২৪৫৯১
”বখ্তিয়ারের ঘোড়া” কোন শ্রেণীর রচনা?
উত্তর
কাব্য
সমাধান
বখতিয়ারের ঘোড়া
আল মাহমুদ
মাঝে মাঝে হৃদয় যুদ্ধের জন্য হাহাকার করে ওঠেমনে হয় রক্তই সমাধান, বারুদই অন্তিম তৃপ্তি;আমি তখন স্বপ্নের ভেতর জেহাদ, জেহাদ বলে জেগে উঠি। জেগেই দেখি কৈশোর আমাকে ঘিরে ধরেছে। যেন বালিশে মাথা রাখতে চায় না এ বালক, যেন ফুৎকারে উড়িয়ে দেবে মশারি, মাতৃস্তনের পাশে দু'চোখ কচলে উঠে দাঁড়াবে এখুনি;বাইরে তার ঘোড়া অস্থির, বাতাসে কেশর কাঁপছে। আর সময়ের গতির ওপর লাফিয়ে উঠেছে সে।
না, এখনও সে শিশু। মা তাকে ছেলে ভোলানো ছড়া শোনায়। বলে, বালিশে মাথা রাখো তো বেটা। শোনোবখতিয়ারের ঘোড়া আসছে। আসছে আমাদের সতেরো সোয়ারিহাতে নাংগা তলোয়ার।
মায়ের ছড়াগানে কৌতূহলী কানপাতে বালিশেনিজের দিলের শব্দ বালিশের সিনার ভিতর। সে ভাবে সে শুনতে পাচ্ছে ঘোড়দৌড়। বলে, কে মা বখতিয়ার?আমি বখতিয়ারের ঘোড়া দেখবো।
মা পাখা ঘোরাতে ঘোরাতে হাসেন, আল্লার সেপাই তিনি, দুঃখীদের রাজা। যেখানে আজান দিতে ভয় পান মোমেনেরা, আর মানুষ করে মানুষের পূজা, সেখানেই আসেন তিনি। খিলজীদের শাদা ঘোড়ার সোয়ারি। দ্যাখো দ্যাখো জালিম পালায় খিড়কি দিয়েদ্যাখো, দ্যাখো। মায়ের কেচ্ছায় ঘুমিয়ে পড়ে বালকতুলোর ভেতর অশ্বখুরের শব্দে স্বপ্ন তারনিশেন ওড়ায়।
কোথায় সে বালক?
আজ আবার হৃদয়ে কেবল যুদ্ধের দামামামনে হয় রক্তেই ফয়সালা। বারুদই বিচারক। আরস্বপ্নের ভেতর জেহাদ জেহাদ বলে জেগে ওঠা।
২৪৫৯২
'যুগসন্ধিক্ষণের' কবি বলা হয়?
উত্তর
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সমাধান
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতায় মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ উভয় যুগের প্রভাব লক্ষ্যণীয়। তাই তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যসাহিত্য অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম আধুনিক কবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম রচয়িতা, প্রথম প্রহসন রচয়িতা এবং সার্থক ট্রাজেডির প্রথম রচয়িতা। অন্যদিকে জীবনান্দ দাশকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি বলা হয়।
২৪৫৯৪
বাংলা সনেটের প্রথম রচয়িতা কে?
উত্তর
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সমাধান
যে কবিতায় কবি হৃদয়ের একটিমাত্র ভাব বা অনুভূতি অখন্ড থেকে চতুর্দশ চরণ দ্বারা একটি বিশেষ পদের মধ্য দিয়ে কবিতা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে তাকে সনেট বলে। বাংলায় সনেট রচনা শুরু করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তার প্রথম সনেট ‘বঙ্গভাষা’।
২৪৫৯৫
যা পূর্বে ছিল এখন নাই-
উত্তর
ভূতপূর্ব
সমাধান
যা পূর্বে ছিল এখন নেই = ভূতপূর্ব।
যা পূর্বে কখনো হয়নি = অভূতপূর্ব।
২৪৫৯৬
'শিরে সংক্রান্তি' অর্থ কি?
উত্তর
আসন্ন বিপদ
সমাধান
শিরে সংক্রান্তি একটি বাগধারা যার অর্থ আসন্ন বিপদ
২৪৫৯৭
'সে' কোন পুরুষ?
উত্তর
প্রথম
সমাধান
বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকারঃ ১. উত্তম পুরুষ, ২. মধ্যম পুরুষ ও ৩. প্রথম পুরুষ। উত্তম পুরুষঃ নিজকে বোঝানোর জন্য যে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয় তাকে উত্তর পুরুষ বলে। যেমন - আমি, আমরা, মুই, মোরা ইত্যাদি। মধ্যম পুরষঃ কারো সাথে কথা বলার সময় তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন - তুমি, তুই, আপনি, তোমরা, তোরা, আপনারা ইত্যাদি। প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষঃ কারো সম্বন্ধে কিছু বলতে হলে তাকে বোঝানোর জন্য যে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয় তাকে প্রথম পুরুষ বলে। যেমন - সে, তিনি, তারা, তাঁরা, ও, উনি, ওরা, ওঁরা, ইনি ইত্যাদি। এছাড়া বিশেষ্য পদ বা বিশেষণরুপে ব্যবহৃত অন্য পদও প্রথম পুরুষ হিসেবে বিবেচিত। ‘আমি’ ও ‘তুমি’ ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ প্রথম পুরুষ। প্রথম পুরুষকে নাম পুরুষও বলা হয়।
২৪৫৯৮
ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার উৎসব কে এক কথায় বলে-
উত্তর
হীরক জয়ন্তী
সমাধান
২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় : রজত জয়ন্তী (Silver Jubilee)
৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : সুবর্ণ জয়ন্তী / স্বর্ণ জয়ন্তী (Golden Jubilee),
৬০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : হীরক জয়ন্তী (Diamond Jubilee),
৭৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় : প্লাটিনাম জয়ন্তী (Platinum Jubilee),
১০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : শতবর্ষ (Centenary jubilee)
১৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : সার্ধশত (Sesquicentennial),
২০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : দ্বিশতবর্ষ (Bicentenary/ bicentennial)
২৪৫৯৯
টাকায় অসাধ্য সাধন হয় বাক্যে 'টাকায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
উত্তর
করণকারকে ৭মী
সমাধান
যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। যেমিন - টাকায় অসাধ্য সাধন হয়। এই বাক্যে হওয়া ক্রিয়া টাকার সাহায্যে সম্পাদিত হয় বলে ‘টাকায়’ পদটি করণ কারক। করণ কারক নির্ণয়ের প্রশ্নটি হচ্ছে - কী দিয়ে? টাকায় অসাধ্য সাধন হয় - এখানে ‘কী দিয়ে’ অসাধ্য সাধন হয়? প্রশ্নের জবাব ‘টাকা দিয়ে’। তাই ‘টাকায়’ করণ কারক। সপ্তমী বিভক্তির একবচনের রুপ হলো এ, য়, তে, এতে। তাই টাকা + য় = টাকায় ‘সপ্তমী বিভক্তি।
২৪৬০০
পল্লীকবি বলা হয় কাকে?
উত্তর
জসিমউদদীন
সমাধান
জসীমউদদীন যুগের বিক্ষোভ ও আলোড়ন থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখে গ্রামীণ প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্যের মধ্যে নিজেকে বিলীন করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি সংগ্রহ করেছেন তার কাব্যের উপকরণ। পল্লী এবং পল্লীর মানুষকেই তিনি তার কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এ কারণে তাকে পল্লীকবি বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি এবং জীবনান্দ দাশকে রুপসী বাংলার কবি বলে অভিহিত করা হয়।