২৫৯১৫
’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ কে রচনা করেন?
উত্তর
বড়ু চন্ডীদাস
সমাধান
’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ রচনা করেন বড়ু চন্ডীদাস।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ুচণ্ডীদাস নামক জনৈক মধ্যযুগীয় কবি রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য।
১৯১৬ সালে তারই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে পুথিটি প্রকাশিত হয়; যদিও কারও কারও মতে মূল গ্রন্থটির নাম ছিল ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’। বৌদ্ধ - সহজীয়া গ্রন্থ চর্যাপদের পর এটিই আদি - মধ্য বাংলা ভাষার প্রাচীনতম আবিষ্কৃত নিদর্শন।
২৫৯১৭
’বিষাদসিন্ধু’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
উত্তর
মীর মশাররফ হোসেন
সমাধান
‘বিষাদ - সিন্ধু’ মীর মশাররফ হোসেনের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। উপন্যাসটিতে তিনটি পর্ব আছে। ‘মহরম পর্ব’ (১৮৯৫), ‘উদ্ধার পর্ব’ (১৮৮৭), ‘এজিদবধ পর্ব’ (১৮৯১)। উপন্যাসটি কারবালার বিষাদময় কাহিনী অবলম্বনে রচিত। মহানবী হযরত মুহম্মদ (স) – এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মুয়াবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের বিরোধ ও যুদ্ধ এই উপন্যাসের মূল কাহিনী।
২৫৯১৮
বাংলা সাহিত্যে যুদ সন্ধিক্ষণের কবি কে?
উত্তর
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সমাধান
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের (১৭৬০ - ১৮৬০ সাল ) সাহিত্যকর্মে মধ্যযুগের সাহিত্যের যেমন ছাপ আছে, সেই সাথে আধুনিক যুগের সাহিত্যের ছাপ একই সাথে পাওয়া যায় যদিও তিনি মধ্যযুগের কবি। দুইটা যুগের সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে ঈশ্চরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। একই সাথে তিনি মধ্যযুগের বাংলায় সাহিত্য রচনা করেছেন এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ছাপ তার কর্মে রেখে গেছেন তাই তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
২৫৯১৯
চর্যাপদের পান্ডুলিপি কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সমাধান
১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন | রাজেন্দ্রলাল মিত্রের বই হতেই প্রভাবিত হয়েই মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী , "চর্যাচর্যবিনিশ্চয়" নামে কিছু পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন |পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে "বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ" 'হাজার বছরের পুরান বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয় ড. মহামোহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রকাশনায় |এটিই পরে চর্যাপদ নামে পরিচিতি পায় |
২৫৯২০
নিচের কোনটি মধ্যযুগের কাব্যের প্রধান একটি ধারা?
উত্তর
মঙ্গল কাব্য
সমাধান
মধ্যযুগের কাব্যের প্রধান একটি ধারা মঙ্গল কাব্য।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য - কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকে বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
মঙ্গলকাব্য ছিল সকল মধ্যযুগীয় সাহিত্যের ধারক। মঙ্গলকাব্য ছিল বাংলা ভাষার ক্রান্তীয় মধ্যযুগীয় বহিঃপ্রকাশ।