২৪৫৬২
‘চাঁদের ন্যায় মুখ = চাঁদমুখ’ কোন প্রকার কর্মধারয় সমাস?
উত্তর
উপমিত
সমাধান
চাঁদমুখ উপমিত কর্মধারয়
২৪৫৬৩
‘সতীশ শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
উত্তর
সতী+ ঈশ
সমাধান
ই - কার কিংবা ঈ - কারের পর ই - কার কিংবা ঈ - কার থাকলে উভয়ে মিলে 'ঈ' কার হয়। 'ঈ' কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমনঃ সতী + ঈশ = সতীশ, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা
২৪৫৬৪
তটিনী শব্দের অর্থ কি?
উত্তর
নদী
সমাধান
তটিনী শব্দের অর্থ হচ্ছে নদী। শব্দটির আরো কয়েকটি সমার্থক শব্দ হচ্ছে স্রোতস্বিনী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, স্রোতস্বিনী, শৈবলিনী, স্রোতস্বতী, নির্ঝরিণী, গাঙ, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতোবহাম, মন্দাকিনীক, কল্লোলিনী।
২৪৫৬৫
বিদ্যাপতি কোন ভাষার রাধাকৃষ্ণ -বিষয়ক পদগুলো রচনা করেন?
উত্তর
ব্রজবুলি
সমাধান
ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪ - ১৪৬০) এর উদ্ভাবক। তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি। অবশ্য এই পদগুলি তখন ব্রজধামে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল বলেও একে ব্রজবুলি বলা হতো। এর উৎপত্তি বিদ্যাপতির হাতে হলেও পরিপুষ্টি হয়েছে বাঙালি কবিদের হাতে।
বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন। ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন। হিন্দু - মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।
বাংলা ছাড়া আসাম এবং উড়িষ্যাতেও ব্রজবুলির বেশ চর্চা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন যশোরাজ খান, আসামে শংকরদেব এবং উড়িষ্যায় রামানন্দ রায়। এঁরা তিনজনই ছিলেন ষোল শতকের কবি। ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ছিলেন গোবিন্দদাস কবিরাজ (১৬শ - ১৭শ শতক)।
ব্রজবুলি ভাষায় প্রচুর পরিমাণে তৎসম শব্দ ব্যবহূত হয়েছে। অর্ধতৎসম শব্দের ব্যবহারও লক্ষ করা যায়, তবে বিদেশী শব্দের ব্যবহার নেই বললেই চলে। এ ভাষায় শব্দ পরিবর্তনের কয়েকটি দৃষ্টান্ত হলো: মাস মাহ, লাবণ্য লাবনি, দুস্তর দুতর, দৃষ্টি দিঠি, মেঘ মেহ ইত্যাদি। মধ্যযুগে ব্রজবুলি ভাষায় রচিত বৈষ্ণবপদের একটি নমুনা হলো: ‘গগনে অব ঘন/ মেহ দারুণ/ সঘনে দামিনী চমকই। কুলিশ পাতন/ শবদ ঝন ঝন/ পবন খরতর বলসই\’ ব্রজবুলি ভাষার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পদলালিত্য। [আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ]
২৪৫৬৬
বাংলা সাধু ভাষা বলতে বুঝায়?
উত্তর
তৎসম শব্দ বহুল ভাষার রীতি
সমাধান
সাধু ভাষা তৎসম শব্দ বহুল
চলিত ভাষা তদ্ভব শব্দ বহুল
সাধু ভাষায় ক্রিয়া এবং সর্বনাম বিশেষ রুপ লাভ করলেও চলিত ভাষায় তা করে না
২৪৫৬৭
মঙ্গলকাব্যে কোন দুই দেবতার প্রাধান্য বেশি?
উত্তর
মনসা ও চন্ডী
সমাধান
মঙ্গলকাব্যে দুই দেবতার প্রাধান্য বেশি মনসা ও চন্ডী।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য - কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকে বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
মঙ্গলকাব্য সাধারণত বিশেষ কোনও হিন্দু দেবতা বা দেবীকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এইসব দেবতা বা দেবীরা ছিল মূলত বাংলার স্থানীয় (যেমনঃ মনসা); সেই কারণেই তারা বেদ, পুরাণ, প্রভৃতি ধ্রুপদী শাস্ত্রে ছিল অনুল্লেখিত। এইসব “নিম্নকোটি”, স্থানীয় দেবতাদের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে তাদের পূজা - অর্চনা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করাই মঙ্গলকাব্যগুলির মূল লক্ষ্য ছিল বলে ইতিহাসবিদেরা মনে করে থাকেন।
২৪৫৬৮
কোনটি খাঁটি বাংলা শব্দ?
উত্তর
ঢোল
সমাধান
খাটি বাংলা শব্দ হলো ঢোল। আরও এমন শব্দ হলো ঢেকি, কুলা ঠোঙ্গা, কুলা, চুলা।
২৪৫৬৯
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত চর্যাপদ কে সম্পাদনা করেন?
উত্তর
শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সমাধান
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত চর্যাপদ সম্পাদনা করেন শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য।
তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক।
২৪৫৭০
বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
উত্তর
আলালের ঘরের দুলাল
সমাধান
বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্র (টেকচাঁদ ঠাকুর) রচিত ‘আলালের ঘরের দুলাল’। এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসটি ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়। মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ সিন্ধু’ ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয়।