জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান বিভাগ অর্নাস ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২৬
বিজ্ঞান
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সবগুলো। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের বিশাল ভাণ্ডারে এই তিনটি রচনাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কেন এই উত্তরটি সঠিক, তা নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
- জননী: এটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যেখানে তিনি নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবনসংগ্রাম ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- দিবা রাত্রির কাব্য: এটি লেখকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। মানুষের অবচেতন মনের জটিলতা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এই বইটি অনন্য।
- চিহ্ন: এটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। তার ছোটগল্পের শৈল্পিক দক্ষতা ও বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় এই বইটিতে।
যেহেতু এই তিনটি বই-ই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব সৃষ্টি, তাই নির্দ্বিধায় সঠিক উত্তর হবে সবগুলো।
‘রেইনকোট’ গল্পটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কোন গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয়?
‘রেইনকোট’ গল্পটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’-এ সংকলিত হয়েছে। এই গল্পগ্রন্থটি বাংলা ছোটগল্পের ধারায় একটি অনন্য সংযোজন।
সহজে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্পের সংখ্যা খুব কম, তাই তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর নাম মনে রাখা বেশ সহজ।
- ‘রেইনকোট’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং বহুল পঠিত একটি গল্প, যা মূলত ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’ নামক সংকলনের মাধ্যমেই পাঠকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
- পরীক্ষায় বারবার আসা এই তথ্যটি মনে রাখতে ‘রেইনকোট’ এবং ‘জাল স্বপ্ন’—এই দুটি শব্দকে একসাথে মিলিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করুন।
‘এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’- এখানে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন সত্তাটি প্রকাশ পেয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রেম ও দ্রোহ। কাজী নজরুল ইসলামকে কেন 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়, তার সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে এই লাইনটিতেই।
- বাঁকা বাঁশের বাঁশরী: এটি কবির হৃদয়ের কোমলতা, সৌন্দর্যবোধ এবং প্রেমের প্রতীক।
- রণ-তূর্য: এটি কবির প্রতিবাদী সত্তা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এবং দ্রোহের প্রতীক।
অর্থাৎ, কবির সত্তায় একদিকে যেমন আছে ভালোবাসার সুর, অন্যদিকে আছে শোষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক। এই দুই বিপরীতমুখী গুণের অসামান্য সমন্বয়ই হলো কবির প্রেম ও দ্রোহের দর্শন।
‘একুশের কৃষ্ণচূড়া’ আমাদের-
কবি শামসুর রাহমানের বিখ্যাত 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় 'একুশের কৃষ্ণচূড়া'-কে আমাদের চেতনারই রং হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বীর শহীদদের আত্মত্যাগের রক্তে রঞ্জিত এই লাল কৃষ্ণচূড়া মূলত বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, দেশপ্রেম ও সংগ্রামমুখী জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক।
‘আঠার আনা’ বাগধারাটির অর্থ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো বাড়াবাড়ি।
বিষয়টা খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- পুরানো দিনের হিসেবে এক টাকায় ১৬ আনা হতো।
- যেখানে ১৬ আনা পূর্ণ বা স্বাভাবিক, সেখানে ১৬ আনার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৮ আনা হওয়া মানেই হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি করা।
- এই বাগধারাটি মূলত কোনো কিছুতে মাত্রাতিরিক্ত ভাব বা বাড়াবাড়ি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
“যশের জন্য লিখিবেন না”- উক্তিটি কার?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত গভীর এবং দায়িত্বশীল। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাহিত্য কেবল খ্যাতি বা জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং সমাজের কল্যাণ এবং মানুষের মনকে উন্নত করার জন্য হওয়া উচিত।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য এই বিষয়টি মাথায় রাখতে পারেন:
- বঙ্কিমচন্দ্র মনে করতেন, লেখক যখনই খ্যাতির মোহে বা যশের জন্য লিখতে শুরু করেন, তখনই সাহিত্যের মান ও উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যায়।
- তার মতে, সাহিত্য হওয়া উচিত সত্য ও ন্যায়ের পথে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার একটি মাধ্যম।
- এই বিখ্যাত উক্তিটি তার 'বিবিধ প্রবন্ধ' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, যা বাংলা সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
“সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।”- উক্তিটি কোন লেখকের?
সঠিক উত্তর হলো প্রমথ চৌধুরী।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে 'চলতি রীতির' প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত এবং তিনি তাঁর তীক্ষ্ণ ও বুদ্ধিদীপ্ত রচনার জন্য বিখ্যাত। সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে কেবল বিনোদন নয়, বরং চিন্তার খোরাক জোগানো—এই আধুনিক ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিটি মূলত তাঁরই চিন্তাধারার প্রতিফলন।
- মূল কথা: প্রমথ চৌধুরী মনে করতেন সাহিত্য কেবল মনোরঞ্জনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের মন ও বুদ্ধিকে বিকশিত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
- মনে রাখার কৌশল: যখনই কোনো উক্তি দেখবেন যেখানে সাহিত্যের গাম্ভীর্য বা বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলা হয়েছে, চোখ বন্ধ করে ধরে নিতে পারেন সেটি প্রমথ চৌধুরীর কোনো প্রবন্ধ বা উক্তি।
‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
‘সোনার তরী’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এই ছন্দটি চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর ধ্বনি বা মাত্রার বিন্যাস।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে প্রতিটি শব্দের মাত্রা গণনা করা হয় খুব সুনির্দিষ্টভাবে।
- এই ছন্দে মুক্তদল এবং বদ্ধদল—উভয়ই সাধারণত ১ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়, তবে শব্দের শেষে বা ছন্দের প্রয়োজনে বদ্ধদল অনেক সময় ২ মাত্রার মর্যাদা পায়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার প্রতিটি পঙক্তির লয় বা গতিপ্রকৃতি খেয়াল করলে দেখা যায়, এটি একটি নির্দিষ্ট তাল বা মাত্রার ছকে বাঁধা, যা মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সহজ কথায়, যে ছন্দে শব্দের মাত্রাগুলো একটি নির্দিষ্ট ছন্দের তালে তালে প্রবাহিত হয় এবং পড়ার সময় একটি ধীর-স্থির ছন্দময় গতি পাওয়া যায়, সেটিই মাত্রাবৃত্ত। ‘সোনার তরী’ কবিতার সেই বিশেষ গীতিময়তা ও মাত্রার সুষম বিন্যাসই একে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অনন্য উদাহরণ করে তুলেছে।
গঠনরীতি অনুযায়ী ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি-
গঠনরীতি অনুযায়ী ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি একটি চমৎকার সংলাপ নির্ভর কবিতা। এর কারণগুলো খুব সহজ:
- পুরো কবিতাটি মূলত দুজন ব্যক্তির কথোপকথনের মাধ্যমে এগিয়েছে।
- এখানে একজন 'কবি' এবং অন্যজন 'কবিভক্ত' বা 'সুধীজন'—এই দুই চরিত্রের সংলাপের মধ্য দিয়ে কবিতার মূল ভাব ফুটে উঠেছে।
- কবিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন-উত্তরের ঢঙে মনের আবেগ ও প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে স্মৃতির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে, যা একে একটি অনন্য সংলাপধর্মী শিল্পকর্মে পরিণত করেছে।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় বর্ণমালাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কবি শামসুর রাহমান বর্ণমালাকে নক্ষত্র-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এর পেছনের কারণটি বেশ কাব্যিক ও গভীর:
- কবিতায় কবি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেছেন।
- আমাদের বাংলা বর্ণমালাগুলো যেন রাতের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো, যা অন্ধকারেও পথ দেখায় এবং আমাদের অস্তিত্বের পরিচয় বহন করে।
- শহীদদের রক্তে রাঙা বর্ণমালাগুলো কবির চোখে নক্ষত্রের মতোই দীপ্তিময় ও চিরস্থায়ী, যা কখনো ম্লান হওয়ার নয়।
সহজ কথায়, বর্ণমালার পবিত্রতা ও উজ্জ্বলতাকে বোঝাতেই কবি একে আকাশের নক্ষত্রের সাথে তুলনা করেছেন।