২৪৩০২
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' -- কোন ধরনের শব্দ?
উত্তর
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
সমাধান
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্তি শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন :
১. মানুষের ধ্বনির অনুকার : ভেউ ভেউ - মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি ট্যা ট্যা হি হি
২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার : ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি) মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক)
কুহু কুহু (কোকিলের ডাক) কা কা (কাকের ডাক)
৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার : ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ)
ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ) হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ)
৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার : ঝিকিমিকি (উজ্জ্বল্য)। ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি) মিনমিন, পিটপিট, ঝি ঝি
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি গঠন
১. একই (ধ্বন্যাত্মক) শব্দের অবিকৃত প্রয়োগ : ধবধব, ঝনঝন, পটপট্
২. প্রথম শব্দটির শেষে আ যোগ করে : গপাগপ, টপটপ, পটাপট
৩. দ্বিতীয় শব্দটির শেষে ই যোগ করে : ধরাধরি, ঝমঝমি, ঝনঝনি
৪. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ : কিচিরমিচির (পাখি বা বানরের শব্দ) টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ)
হাপুসহুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)
৫. আনি - প্রত্যয় যোগেও বিশেষ্য দ্বিরুক্তি গঠিত হয় : পাখিটার ছটফটানি দেখলে কষ্ট হয়।
তোমার বকবকানি আর ভালো লাগে না।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
শব্দের ব্যবহার (বিভিন্ন পদরূপে)
১. বিশেষ্য : বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
২. বিশেষণ : নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
৩. ক্রিয়া : কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
৪. ক্রিয়া বিশেষণ : চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।
২৪৩০৩
আরণ্যক কার রচনা?
উত্তর
বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায়
সমাধান
বুদ্ধদেব বসু একধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, অনুবাদক, সমলোচক ও সম্পাদজ ছিলেন। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হচ্ছে - সাড়া, সানন্দা, তিথিডোর, রাতভর বৃষ্টি, নির্জন স্বাক্ষর ইত্যাদি। ‘আরণ্যক’ উপন্যাসটি রচনা করেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আরো কয়েকটি উল্লাখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে - পথের পাচালী, অপরাজিত, দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হচ্ছে - আরোগ্য নিকেতন, সঞ্জীবন ফার্মাসি, গণসেবতা, পঞ্চগ্রাম, হাসুলী বাকের উপকথা, কবি, ধাত্রীদেবতা, ইত্যাদি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস হচ্ছে - জননি পদ্মনদীর মাঝি, পুতুল নাচের ইতিকথা। বিখ্যাত গল্প - গ্রন্থ হচ্ছে - অতসি মামি ও অন্যান্য গল্প, প্রাগৈতিহাসিক, আজকাল প্রশুর গল্প ইত্যাদি।
২৪৩০৪
শুদ্ধ বাক্য নির্দেশ করুন--
উত্তর
দীনতা প্রশংসনীয় নয়
সমাধান
'দৈন্যতা ' শব্দটি অশুদ্ধ।
২৪৩০৫
' চলিষ্ণু অভিধান' কাকে বলা হতো?
উত্তর
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সমাধান
তিনি একাধারে ছিলেন সাহিত্যিক ও সাহিত্য গবেষক। ১৯৬১ সালে সাহিত্য গবেষণায় তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। গল্পবিচিত্র, ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত তার উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম।
২৪৩০৬
একজন ভালো শিক্ষকের কি কি যোগ্যতা ও দক্ষতা দরকার?
উত্তর
পড়ানো, সঠিক পরিচালনা ও গাইড করা
সমাধান
সফল শিক্ষকের গুনাবলীর বর্ণনায় গবেষক Trever kdrry - 1981 বলেন, 1. শিক্ষক নিজের জন্য একটি স্পষ্ট টার্গেট নির্ধারণ করবেন যা বাস্তবায়নের জন্য তিনি কাজ করে যাবেন। 2. তিনি যা করতে যাচ্ছেন তার স্পষ্টাকারে বর্ণনা দেবেন। 3. তিনি মনোযোগসহ ছাত্রদের কথা শুনবেন। 4. তিনি সজাগ দৃষ্টির অধিকারি হবেন। 5. ছাত্রদের মাঝে সামাজিক ও বৈষয়িক পার্থক্যসমূহ দূরীভূত করার জন্য উৎসাহী হবেন। 6. শিক্ষক তার অভিমত ও রায় বস্তুনিষ্ঠ দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে দাঁড় করাবেন। 7. শিক্ষক তার ছাত্রদেরকে এমন প্রশ্ন করবেন যার দ্বারা ছাত্রদের চিন্তাশক্তি শানিত হয়, তাদের উদ্ভাবন ক্ষমতা বাড়ে। 8. দলিল - প্রমাণ বিবর্জিত পূর্বনির্ধারিত যে - কোন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকবেন। 9. আলোচনা - পর্যালোচনা, পাঠদান সুনির্দিষ্ট একটি বিষয়ে সীমিত রাখবেন। বিক্ষিপ্ত হবেন না। 10. শেখা ও জ্ঞান লাভের প্রতি ছাত্রদেরকে আগ্রহী করে তুলবেন এবং নিজেও আগ্রহী হবেন। 11. যেসব তথ্য ছাত্রদের জানা প্রয়োজন বা ছাত্ররা যেসব তথ্য জানতে আগ্রহী সেগুলো তিনি জানাবেন। 12. ছাত্রদেরকে মূল্যানের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠার আশ্রয় নেবেন। ব্যক্তিগত রায় অথবা স্বেচ্ছায়চারিত বর্জন করবেন।
২৪৩০৭
'মীনের মত অক্ষি যার'--- কোন সমাস?
উত্তর
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
সমাধান
মীনের মত অক্ষি যার - এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে মীনাক্ষী। যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন সিংহাসন, সাহিত্য সভা, স্মৃতিসৌধ।
২৪৩০৯
গণনাবাচক শব্দ কোনগুলো?
উত্তর
এক, দুই
সমাধান
অঙ্ক বা সংখ্যাবাচক শব্দ ১,২,৩ পৃভৃতি। গণনাবাচক শব্দ এক, দুই, তিন - - - - । পুরণবাচক শব্দ পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা প্রভৃতি।