২৩৫২১
'রাবণের চিতা' বাগধারাটির অর্থ কি?
উত্তর
চির অশান্তি
সমাধান
রাবনের চিতা - বাগধারার অর্থ - চির অশান্তি।
তুচ্ছ ঘটনা - সামান্য বিষয়ে ঝগড়া করা।
অনিষ্টে ইষ্ট লাভ - আশায় নৈরাশা।
মগের মুল্লুক - অরাজক দেশ।
২৩৫২২
যে ছন্দের মূল পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে বলা হয় -----
উত্তর
স্বরবৃত্ত
সমাধান
যে ছন্দ পাঠকালে, উচ্চারন গতিবেগ দ্রুত হয়, শ্বাসঘাত পরে, পর্বগুলো হয় ছোট কেবল ৪ মাত্রার এবং যে ছন্দে অক্ষরমানেই ১ মাত্রা ধরা হয়, তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে।
২৩৫২৩
' আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে' লাইনটি নিম্নোক্ত একজনের কাব্যে পাওয়া যায় -----
উত্তর
ভারতচন্দ্র রায়
সমাধান
রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২ – ১৭৬০) অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ শক্তিমান কবি।
২৩৫২৫
পর্তুগীজ ভাষা থেকে নিম্নোক্ত একটি শব্দ বাংলা ভাষায় আত্তীকরণ করা হয়েছে -----
উত্তর
বালতি
সমাধান
পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার কৌশল:গীর্জারপাদ্রী চাবি দিয়ে গুদামের আলমারি খুলে তাতে আনারস পেঁপে পেয়ারা আলপিন ও আলকাতরা রাখলেন। কেরানি দিয়ে কামরা পরিষ্কার করে জানালা খুলে দিলেন। তারপর পেরেক ইস্ত্রি ইস্পাত ও পিস্তল বের করে বালতিতে রেখে বোমা বানালেন। শব্দঃ গির্জা, চাবি, গুদাম, আলমারি, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, আলপিন, আলকাতরা, কেরানি, কামরা, জানালা, পেরেক, ইস্ত্রি, ইস্পাত, পিস্তল, বালতি, টুপি, সাবান, বোতাম, পাউরুটি, মিস্রি, পেরেক, ইংরেজ, নিলাম ও বেহালা ইত্যাদি ।
২৩৫২৬
কার সম্পাদনায় 'সংবাদ প্রভাকর ' প্রথম প্রকাশিত হয়?
উত্তর
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সমাধান
সংবাদ প্রভাকর ছিল ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি দৈনিক বাংলা সংবাদপত্র। ১৮৩১ সালে একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্র হিসেবে এটি চালু হয় এবং আট বছর পর ১৮৩৯ সালে এটি একটি দৈনিক সংবাদপত্রে রূপান্তরিত হয়। এটিই বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।
২৩৫২৭
'লাঠালাঠি' শব্দটির সমাস----
উত্তর
বহুব্রীহি
সমাধান
যে সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ কারো অর্থ প্রাধান্য পায় না , সম্পূর্ণ তৃতীয় একটি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। প্রধানত বহুব্রীহি সমাস সাত প্রকার:১/ সমানাধিকরন বহুব্রীহি: দশানন—দশ আনন যার২/ ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: পাপমতি - - পাপে মতি যার৩/ মধ্যপদোলোপি বহুব্রীহি: বিড়ালাক্ষী - - বিড়ালের অক্ষির মতো অক্ষি যার৪/ অলোপ বহুব্রীহি: মুখেভাত - - মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে। ৫/ ব্যাতিহার বহুব্রীহি: লাঠালাঠি - - লাঠিতে লাঠিতে লড়াই। ৬/ না বহুব্রীহি: নির্বাক - - নেই বাক যার। ৭/সহার্থক বহুব্রীহি: সবাক - - বাকের সহিত বর্তমান
২৩৫২৮
বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিম্নোক্ত একটি ভাষা থেকে ------
উত্তর
প্রাকৃত
সমাধান
সংস্কৃত থেকে নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উদ্ভব ঘটেছে বাংলা ভাষার। প্রাচীন ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে মনের ভাব প্রকাশের নানা রীতি চালু ছিল। সেখান থেকেই অঞ্চলভেদে উৎপত্তি হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতভাষা। আমাদের এই নদী বিধৌত পূর্ব অঞ্চলের মানুষেরা যে প্রকৃত ভাষায় কথা বলতে, তা হলো মাগধী।
২৩৫৩০
শব্দার্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ সমষ্টিকে ভাগ করা যায় ----
উত্তর
তিন ভাগে
সমাধান
বাংলা ভাষার যে শব্দসম্ভারের সমাবেশ ঘটেছে, সেগুলোকে পণ্ডিতরা নিম্নলিখিত পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। নিচে তা তুলে ধলা হলো।তৎসম শব্দ : যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। উদাহরণ—চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।তদ্ভব শব্দ : যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। উদাহরণ—হাত, চাঁদ, আজ, চামার।অর্ধতৎসম শব্দ : বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলে অর্ধতৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধতৎসম মানে আধা সংস্কৃত। উদাহরণ—জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, বোষ্টম, কুচ্ছিত ইত্যাদি।দেশি শব্দ : বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে দেশি শব্দ নামে অভিহিত করা হয়। উদাহরণ—কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি।বিদেশি শব্দ : রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সংস্কৃতিগত ও বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বহু শব্দ বাংলায় এসে স্থান করে নিয়েছে। এসব শব্দকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, ভারত, মিয়ানমার, মালয়, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশেরও কিছু শব্দ আমাদের ভাষায় প্রচলিত রয়েছে। উদাহরণ—আল্লাহ, ইসলাম, কিতাব (আরবি), খোদা, পয়গম্বর, কারখানা (ফারসি), ইউনিভার্সিটি, নভেল, লাইব্রেরি (ইংরেজি), আনারস, আলপিন, বালতি (পর্তুগিজ), কার্তুজ, কুপন, রেস্তোরাঁ (ফরাসি), ইস্কাপন, তুরুপ (ওলন্দাজ), খদ্দর, হরতাল (গুজরাটি), চাকর, চাকু, দারোগা (তুর্কি), চা, চিনি (চীনা), ফুঙ্গি, লুঙ্গি (মিয়ানমার), রিকশা (জাপানি) ইত্যাদি।