জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (১৮.১২.২০১৫)
“বাজার শেষ করে বাড়ি” - বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আকাঙ্ক্ষা। কারণটা খুব সহজ!
একটি সার্থক বাক্যের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, বাক্যের এক অংশ শোনার পর অন্য অংশ শোনার যে ইচ্ছা বা আগ্রহ তৈরি হয়, তা পূর্ণ হতে হবে। এখানে "বাজার শেষ করে বাড়ি" বলার পর শ্রোতার মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে— "বাড়ি গিয়ে কী করব?" বা "বাড়ি গিয়ে কী হলো?"
- বাক্যটি অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে, অর্থাৎ শ্রোতার জানার তৃষ্ণা বা আকাঙ্ক্ষা মেটেনি।
- যেহেতু বাক্যের অর্থ পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি এবং আরও কিছু শোনার ইচ্ছা রয়ে গেছে, তাই এখানে আকাঙ্ক্ষার অভাব রয়েছে।
‘জন্ডিস বিবিধ বেলুন’ কোন ধরনের রচনা?
‘জন্ডিস বিবিধ বেলুন’ হলো একটি জনপ্রিয় নাটক। এটি বিখ্যাত নাট্যকার সেলিম আল দীনের লেখা একটি অত্যন্ত চমৎকার সৃষ্টি।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- এই নাটকটি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী নাটক।
- সেলিম আল দীনের নাট্যশৈলীতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা মঞ্চে অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন আসলে মনে রাখবেন, এটি কোনো উপন্যাস বা গল্প নয়, বরং সরাসরি একটি মঞ্চ নাটক।
‘ফুল্লবর’ চরিত্রটি মধ্যযুগের কোন কাব্যে পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর হলো চণ্ডীমঙ্গল। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা এই বিখ্যাত মঙ্গলকাব্যের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কালকেতু ও ফুল্লরাকে কেন্দ্র করে।
- ফুল্লরা হলেন এই কাব্যের অন্যতম প্রধান নারী চরিত্র এবং ব্যাধ কালকেতুর স্ত্রী।
- পুরো কাহিনীতে ফুল্লরার ত্যাগ, কষ্ট এবং দেবী চণ্ডীর প্রতি তার অটল ভক্তি ফুটে উঠেছে।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'ফুল্লরা' নামটির সাথে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।
কোন দুটি যৌগিক বর্ণ?
বাংলা বর্ণমালায় ঐ এবং ঔ-কে যৌগিক স্বরবর্ণ বলা হয়। এগুলোকে যৌগিক বলার কারণ হলো, এগুলো একক কোনো ধ্বনি নয়, বরং দুটি স্বরধ্বনির মিলনে তৈরি হয়েছে। বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায় হলো:
- ঐ তৈরি হয়েছে: $অ + ই$
- ঔ তৈরি হয়েছে: $অ + উ$
সহজ কথায়, যখন দুটি স্বরধ্বনি মিলে একটি নতুন ধ্বনি তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিক স্বর বা যৌগিক বর্ণ বলে। তাই সঠিক উত্তর হলো ঐ, ঔ।
ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করেন যিনি -
এখানে সঠিক উত্তর হলো ব্যয়কুণ্ঠ। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ শব্দটির গঠন বিশ্লেষণ করলেই এর অর্থ পরিষ্কার হয়ে যায়:
- ব্যয় মানে খরচ করা।
- কুণ্ঠ মানে দ্বিধা বা সংকোচ বোধ করা।
অর্থাৎ, যিনি টাকা খরচ করতে দ্বিধা বা সংকোচ বোধ করেন, তাকে এক কথায় বলা হয় ব্যয়কুণ্ঠ। এটি মূলত একটি পারিভাষিক শব্দ যা সরাসরি প্রশ্নের অর্থের সাথে মিলে যায়।
বীরবল কার ছদ্মনাম?
সঠিক উত্তর হলো প্রমথ চৌধুরী। বাংলা সাহিত্যে ছদ্মনাম ব্যবহারের বিষয়টি বেশ মজার এবং মনে রাখা খুব সহজ।
- বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী তাঁর প্রবন্ধ ও সাহিত্য রচনায় 'বীরবল' ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা 'সবুজপত্র'-এর সম্পাদক ছিলেন, যেখানে তাঁর লেখাগুলো এই ছদ্মনামেই প্রকাশিত হতো।
সহজ কথায়, যখনই আপনি কোনো সাহিত্যিক আলোচনায় 'বীরবল' নামটি দেখবেন, চোখ বন্ধ করে ধরে নেবেন এটি প্রমথ চৌধুরীরই অন্য নাম!
প্র, পরা - কোন ধরনের উপসর্গ?
সঠিক উত্তর হলো সংস্কৃত উপসর্গ। বাংলা ভাষায় মোট ২০টি সংস্কৃত উপসর্গ রয়েছে, যার মধ্যে 'প্র' এবং 'পরা' অন্যতম।
সহজে মনে রাখার জন্য এই ছোট কৌশলটি খেয়াল করুন:
- সংস্কৃত উপসর্গগুলো মূলত তৎসম শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
- 'প্র', 'পরা', 'অপ', 'সম', 'নি', 'অনু', 'অব', 'নির', 'দুর', 'বি', 'অধি', 'সু', 'উৎ', 'পরি', 'প্রতি', 'অতি', 'অপি', 'অভি', 'উপ', 'আ' — এই ২০টি উপসর্গ মুখস্থ রাখলে যেকোনো পরীক্ষায় খুব দ্রুত উত্তর দেওয়া সম্ভব।
- যেহেতু 'প্র' এবং 'পরা' এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তাই এগুলো নিঃসন্দেহে সংস্কৃত উপসর্গ।