে, যা দেখে আমরা সহজেই তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি বুঝতে পারি।
সহজ কথায়, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মাপার জন্য এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় যন্ত্র।
উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যায় কিসের অভাবে?
উদ্ভিদের পাতা হলদে হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো নাইট্রোজেনের অভাব। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- নাইট্রোজেন উদ্ভিদের ক্লোরোফিল তৈরির মূল উপাদান।
- ক্লোরোফিল ছাড়া পাতা সবুজ থাকতে পারে না।
- যখন মাটিতে নাইট্রোজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন ক্লোরোফিলের উৎপাদন কমে যায়, ফলে পাতা তার গাঢ় সবুজ রঙ হারিয়ে ফ্যাকাশে বা হলদেটে হয়ে যায়।
সহজ কথায়, নাইট্রোজেন হলো গাছের পাতার 'সবুজ রঙের কারিগর'। এর অভাবে গাছের বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হয় এবং পুরনো পাতাগুলো সবার আগে হলুদ হতে শুরু করে।
রাতের আকাশে তারাগুলো মিটমিট করার কারণ আলোর
সঠিক উত্তর হলো প্রতিসরণ। বিষয়টি একদম সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা সবসময় সমান থাকে না।
- মহাকাশ থেকে আসা তারার আলো যখন বায়ুমণ্ডলের এই ঘন ও পাতলা বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে আসে, তখন বারবার তার দিক পরিবর্তন করে বা বেঁকে যায়।
- এই আলোর দিক পরিবর্তনের ঘটনাকেই বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় প্রতিসরণ।
- আমাদের চোখে এই আলো বারবার দিক পরিবর্তন করে পৌঁছায় বলে মনে হয় তারাগুলো কাঁপছে বা মিটমিট করছে।
সহজ কথায়, বায়ুমণ্ডলের স্তরে স্তরে আলোর এই প্রতিসরণ হওয়ার কারণেই আমরা রাতের আকাশে তারার মিটমিট খেলা দেখতে পাই।
আমাদের দেশে একজন পূণবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক প্রায় গড় কিলো ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন ?
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া সচল রাখার জন্য গড়ে প্রায় 2500 কিলো ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। তবে এই শক্তির চাহিদা মূলত নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক পরিশ্রমের ধরন, বয়স এবং লিঙ্গের ওপর।
- একজন সুস্থ ও কর্মক্ষম মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজের জন্য শক্তির জোগান দেওয়া জরুরি।
- গড় হিসাব অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ক্যালরির চাহিদা হলো প্রায় 2500 কিলো ক্যালরি।
- যদি কেউ অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম করেন, তবে এই চাহিদার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
একটি ধাবত মুদ্রা ও একটি পালক বায়ু শূন্য স্থানে উপর থেকে এক সঙ্গে পতিত হলে কোনটি প্রথমে নিচে পড়বে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুটো একসঙ্গে। বিষয়টি শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এটি খুবই সহজ।
সাধারণত আমরা দেখি পালক পরে পড়ে, কারণ বাতাসের বাধা পালককে বাধা দেয়। কিন্তু বায়ুশূন্য স্থানে কোনো বাতাসের বাধা থাকে না, তাই অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$) সব বস্তুর ওপর সমানভাবে কাজ করে।
- বায়ুশূন্য স্থানে বাতাসের বাধা না থাকায় বস্তুর ভরের ওপর নির্ভরতা থাকে না।
- গ্যালিলিওর সূত্র অনুযায়ী, বায়ুশূন্য স্থানে সব বস্তু একই সময়ে নিচে পড়ে।
- তাই ধাতব মুদ্রা এবং পালক উভয়ই একই ত্বরণে নিচে নামবে এবং একই সাথে মাটিতে পৌঁছাবে।