পলিথিন পোড়ালে এর উপকরণ পলিভিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে উৎপন্ন হয়
পলিথিন বা পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC) যখন অপর্যাপ্ত অক্সিজেনে পোড়ানো হয়, তখন দহন প্রক্রিয়াটি অসম্পূর্ণ থাকে। এই অসম্পূর্ণ দহনের ফলেই মূলত বিষাক্ত কার্বন মনো অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- পলিথিন মূলত হাইড্রোকার্বন চেইন দিয়ে গঠিত।
- অক্সিজেনের অভাব থাকলে কার্বন পুরোপুরি জারিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড হতে পারে না।
- এর ফলে কার্বন এবং অক্সিজেনের অসম্পূর্ণ বিক্রিয়ায় তৈরি হয় $CO$ বা কার্বন মনো অক্সাইড।
সহজ কথায়, বাতাসের অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকলে দহন অসম্পূর্ণ হয়, আর সেই অসম্পূর্ণ দহনের প্রধান উপজাত হলো এই ক্ষতিকর গ্যাসটি।
মায়ের গর্ভকালনি সময়ের বিস্তৃতি কোনটি?
মায়ের গর্ভকাল বা গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক সময়কাল সাধারণত ২৭০ থেকে ২৮০ দিন বা প্রায় ৯ মাস ১০ দিন হিসেবে ধরা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ৪০ সপ্তাহ বলা হয়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- গড় সময়কাল: ২৭০-২৮০ দিন।
- সপ্তাহের হিসেবে: $40 \times 7 = 280$ দিন।
- মাসের হিসেবে: ৯ মাস ১০ দিন।
এই সময়সীমাটি শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে গণনা করা হয়, যা ভ্রূণের পূর্ণ বিকাশের জন্য একটি আদর্শ সময়। তাই সঠিক উত্তর হলো ২৭০-২৮০ দিন।
বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি কত?
বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি হলো ৫০ হার্জ। এর মানে হলো, আমাদের বৈদ্যুতিক লাইনের কারেন্ট প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার তার দিক পরিবর্তন করে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী ফ্রিকোয়েন্সি সবসময় ৫০ হার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এটি একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড, যা আমাদের দেশের সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা অ্যাপ্লায়েন্সের জন্য প্রযোজ্য।
- গাণিতিকভাবে আমরা একে এভাবে দেখি: $f = 50 \text{ Hz}$।
অর্থাৎ, আমাদের দেশের পাওয়ার গ্রিড সিস্টেম এই ৫০ হার্জ ফ্রিকোয়েন্সিতেই কাজ করে, যা আমাদের ঘরের লাইট, ফ্যান বা অন্যান্য যন্ত্রপাতির সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
মানবদেহে মস্তিষ্কে শব্দের স্থায়িত্বকাল কত ?
মানবদেহে মস্তিষ্কে শব্দের স্থায়িত্বকাল হলো ০.১ সেকেন্ড। এর মানে হলো, আমরা যখন কোনো শব্দ শুনি, আমাদের মস্তিষ্ক সেই শব্দটিকে ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে।
সহজভাবে বিষয়টি বোঝার উপায়:
- আমাদের মস্তিষ্কের শ্রবণ অনুভূতির স্থায়িত্বকাল নির্দিষ্ট, যা হলো $0.1$ সেকেন্ড।
- যদি কোনো শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনি এই সময়ের চেয়ে কম সময়ের ব্যবধানে আমাদের কানে পৌঁছায়, তবে আমরা মূল শব্দ এবং প্রতিফলিত শব্দকে আলাদা করতে পারি না।
- তাই স্পষ্ট প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের সময়ের পার্থক্য অবশ্যই $0.1$ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হয়।
জাহাজের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
জাহাজের দিক নির্ণয়ের জন্য সঠিক উত্তর হলো জাইরোকম্পাস। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ এটি পৃথিবীর ঘূর্ণন গতিকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে।
- জাইরোকম্পাস মূলত একটি ঘূর্ণায়মান চাকা বা জাইরোস্কোপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- এটি পৃথিবীর ভৌগোলিক উত্তর মেরু বা ট্রু নর্থ (True North) খুঁজে বের করতে পারে, যা জাহাজের সঠিক দিক নির্দেশনায় অত্যন্ত কার্যকর।
- সাধারণ চুম্বকীয় কম্পাসের মতো এটি জাহাজের ধাতব কাঠামোর প্রভাবে দিক পরিবর্তন করে না, তাই সমুদ্রের মাঝখানে এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যন্ত্র।
সহজ কথায়, সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে জাহাজের সঠিক পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাইরোকম্পাসই হলো নাবিকদের প্রধান ভরসা।
ব্লাড ক্যান্সার নির্ধারেণ ব্যবহৃত হয় কোনটি ?
ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে ফসফরাস-৩২ আইসোটোপ অত্যন্ত কার্যকর। এটি মূলত একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ যা শরীরের নির্দিষ্ট কোষে গিয়ে কাজ করতে পারে।
এর কার্যপদ্ধতি খুব সহজ:
- ফসফরাস-৩২ শরীরে প্রবেশ করালে এটি দ্রুত বিভাজনশীল কোষগুলোকে টার্গেট করে।
- যেহেতু ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো সাধারণ কোষের তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাই এই আইসোটোপটি সহজেই সেই কোষগুলোকে শনাক্ত করতে পারে।
- এটি থেকে নির্গত বিটা রশ্মি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ ধ্বংস করে রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সহজ কথায়, ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় ফসফরাস ব্যবহার করা হয় কারণ এটি সরাসরি আক্রান্ত কোষের ওপর প্রভাব ফেলে সুস্থ কোষের ক্ষতি কমিয়ে আনে।
ধাতুর ক্ষয়রোধে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
ধাতুর ক্ষয় বা মরিচা পড়া রোধ করার জন্য এখানে উল্লিখিত প্রতিটি পদ্ধতিই অত্যন্ত কার্যকর। সঠিক উত্তর হলো সবগুলোই, কারণ প্রতিটি পদ্ধতিই ধাতুর উপরিভাগকে বাতাস ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শ থেকে আলাদা রাখে।
- গ্রীজ: ধাতুর ওপর তেলের বা গ্রীজের প্রলেপ দিলে তা বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার সাথে ধাতুর বিক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
- তড়িৎ প্রলেপন: ইলেকট্রোপ্লেটিং পদ্ধতিতে একটি সক্রিয় ধাতুর ওপর অন্য একটি কম সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় ধাতুর পাতলা আস্তরণ তৈরি করা হয়, যা মূল ধাতুকে সুরক্ষিত রাখে।
- গ্যালভানাইজিং: লোহার ওপর দস্তার বা জিংকের প্রলেপ দেওয়ার এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি লোহাকে মরিচা থেকে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দেয়।
সহজ কথায়, এই পদ্ধতিগুলো ধাতুর ওপর একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে, ফলে ধাতু দীর্ঘকাল নতুনের মতো থাকে।
সূর্যে শক্তি উৎপাদন হয় কোন প্রক্রিয়ায় ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ফিউশন। বিষয়টি খুব সহজ, সূর্যের ভেতরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপে হালকা মৌলগুলো মিলে ভারী মৌল তৈরি হয়।
- সূর্যের কেন্দ্রে মূলত হাইড্রোজেনের চারটি নিউক্লিয়াস মিলে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস তৈরি করে।
- এই প্রক্রিয়ায় ভরের সামান্য অংশ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণ $E = mc^2$ মেনে চলে।
- এই বিপুল পরিমাণ শক্তিই আলো ও তাপ হিসেবে আমাদের কাছে পৌঁছায়, যাকে আমরা নিউক্লীয় ফিউশন বা সংযোজন বিক্রিয়া বলি।
কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব এর জন্য বিখ্যাত কোন বিজ্ঞানী ?
কণা পরিসংখ্যান বা কোয়ান্টাম স্ট্যাটিস্টিকস নিয়ে কাজ করার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হলেন সতেন্দ্র নাথ বসু। তাঁর এই যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আজও পদার্থবিজ্ঞানে এক বিশেষ ধরনের কণার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে, যাকে আমরা বোসন (Boson) কণা বলে চিনি।
সহজ কথায়, তাঁর অবদানের মূল দিকগুলো হলো:
- তিনি আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে মিলে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান উদ্ভাবন করেন।
- এই তত্ত্বটি মূলত সেইসব কণার আচরণ ব্যাখ্যা করে, যাদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা (যেমন: $0, 1, 2, \dots$)।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মৌলিক বলের বাহক কণাগুলো এই পরিসংখ্যান মেনেই চলে।
সংক্ষেপে, কোয়ান্টাম জগতের জটিল পরিসংখ্যানকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করার কারণেই তিনি পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
বিবর্তনের জনক কে?
বিবর্তনের জনক হিসেবে এপিডোক্লোসি-কে ধরা হয়। যদিও চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্থাপন করেছেন, কিন্তু বিবর্তনের ধারণার বীজ অনেক আগেই রোপণ করেছিলেন গ্রিক দার্শনিক এপিডোক্লোসি।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- প্রাচীনকালে যখন বিজ্ঞানের আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না, তখনই তিনি জীবজগতের পরিবর্তন নিয়ে প্রথম চিন্তাভাবনা শুরু করেন।
- তার দর্শন অনুযায়ী, প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য জীবের বিভিন্ন অঙ্গের পরিবর্তন ঘটে, যা আধুনিক বিবর্তনবাদের আদি ধারণা হিসেবে পরিচিত।
- তাই ইতিহাসের পাতায় বিবর্তনবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে এপিডোক্লোসি-র নামই সবার আগে আসে।