জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (২৭.০৬.২০১৬)
‘চর্যাপদ’ প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্তری নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন। এরপর ১৯১৬ সালে (বঙ্গাব্দ ১৩২৩) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয়।
‘খনার বচন’ বেশির ভাগ কী নিয়ে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কৃষি।
খনা ছিলেন প্রাচীন বাংলার একজন বিদুষী নারী ও জ্যোতিক্ষয়ী। তাঁর রচিত বচনগুলোতে মূলত আবহাওয়া, শস্য উৎপাদন, চাষাবাদ এবং কৃষিকাজের সঠিক সময় সম্পর্কে চমৎকার ও বাস্তবসম্মত সব দিকনির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তাই খনার বচন বলতেই প্রধানত কৃষ-সংক্রান্ত উপদেশ ও অভিজ্ঞতাকেই বোঝায়।
মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্য রচনায় কোন মুসলিম শাসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আলাউদ্দিন হুসেন শাহ। কারণ মধ্যযুগের বাঙালি সুলতানদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রসারে তাঁর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তাঁর রাজত্বকালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।
- তাঁর ও তাঁর মন্ত্রীদের উৎসাহে মহাভারত, ভাগবত পুরাণসহ বিভিন্ন সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলায় অনূদিত হতে শুরু করে।
- মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণ বিজয়' কাব্য রচনায় তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা ছিল উল্লেখযোগ্য।
- তাঁর আমলেই মূলত বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের পথচলা আরও বেগবান ও সমৃদ্ধ হয়।
‘ইউসুফ জুলেখা’ কাব্য কোন কবির রচনা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: শাহ মুহম্মদ সগীর।
বিষয়টা খুব সহজভাবে মনে রাখতে পারেন—বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন এবং সুলতানি আমলের (গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকাল) অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রথম প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যটি রচনা করেছেন কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তাই প্রাচীন ও মধ্যযুগের কবিদের ক্ষেত্রে এই নামটাই সবচেয়ে আগে মাথায় রাখতে হবে!
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় তাঁর পদগুলো রচনা করেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মৈথিলি ভাষা। মহাকবি বিদ্যাপতি মূলত মৈথিলি ভাষার কবি ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাঁর পদগুলোর অনুকরণে বাংলা ও মৈথিলি ভাষার মিশ্রণে এক কৃত্রিম কাব্যভাষার সৃষ্টি হয়, যাকে 'ব্রজবুলি' বলা হয়। কিন্তু বিদ্যাপতি তাঁর মূল পদগুলো তাঁর মাতৃভাষা মৈথিলি তেই রচনা করেছিলেন।
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন মঙ্গল কাব্য ধারার কবি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চণ্ডীমঙ্গল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (যিনি 'কবিকঙ্কণ' উপাধিতে ভূষিত) চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের জন্য সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত। তাঁর রচিত 'অভয়াঙ্গল' বা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি সে সময়ের সমাজচিত্র ও মানুষের জীবনযাত্রার এক চমৎকার দলিল।
‘মর্সিয়া’ কি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শোকগীতি।
‘মর্সিয়া’ শব্দটির অর্থ বিলাপ বা শোক প্রকাশ করা। সাহিত্য বা সংগীতের ভাষায় কারবালার শোকাবহ ঘটনা এবং শহিদদের স্মরণে রচিত ও গীত মরমী শোকগাথাকেই মূলত ‘মর্সিয়া’ বলা হয়। তাই এটি স্পষ্টতই একটি শোকগীতি।
‘চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা’ - বাক্যটি কার রচনা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
খুব সহজে মনে রাখার জন্য মনে রাখতে পারো, উনি উনিশ শতকের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন কবি ছিলেন এবং তাঁর কবিতায় সমাজজীবনের নানা বাস্তব চিত্র ও উপদেশমূলক কথা খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠত। ‘চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা’—এই লাইনটি মূলত তাঁরই একটি বিখ্যাত রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা পরিশ্রম ও চেষ্টার গুরুত্ব বোঝাতে বারবার বলা হয়।
বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক -
এখানে সঠিক উত্তর হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের (যে ছন্দে চরণের অন্তে মিল থাকে না) প্রবর্তক বা জনক হলেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি বাংলা কাব্যে প্রথম সার্থকভাবে এই ছন্দের ব্যবহার করেন, যার সবচেয়ে উজ্জ্বল নিদর্শন হলো তাঁর বিখ্যাত 'তিলোতমাভসম্ভব কাব্য' এবং মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
কোনটি ‘বিষাদ সিন্ধু’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কুবের।
মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনা ও বিভিন্ন চরিত্র যেমন—হোসেন, জয়নব, কাসেমসহ অনেকেই স্থান পেয়েছেন। অন্যদিকে, কুবের হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধান চরিত্র। তাই কুবের এই উপন্যাসের চরিত্র নয়।