জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বানিজ্য বিভাগ অর্নাস ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২৬
বাণিজ্য
গঠনরীতি অনুসারে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি—
সঠিক উত্তর হলো সনেট প্রকারের সৃষ্টি। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে মোট ১৪টি চরণ থাকে।
- ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটিও মোট ১৪টি চরণের সমন্বয়ে গঠিত।
- কবিতাটির গঠনরীতিতে সনেটের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, যেমন—ভাবের প্রবহমানতা এবং চরণের বিন্যাস নিখুঁতভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
তাই গঠনরীতির বিচারে এটি একটি সনেট বা সনেট জাতীয় কবিতা।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় বসন্তকালকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি শামসুর রাহমান বসন্তকালকে সরাসরি রক্তের সাথে তুলনা করেছেন। এর পেছনে কারণটা খুব সহজ:
- কবিতায় বসন্তের আগমনকে সাধারণ কোনো ঋতু পরিবর্তনের মতো দেখেননি কবি।
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের তাজা রক্তে রাঙানো স্মৃতিকে তিনি বসন্তের ফুলের রঙের সাথে মিলিয়েছেন।
- এখানে বসন্তের রক্তিম আভা যেন সেই আত্মত্যাগেরই প্রতীক, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই বসন্ত এসেছে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে।
তাই কবি এখানে বসন্তের সৌন্দর্য আর শহীদের রক্তের রঙকে একাকার করে দিয়েছেন, যা কবিতার মূল ভাবকে অনেক বেশি গভীর ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতায় পূর্বপুরুষের করতলে কিসের সৌরভ ছিল?
সঠিক উত্তর হলো রক্তজবা। কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কবিতায় আমাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্ব ও ত্যাগের কথা বলা হয়েছে।
- কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের হাতের তালুতে রক্তজবার সৌরভের কথা উল্লেখ করেছেন।
- এখানে রক্তজবা মূলত আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্তদান, আত্মত্যাগ এবং মাটির প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- তাদের সেই ত্যাগের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বেঁচে আছি, আর সেই বীরত্বের ঘ্রাণই যেন রক্তজবার সৌরভ হয়ে আমাদের মাঝে মিশে আছে।
‘সবাই হওয়ার পর জানলাম, তিনি আর আসবেন না।’ কোন ধরনের বাক্য?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জটিল বাক্য।
খুব সহজেই চেনার উপায় হলো—যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর এক বা একাধিক আশ্রিত বা অধীন খণ্ডবাক্য নির্ভরশীল থাকে এবং মাঝখানে 'যে', 'সে', 'যিনি', 'তিনি', 'যদি', 'তাহলে' বা এ জাতীয় সাপেক্ষ সর্বনাম থাকে, সেটাই জটিল বাক্য।
- বাক্যটির শুরুতে 'সবাই হওয়ার পর জানলাম' অংশটি একটি খণ্ডবাক্য।
- এর ওপর নির্ভর করছে পরের অংশটি—'তিনি আর আসবেন না'।
- দুটি অংশ মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করায় এটি একটি সুন্দর ও স্পষ্ট জটিল বাক্য।
শুদ্ধ বানান হচ্ছে—
এখানে সঠিক উত্তর হলো পবিত্র, নির্মিত। বানানগুলো শুদ্ধ হওয়ার কারণ খুব সহজ:
- পবিত্র: এটি একটি তৎসম শব্দ, যেখানে 'প' এর সাথে 'ব' এবং 'ত্র' যুক্ত হয়ে সঠিক রূপ গঠন করেছে।
- নির্মিত: 'নির্' উপসর্গের সাথে 'মিত' যুক্ত হয়ে এই শব্দটি গঠিত হয়েছে। এখানে 'ম' এর ওপর রেফ (র্) যুক্ত হওয়াটাই ব্যাকরণগতভাবে সঠিক।
অন্যান্য অপশনগুলোতে বানানের ভুল থাকার মূল কারণ হলো রেফ বা যুক্তাক্ষরের ভুল প্রয়োগ। তাই সবসময় শব্দের গঠন ও সন্ধি খেয়াল রাখলে এমন বানান সহজেই মনে রাখা যায়।
বিশেষ নিয়মে সাজিত বহুবচনের প্রয়োগ রয়েছে কোন বাক্যে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সালামাদের দুঃখের শেষ নেই।
কারণটা খুব সহজ:
- সাধারণত নামের সাথে 'দের' যোগ করে বহুবচন করা হয় না।
- কিন্তু এখানে 'সালাম' নামের সাথে 'দের' যুক্ত করে একটি বিশেষ অর্থে (সালাম ও তার পরিবার বা সমগোত্রীয় সবাইকে বোঝাতে) বহুবচন করা হয়েছে।
- এটাই হলো বিশেষ নিয়মে সাধিত বহুবচনের নিখুঁত প্রয়োগ।
ভাববাচক বিশেষ্য কোন পদ থেকে তৈরি হয়?
সঠিক উত্তর হলো বিশেষণ। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- ভাববাচক বিশেষ্য মূলত কোনো গুণের বা অবস্থার নাম বোঝায়।
- আমরা জানি, কোনো কিছুর দোষ, গুণ বা অবস্থা বোঝাতে বিশেষণ ব্যবহৃত হয়।
- যখন এই বিশেষণ পদগুলোকে বিশেষ্য রূপে ব্যবহার করা হয়, তখনই তা ভাববাচক বিশেষ্যে পরিণত হয়।
- সহজ উদাহরণ: 'মধুর' একটি বিশেষণ, কিন্তু এর থেকে তৈরি 'মাধুর্য' হলো একটি ভাববাচক বিশেষ্য।
অর্থাৎ, বিশেষণের সাথে নির্দিষ্ট প্রত্যয় যুক্ত হয়েই সাধারণত ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়।
এখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট – প্রচলিত ব্যাকরণ অনুসারে এখানে ঘটেছে—
এখানে সঠিক উত্তর হলো অপ্রকৃত ভাব। বিষয়টি খুব সহজ—যখন কোনো বাক্যে এমন কিছু বলা হয় যা বাস্তবসম্মত নয় বা যুক্তির বিচারে অসম্ভব, তখন তাকে ব্যাকরণের ভাষায় অপ্রকৃত ভাব বলা হয়।
- এখানে বলা হয়েছে, রাজমুকুট নিজে এসে লুটাইয়া পড়ছে।
- বাস্তবে রাজমুকুট জড় বস্তু, তাই এটি নিজে নিজে এসে লুটাইয়া পড়ার ক্ষমতা রাখে না।
- মানুষের মতো জড় বস্তুর ওপর মানবিক ক্রিয়া আরোপ করার কারণেই এখানে অপ্রকৃত ভাব দোষটি ঘটেছে।
ইহা আর একটি শক্তি, যাহা বহু গ্রামীণ গৃহ একশ বছরের একত্রে বসবাস করার পরেও হয়ত তাহার কোনো স্থান পায় না। – ‘বিলাসী’ গল্পে কোন শক্তির কথা বলা হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভালোবাসা। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিলাসী’ গল্পে লেখক মানুষের মনের গভীর অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে এই শক্তির কথা উল্লেখ করেছেন।
বিষয়টা খুব সহজভাবে দেখলে বোঝা যায়:
- গল্পে লেখক দেখিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পাশাপাশি থেকেও অনেক পরিবারে যে গভীর টান বা আত্মিক বন্ধন তৈরি হয় না, তা কেবল খাঁটি ভালোবাসার অভাবেই ঘটে।
- বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, সামাজিক নিয়ম বা প্রথা বড় নয়, বরং মানুষের প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি।
- এই শক্তিটি কোনো নিয়ম বা জাত-পাতের বেড়াজালে আটকে থাকে না, বরং এটি মানুষের হৃদয়কে জয় করার একমাত্র মাধ্যম।
কোন সম্পর্কটি বিশুদ্ধ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পার্থক্য : ভেদ। কারণটি বেশ সহজ এবং যৌক্তিক:
- শব্দার্থের দিক থেকে 'পার্থক্য' এবং 'ভেদ' শব্দ দুটি একে অপরের সমার্থক বা একই অর্থ বহন করে।
- প্রশ্নে যেহেতু সমার্থক বা একই অর্থবোধক জোড়াটি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে, তাই এই বিকল্পটিই সবচেয়ে নির্ভুল।
- সহজ কথায়, দুটি শব্দের মধ্যে যখন অর্থের কোনো অমিল থাকে না, তখন তাদের সম্পর্ককে আমরা বিশুদ্ধ সমার্থক সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করি।