জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান বিভাগ অর্নাস ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২৬
বিজ্ঞান
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কবিতায় পূর্বপুরুষের করতলে কীসের সৌরভ ছিল?
সঠিক উত্তর হলো পলিমাটির।
কবিতাটিতে কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ আমাদের পূর্বপুরুষদের মাটির সাথে গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন মূলত কৃষক, যারা তাদের কঠোর পরিশ্রম আর ঘাম দিয়ে এই বদ্বীপের মাটিকে উর্বর করে তুলেছিলেন। তাদের হাতের তালুতে লেগে থাকা সেই পলিমাটির সৌরভই আসলে আমাদের শেকড়ের পরিচয় বহন করে।
- শেকড়ের টান: পলিমাটি হলো আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।
- কৃষক সত্তা: পূর্বপুরুষদের হাতের ছোঁয়ায় যে শস্য ফলত, তার পেছনে ছিল পলিমাটির আশীর্বাদ।
- প্রতীকী অর্থ: এই সৌরভ মূলত আমাদের মাটির প্রতি ভালোবাসা এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।
‘সন্ধ্যা হওয়ার পর জানলাম, তিনি আর আসবেন না।’ কোন ধরনের বাক্য?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জটিল বাক্য। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় যদি আমরা বাক্যের গঠনটা একটু খেয়াল করি।
জটিল বাক্য চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর গঠন। এই বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর অন্য একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য নির্ভর করে। এখানে লক্ষ্য করুন:
- বাক্যটিতে ‘সন্ধ্যা হওয়ার পর’ অংশটি একটি শর্ত বা সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
- ‘তিনি আর আসবেন না’—এই অংশটি আগের অংশের ওপর নির্ভর করছে।
- সাধারণত যে বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম বা অব্যয় (যেমন: যখন-তখন, যেহেতু-সেহেতু, যে-সে) থাকে বা একটি খণ্ডবাক্য অন্যটির ওপর নির্ভরশীল হয়, তাকেই জটিল বাক্য বলে।
সহজ কথায়, এখানে একটি খণ্ডবাক্য অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে বলেই এটি একটি জটিল বাক্য।
শুদ্ধ বানান গুচ্ছ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী এই শব্দ দুটি একদম নির্ভুল।
সহজভাবে মনে রাখার কিছু কৌশল:
- বঞ্চনা: এটি একটি তৎসম শব্দ, যেখানে 'ব' এর সাথে যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ হিসেবে 'ঞ্চ' ব্যবহার করা হয়। এটিই শুদ্ধ রূপ।
- লাঞ্ছনা: এই শব্দটিতে 'ঞ্ছ' যুক্তবর্ণটি ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় ভুল করে অনেকে 'লানছনা' বা অন্যভাবে লেখে, কিন্তু সঠিক বানানটি হলো 'লাঞ্ছনা'।
বানানের ক্ষেত্রে সবসময় খেয়াল রাখবে, যুক্তবর্ণগুলো যেন সঠিক নিয়মে থাকে। এই দুটি শব্দই বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে, তাই এগুলোই শুদ্ধ বানান গুচ্ছ।
বিশেষ নিয়মে সাধিত বহুবচনের প্রয়োগ রয়েছে কোন বাক্যে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সালমাদের দুঃখের শেষ নেই। কারণ বিষয়টি বেশ সহজ:
- সাধারণত বহুবচন বোঝাতে 'রা', 'মালা', 'গণ' বা 'গুলো' ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু বিশেষ নিয়মে সাধিত বহুবচনের ক্ষেত্রে অনেক সময় নামের সাথে 'রা' বা 'মা' যুক্ত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
- এখানে 'সালমা' একটি নাম, যার সাথে 'দের' যুক্ত হয়ে 'সালমাদের' হয়েছে। এটি ব্যাকরণের বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী বহুবচন নির্দেশ করছে, যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমষ্টিকে বোঝায়।
সহজ কথায়, যখন কোনো বিশেষ নিয়মে বা নামের সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে বহুবচন তৈরি হয়, তখন তাকে বিশেষ নিয়মে সাধিত বহুবচন বলা হয়। তাই এই বাক্যে 'সালমাদের' শব্দটি সেই নিয়মটিই অনুসরণ করেছে।
ভাববাচক বিশেষ্য কোন পদ থেকে তৈরি হয়?
ভাববাচক বিশেষ্য মূলত ক্রিয়া পদ থেকে তৈরি হয়। বিষয়টি খুব সহজ, যখন কোনো কাজ বা ক্রিয়াকে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখনই তা ভাববাচক বিশেষ্য হয়ে ওঠে। যেমন:
- 'করা' একটি ক্রিয়া, কিন্তু এর ভাববাচক বিশেষ্য হলো 'করণ'।
- 'খাওয়া' একটি ক্রিয়া, এর ভাববাচক বিশেষ্য হলো 'ভোজন'।
- 'যাওয়া' একটি ক্রিয়া, এর ভাববাচক বিশেষ্য হলো 'গমন'।
সহজ কথায়, কোনো কাজের নাম বা ভাব যখন বিশেষ্যের মতো কাজ করে, তখন তাকেই আমরা ভাববাচক বিশেষ্য বলি। তাই এর মূল উৎস সবসময়ই একটি ক্রিয়া থাকে।
‘এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট।’- প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে এখানে ঘটেছে-
এখানে সঠিক উত্তর হলো গুরুচণ্ডালীর দোষ। বিষয়টি খুব সহজ, একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন:
- বাংলা ভাষায় সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- বাক্যটিতে 'লুটাইয়া' শব্দটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ, কিন্তু 'পড়ে' শব্দটি চলিত রীতির।
- একই বাক্যে সাধু ও চলিত রীতির এমন অসংগত ব্যবহারই ব্যাকরণের ভাষায় গুরুচণ্ডালী দোষ হিসেবে পরিচিত।
সহজ কথায়, সাধু ও চলিত রীতির এমন খিচুড়ি পাকানোই এখানে ভুল হওয়ার মূল কারণ।
‘ইহা আর একটি শক্তি, যাহা বহু স্বামী স্ত্রী একশ বৎসর একত্রে ঘর করার পরেও হয়ত তাহার কোনো সন্ধান পায় না।’- ‘বিলাসী’ গল্পে কোন শক্তির কথা বলা হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভালোবাসা। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিলাসী’ গল্পে লেখক এই গভীর অনুভূতির কথা বুঝিয়েছেন।
বিষয়টা খুব সহজভাবে দেখলে বোঝা যায়:
- গল্পে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পর্কটি ছিল প্রথাগত সমাজের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে।
- দীর্ঘ সময় একসাথে থাকার পরেও মানুষ অনেক সময় একে অপরের মনের গভীরের সেই অকৃত্রিম টান বা অনুভূতির দেখা পায় না, যা বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের মধ্যে ছিল।
- লেখক এখানে সেই নিঃস্বার্থ ও অটুট ভালোবাসার কথাই বলেছেন, যা সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং যা খুঁজে পাওয়া সবার ভাগ্যে জোটে না।
কোন সম্পর্কটি বিসদৃশ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option D: বিরামহীন : অবসন্ন।
বিষয়টা খুব সহজ! একটু খেয়াল করলেই মিলটা ধরা যায়:
- প্রথম তিনটি অপশনে (বাটা : গৃহ, কপাল : অদৃষ্ট, পার্থক্য : ভেদ) সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থের শব্দ জোড়া দেওয়া আছে।
- কিন্তু বিরামহীন মানে হলো যা থামে না বা একটানা চলে, আর অবসন্ন মানে ক্লান্ত বা পরিশ্রান্ত। এই দুটি শব্দ একে অপরের পরিপূরক বা বিপরীতার্থক বিষয়ের মতো কাজ করে, যা বাকিগুলোর সাথে মিলছে না। তাই এটিই বিসদৃশ জোড়া।
What is the meaning of the expression ‘the bottom line’?
এখানে সঠিক উত্তর হলো the essential point in a discussion।
ইংরেজি এই বাগধারাটির (idiom) মাধ্যমে মূলত কোনো আলোচনা, বিতর্ক বা ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে বোঝানো হয়। কোনো দীর্ঘ আলোচনার শেষে যে মূল বিষয় বা সারসংক্ষেপ উঠে আসে, তাকেই খুব সহজে ‘the bottom line’ বলা হয়।
Walking is a good exercise. Here, the word “Walking” is used as a/an —.
এখানে সঠিক উত্তর হলো Gerund। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় যদি আমরা এর কাজ দেখি:
- যখন কোনো Verb-এর সাথে -ing যুক্ত হয়ে সেটি বাক্যে একটি Noun বা বিশেষ্যের মতো কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলা হয়।
- এই বাক্যে 'Walking' শব্দটি বাক্যের Subject হিসেবে বসেছে, যা একটি কাজের নাম বোঝাচ্ছে।
- সহজ ট্রিক হলো, যদি কোনো শব্দকে 'What' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়, তবে সেটি Gerund। যেমন: What is a good exercise? উত্তর আসে—Walking।
যেহেতু এখানে 'Walking' কোনো কাজ চলমান থাকা বোঝাচ্ছে না, বরং একটি বিষয়ের নাম বোঝাচ্ছে, তাই এটি নিশ্চিতভাবেই একটি Gerund।