বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি-কত সালে প্রকাশিত হয়?
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৯ সালে। এই সমিতিটি মূলত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা এবং মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের লক্ষ্যে কলকাতায় যাত্রা শুরু করে।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- প্রতিষ্ঠার সাল: ১৮৯৯।
- মূল উদ্যোক্তা: মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ এবং মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- উদ্দেশ্য: মুসলিম লেখকদের সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করা এবং বাংলা সাহিত্যের মানোন্নয়ন করা।
ইতিহাসের এই সালটি মনে রাখা সহজ, কারণ এটি উনবিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শরৎচন্দ্র চট্টেপাধ্যায় কি অভিধায় ভূষিত?
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অপরাজেয় কথাশিল্পী বলা হয়। এর কারণটা খুব সহজ:
- শরৎচন্দ্র মানুষের মনের গভীরের আবেগ, দুঃখ-কষ্ট এবং সমাজের বাস্তব চিত্র যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
- তার লেখার ভাষা অত্যন্ত সাবলীল এবং হৃদয়স্পর্শী, যা সব শ্রেণির পাঠকের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
- মানুষের জীবনের জটিল মনস্তত্ত্বকে সহজভাবে উপস্থাপন করার এই অসাধারণ ক্ষমতার কারণেই তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে।
লালসালু উপন্যাসের রচনাকাল কোনটি?
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী উপন্যাস লালসালু-এর রচনাকাল হলো ১৯৪৮ সাল। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস, যা প্রকাশের পর থেকেই সমাজ ও মনস্তত্ত্বের গভীর চিত্র তুলে ধরার জন্য সমাদৃত হয়েছে।
- উপন্যাসটির প্রথম প্রকাশকাল: ১৯৪৮
- লেখক: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- মূল প্রেক্ষাপট: গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার ও ধর্মের অপব্যবহার।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য, দেশভাগের ঠিক পরের বছর অর্থাৎ ১৯৪৮ সালেই এই অসাধারণ সৃষ্টিটি প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ধারার এক অনন্য মাইলফলক।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যারক্ষেত্রে ‘আলামাআতা’ ঘোষণা কোন সনে করা হয়?
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ইতিহাসে ‘আলামাআতা’ (Alma-Ata) ঘোষণা একটি মাইলফলক। এখানে সঠিক উত্তর হলো ১৯৭৮ সাল।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য সহজ কিছু তথ্য:
- ১৯৭৮ সালের ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের আলামাআতা শহরে এই ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল 'সবার জন্য স্বাস্থ্য' (Health for All) নিশ্চিত করা।
- এই ঘোষণার মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যাকে (Primary Health Care) বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সহজ কথায়, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার থেকেই ১৯৭৮ সালে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি আসে।
'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী'- লাইনটি কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
সঠিক উত্তর হলো চর্যাপদ। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
এই লাইনটির অর্থ হলো—হরিণ নিজেই নিজের মাংসের জন্য শত্রু বা বৈরী। চর্যাপদের পদগুলোতে রূপক ও সাংকেতিক ভাষার ব্যবহার প্রচুর, আর এই বিখ্যাত পঙক্তিটি চর্যাপদের ৬ নম্বর পদে পাওয়া যায়, যা রচনা করেছিলেন ভুসুকুপাদ।
- মূল উৎস: চর্যাপদ।
- রচয়িতা: ভুসুকুপাদ।
- মূল ভাব: নিজের দোষ বা কর্মই অনেক সময় নিজের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পরীক্ষায় এই লাইনটি প্রায়ই আসে, তাই এটি চর্যাপদের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে মনে রাখলে খুব সহজেই উত্তর করা সম্ভব।
বাংলা ভাষায় ‘রামায়ণ’ অনুবাদ করেন কে?
বাংলা ভাষায় রামায়ণ অনুবাদের জন্য অমর হয়ে আছেন কৃত্তিবাস ওঝা। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো তাঁর অনূদিত এই রামায়ণ, যা 'কৃত্তিবাসী রামায়ণ' নামে পরিচিত।
সহজভাবে মনে রাখার কিছু বিষয়:
- মূল রামায়ণ সংস্কৃত ভাষায় লিখেছিলেন ঋষি বাল্মীকি।
- কিন্তু সাধারণ বাঙালির কাছে রামায়ণের কাহিনী সহজবোধ্য করে তুলেছিলেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- তিনি কেবল অনুবাদই করেননি, বরং রামায়ণের চরিত্রগুলোকে বাঙালির ঘরের মানুষের মতো করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যার ফলে এটি আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা হলেন আলাওল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল আরাকান রাজসভার আশ্রয়ে থেকে এই অমর কাব্যটি রচনা করেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- মূল উৎস: এটি মূলত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচিত।
- সময়কাল: সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তিনি এটি অনুবাদ ও রূপান্তর করেন।
- বৈশিষ্ট্য: আলাওলের পাণ্ডিত্য এবং কাব্যশৈলীর কারণে এটি বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়।
পরীক্ষায় মনে রাখার সহজ উপায় হলো, মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কথা শুনলেই আমাদের মাথায় সবার আগে আলাওল-এর নাম আসা উচিত, কারণ তাঁর লেখনীতেই এই ধারাটি সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে।
"আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম"-- এই গানটির সুরকার কে?
এই কালজয়ী গানটির রচয়িতা ও সুরকার হলেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। তিনি তাঁর সহজ-সরল কথা ও সুরের জাদুতে গ্রামীণ জীবন ও মানুষের আবেগকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গানটির পেছনের মূল বিষয়টি হলো:
- শাহ আবদুল করিম ভাটি অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তাঁর গানে তুলে ধরতেন।
- 'আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম' গানটি মূলত তাঁরই সৃষ্টি, যা আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
- তাঁর গানের সুর ও কথা এতই সাবলীল যে, এটি খুব দ্রুত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।
ড. সুকুমার সেনের লেখা গ্রন্থ কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস। ড. সুকুমার সেন বাংলা সাহিত্যের গবেষণায় একজন দিকপাল ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই বিখ্যাত গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ওপর লেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য কাজগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- ড. সুকুমার সেনের গবেষণার মূল ক্ষেত্রই ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
- তাঁর লেখা এই বিশাল গ্রন্থটি কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অপরিহার্য রেফারেন্স বই।
- অন্যান্য অপশনগুলো অন্য লেখকদের লেখা, তাই বিভ্রান্ত না হয়ে মনে রাখবেন—বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস মানেই ড. সুকুমার সেনের কালজয়ী সৃষ্টি।
এস ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
এস ওয়াজেদ আলীর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ভবিষ্যতের বাঙালি। তিনি মূলত একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার লেখায় বাঙালি সমাজের সংস্কার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা ফুটে উঠত।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য:
- ভবিষ্যতের বাঙালি গ্রন্থটি এস ওয়াজেদ আলীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ সংকলন।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই লেখকের নাম ও বইয়ের নাম একসাথে মনে রাখা জরুরি।