দুর্নীতি দমন কমিশনের কোর্ট পরিদর্শক পরীক্ষা (২৬.১১.২০২২)
'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নির্মলেন্দু গুণ।
খুব সহজে মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে পারেন যে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে লেখা বিখ্যাত এই কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন আমাদের দেশের প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ। তাঁর কাব্যচর্চায় এমন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রায়ই খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মুক্তি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা হলো 'মুক্তি'। ১৯১৯ সালে (বাংলা ১৩২৬ সনের জ্যৈষ্ঠ মাসে) 'বাঙালি' পত্রিকায় তাঁর এই কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। যদিও তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতাটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি এনে দিয়েছিল, তবে সাহিত্যিক জীবনে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল 'মুক্তি' কবিতার মাধ্যমেই।
বাংলা কবিতার আধুনিকতার প্রবক্তা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
কারণ বাংলা কবিতায় তিনিই প্রথম গতানুগতিক ধারা ভেঙে আধুনিক চেतना, অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করেন। তাঁর অমর সৃষ্টি 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যকে এনে দেয় এক আধুনিক ও বিশ্বজনীন রূপ। তাই তাঁকেই বাংলা কবিতার আধুনিকতার মূল প্রবক্তা বলা হয়।
'লালসালু' উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রাজিয়া। কারণ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত 'লালসালু' উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্রগুলো হলো মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী প্রমুখ। রাজিয়া এই উপন্যাসের কোনো চরিত্র নয়, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
'পিশাচ > পিচাশ' এরূপ পরিবর্তনকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ধ্বনি বিপর্যয়।
শব্দের মধ্যে থাকা দুটি ধ্বনি বা বর্ণ নিজেদের মধ্যে স্থান পরিবর্তন করলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলা হয়। যেমন—
- 'পিশাচ' শব্দটিতে 'শ' এবং 'চ' একে অপরের সাথে জায়গা বদল করে হয়ে গেছে 'পিচাশ'।
- সহজ কথায়, উচ্চারণ সহজ করতে পাশাপাশি বা কাছাকাছি থাকা দুই বর্ণের পারস্পরিক স্থান পরিবর্তনই হলো ধ্বনি বিপর্যয়।
'রবীন্দ্র' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রবি + ইন্দ্র।
সন্ধি ভাঙার নিয়মটা খুব সহজ:
- প্রথম শব্দটির শেষে হ্রস্ব-ই কার ($ই$) আছে: রবি ($\text{রবি} \rightarrow \text{রব} + \text{ই}$)
- দ্বিতীয় শব্দটির শুরুতে হ্রস্ব-ই ($ই$) আছে: ইন্দ্র
- দুটি মিলে অর্থাৎ $ই + ই$ দীর্ঘ-ঈ ($ঈ$) হয়ে শব্দটি হয়েছে রবীন্দ্র ($রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র$)।
একটি অপূর্ণ বাক্যের শেষে অন্য বাক্যের অবতারণা করতে কী চিহ্ন বসে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কোলন। যখন একটি অসম্পূর্ণ বাক্যের ঠিক পরেই অন্য কোনো ভাব বা বাক্যের অবতারণা করা হয়, তখন তার সংযোগ বা স্পষ্টীকরণের জন্য কোলন (:) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন: সভায় সিদ্ধান্ত হলো: আগামী কাল থেকে স্কুল বন্ধ থাকবে। তাই কোনো অসমাপ্ত বাক্যের পর তার ব্যাখ্যা বা বিস্তারিত টানতে কোলন বসানোই নিয়ম।
'মৌমাছি' কোন সমাস?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কর্মধারয়।
খুব সহজ একটা টেকনিক দিয়ে এটা মনে রাখা যায়:
- যে মৌ, সেই মাছি = মৌমাছি।
- এখানে 'মৌ' (মধু) এবং 'মাছি' দুটি পদ মিলে একটি নির্দিষ্ট পোকাকে বোঝাচ্ছে এবং ব্যাসবাক্যে 'যে... সেই' পদটি ব্যবহার করা হয়েছে।
- যেহেতু বিশেষণ বা বিশেষ্য পদের সাথে পরপদের এমনভাবে সমাস হয় যেখানে পরপদের অর্থই প্রধান থাকে এবং মাঝখানে 'যে সে', 'যিনি তিনি' বা 'যা তা' থাকে, তাই এটি কর্মধারয় সমাস।
'জানালা' শব্দটি যে ভাষা থেকে আগত—
এখানে সঠিক উত্তর হলো পর্তুগিজ।
আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারে অনেক বিদেশি শব্দ মিশে আছে। এর মধ্যে ঘরবাড়ি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু জিনিসপত্র যেমন— জানালা, আলমারি, চাবি, বালতি, সাবান ইত্যাদি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। বিষয়টি সহজে মনে রাখতে পর্তুগিজ সংস্কৃতির সাথে জড়িত পরিচিত এই শব্দগুলো মাথায় রাখতে পারেন।
চর্যাপদ-এর আদিপদ রচয়িতা—
এখানে সঠিক উত্তর হলো লুইপা। চর্যাপদের প্রথম পদটি তিনিই রচনা করেছিলেন।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- চর্যাপদের আদি বা প্রথম পদ রচয়িতা হলেন লুইপা।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, লুইপাই চর্যাপদের সবচেয়ে পুরোনো কবি।
- তার রচিত পদটি দিয়েই চর্যাপদের পুথি শুরু হয়েছিল (পদ নং ১)।