বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)-এর সিনিয়র অফিসার (২২.১০.২০২১)
ক্রিয়ার প্রথম অংশকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ধাতু। খুব সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো ক্রিয়াপদের মূল অংশ বা যে অংশ থেকে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকেই ব্যাকরণে ধাতু বলা হয়।
যেমন— 'কর' (করা থেকে), 'পড়' (পড়া থেকে), বা 'যা' (যাওয়া থেকে)—এগুলো হলো একেকটি ধাতু। এর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়েই পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
নিচের কোনটি 'গোঁফ খেজুরে' অর্থ প্রকাশ করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো খুব অলস।
'গোঁফ খেজুরে' একটি অত্যন্ত পরিচিত বাংলা বাগধারা। এর শাব্দিক অর্থ কিছুটা হাস্যকর হলেও, এর আসল ভাবার্থ হলো এমন একজন ব্যক্তি যিনি অত্যন্ত অলস, কর্মবিমুখ এবং কোনো কাজ করতেই চান না। তাই অলসতা বোঝাতে এই সুন্দর বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
'সবিতা' শব্দের সঠিক প্রতিশব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সূর্য।
খুব সহজেই মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে পারেন, 'সবিতা' হলো সূর্যের একটি অতি পরিচিত ও সুন্দর প্রতিশব্দ। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায়ই এই ধরনের সমার্থক শব্দগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আসে, তাই মূল শব্দটি দেখেই যেন সরাসরি সূর্যকে চিনে নেওয়া যায়, সেভাবে প্রস্তুতি রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ!
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সন্ধি।
খুব সহজেই বিষয়টি মনে রাখতে পারেন:
- পাশাপাশি থাকা দুটি ধ্বনির দ্রুত বা একসাথে মিলনকে ব্যাকরণের ভাষায় সন্ধি বলা হয়। যেমন: বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
- পক্ষান্তরে, একাধিক পদের একপদীকরণ হলো সমাস। তাই ধ্বনির মিলনের ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে সন্ধি দাগিয়ে দিতে পারেন!
'ক্লীবলিঙ্গ' শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গাড়ি। বাংলা ব্যাকরণে যে শব্দ দিয়ে স্ত্রী বা পুরুষ কোনোটিকেই বোঝায় না, অর্থাৎ অচেতন বা জড় পদার্থ বোঝায়, তাকে ক্লীবলিঙ্গ বলা হয়।
সহজ কথায়:
- মানুষ, পাখি এবং শিক্ষক—এগুলো দ্বারা জীব বা প্রাণ বোঝায়, তাই এগুলো ক্লীবলিঙ্গ নয়।
- অন্যদিকে গাড়ি একটি জড় পদার্থ, তাই এটি ক্লীবলিঙ্গ বা ক্লীব লিঙ্গের শব্দ।
'গণপ্রজাতন্ত্রী' কোন শ্রেণির শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তৎসম।
খুব সহজেই চেনার উপায় হলো— 'গণপ্রজাতন্ত্রী' শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে। আর যে শব্দগুলো সংস্কৃত থেকে হুবহু অপরাজিত বা অপরিবর্তিত অবস্থায় বাংলায় ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। 'গণ' এবং 'প্রজাতন্ত্র'—দুটি অংশই সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম মেনে তৈরি খাঁটি সংস্কৃত শব্দ।
'লোকে কিনা বলে'-বাক্যের 'লোক' শব্দের আগে কোন বিভক্তি যুক্ত আছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: এ। কারণ মূল শব্দ হলো 'লোক'। এর সাথে অতিরিক্ত 'এ' ধ্বনি বা বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'লোকে' রূপ নিয়েছে, যা বাক্যটিতে কর্তাকারকের বহুবচন বা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করেছে।
মেঘে বৃষ্টি হয়। মেঘে কোন কারক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অপাদান কারক। কারণটা খুব সহজ:
- বাক্যটিতে বলা হয়েছে 'মেঘে বৃষ্টি হয়'। অর্থাৎ, মেঘ থেকে বৃষ্টির উৎপত্তি বা সৃষ্টি হচ্ছে।
- যেখান থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, বিরত, উৎপন্ন বা ভয় পায় — তাকেই ব্যাকরণের নিয়মে অপাদান কারক বলা হয়।
- যেহেতু এখানে মেঘ থেকেই বৃষ্টির সৃষ্টি বা উৎপত্তি বোঝাচ্ছে, তাই 'মেঘে' শব্দটি স্পষ্টতই অপাদান কারক।
বাঘের ভয়ে সকলে ভীত। বাঘের কোন কারক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অপাদান কারক। খুব সহজ একটা টেকনিক দিয়ে এটা মনে রাখা যায়:
- বাক্যে যার বা যা থেকে ভয়, ভীতি, বা উৎপন্ন হওয়া বোঝায়, সেটাই অপাদান কারক।
- এখানে বাঘকে দেখে বা বাঘের ভয়ে মানুষ ভীত হয়েছে, অর্থাৎ বাঘ হলো ভয়ের উৎস।
- উৎস, ভীতি বা রক্ষিত হওয়ার অর্থ প্রকাশ পাওয়ায় 'বাঘের' শব্দটি অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
অর্থ অনর্থ ঘটায়: অনর্থ কোন কারক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কর্মকারক। বাক্যটিতে 'অর্থ অনর্থ ঘটায়' — কী ঘটায়? 'অনর্থ' ঘটায়।
- ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটাই মূলত কর্মকারক।
- এখানে 'ঘটায়' হলো ক্রিয়াপদ এবং 'অনর্থ' হলো কর্মপদ। তাই এটি খুব সহজেই কর্মকারক হিসেবে নির্ধারিত হয়।