১০ম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1989
(.1 x .01 x .001)/(.2 x .02 x .002) এর মান কত ?
এই অংকটি খুব সহজেই সমাধান করা যায় যদি আমরা দশমিকের পরের ঘরগুলো খেয়াল করি। লব এবং হরের দশমিকের সংখ্যা সমান হওয়ায় আমরা দশমিক তুলে দিয়ে সরাসরি কাটাকাটি করতে পারি।
- লব এবং হর উভয় ক্ষেত্রেই দশমিকের পর মোট ৩টি করে সংখ্যা আছে। তাই দশমিক তুলে দিলে আমরা পাই:
- $$\frac{1 \times 1 \times 1}{2 \times 2 \times 2}$$
- এখন গুণফল বের করলে দাঁড়ায়:
- $$\frac{1}{8}$$
অর্থাৎ, লব ও হরের দশমিকের অবস্থান একই হওয়ায় দশমিকগুলো একে অপরকে নাকচ করে দেয় এবং খুব সহজেই আমরা 1/8 উত্তরটি পেয়ে যাই।
‘অগ্নিশ্বর’, ‘কানাইবাসী’, ‘মোহনবাঁসী’ ও ‘বীটজব’ কী জাতীয় ফলের নাম ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কলা। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ এই নামগুলো মূলত উন্নত জাতের কলার পরিচিত নাম।
- অগ্নিশ্বর, কানাইবাসী, মোহনবাঁসী এবং বীটজব—এগুলো সবই বাংলাদেশে চাষ হওয়া জনপ্রিয় ও সুস্বাদু কলার জাত।
- সাধারণত কৃষি গবেষণায় বা স্থানীয়ভাবে কলার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এই নামকরণ করা হয়।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই ধরনের প্রশ্ন আসে, তাই কলার এই বিশেষ জাতগুলোর নাম মনে রাখলে খুব সহজেই উত্তর দেওয়া সম্ভব।
‘আনারস’ ও ‘চাবি’ শব্দ দু’টি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে -
এখানে সঠিক উত্তর হলো পর্তুগিজ ভাষা হতে। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় শব্দ পর্তুগিজদের কাছ থেকে এসেছে।
সহজে মনে রাখার জন্য নিচের তালিকাটি খেয়াল করুন:
- পর্তুগিজরা দীর্ঘ সময় বাংলায় বাণিজ্য করেছে, তাই তাদের ব্যবহৃত অনেক শব্দ আমাদের ভাষায় মিশে গেছে।
- আনারস, চাবি, আলমারি, বালতি, সাবান এবং পাউরুটি—এই শব্দগুলো মূলত পর্তুগিজ ভাষা থেকেই সরাসরি বাংলায় এসেছে।
- পরীক্ষায় এই ধরনের শব্দগুলো প্রায়ই আসে, তাই এই কয়েকটি শব্দ একটি ছোট তালিকার মতো মনে রাখলে খুব সহজেই উত্তর করা সম্ভব।
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচিয়তা -
এখানে সঠিক উত্তর হলো আবদুল গাফফার চৌধুরী। অমর একুশের এই বিখ্যাত গানটির কথা লিখেছেন তিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই গানটি আমাদের জাতীয় চেতনার এক অনন্য প্রতীক, যার সুরকার ছিলেন আলতাফ মাহমুদ।
‘উভয়কুল রক্ষা’ অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে। প্রবচনটির অর্থ হলো এমন কোনো কাজ করা, যেখানে নিজের কোনো ক্ষতি না করে উদ্দেশ্য হাসিল করা যায়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- সাপ মারা: এটি হলো মূল লক্ষ্য বা কাজ সম্পন্ন করা।
- লাঠি না ভাঙ্গা: এটি হলো নিজের সম্পদ বা স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা।
অর্থাৎ, যখন কোনো পরিস্থিতিতে আমরা এমন কৌশল অবলম্বন করি যাতে কাজও হয় আবার নিজের কোনো ক্ষতিও হয় না, তখনই এই প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। এটিই 'উভয়কুল রক্ষা' করার সবচেয়ে চমৎকার উদাহরণ।
‘রত্নাকর ’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কর -
‘রত্নাকর’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো রত্ন + আকর। এটি মূলত স্বরসন্ধির একটি চমৎকার উদাহরণ। বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য নিচের ধাপগুলো দেখুন:
- এখানে প্রথম শব্দের শেষে অ-কার (রত্ন + অ) এবং দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে আ-কার (আকর) রয়েছে।
- সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, অ + আ মিলে দীর্ঘ আ-কার (া) হয়।
- অর্থাৎ, রত্ন + আকর = রত্নাকর।
সহজ কথায়, রত্ন (রত্ন) এবং আকর (খনি) মিলে তৈরি হয়েছে রত্নাকর, যার অর্থ হলো রত্নের খনি।
১ হতে ৩০ পর্যন্ত কয়টি মৌলিক সংখ্যা আছে ?
১ হতে ৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যাগুলো খুঁজে বের করা খুবই সহজ। মৌলিক সংখ্যা হলো সেই সব সংখ্যা, যাদের ১ এবং ওই সংখ্যা ছাড়া অন্য কোনো গুণনীয়ক নেই।
চলুন সংখ্যাগুলো গুনে দেখি:
- ১ থেকে ১০ এর মধ্যে আছে: ২, ৩, ৫, ৭ (মোট ৪টি)
- ১১ থেকে ২০ এর মধ্যে আছে: ১১, ১৩, ১৭, ১৯ (মোট ৪টি)
- ২১ থেকে ৩০ এর মধ্যে আছে: ২৩, ২৯ (মোট ২টি)
এখন সবগুলো যোগ করলে আমরা পাই: $4 + 4 + 2 = 10$। তাই ১ হতে ৩০ পর্যন্ত মোট ১০টি মৌলিক সংখ্যা রয়েছে।
১ হতে ৪৯ পর্যন্ত ক্রমিক সংখ্যাগুলোর গড় কত ?
১ হতে ৪৯ পর্যন্ত ক্রমিক সংখ্যাগুলোর গড় বের করা খুবই সহজ। যখন কোনো ধারার সংখ্যাগুলো সমান্তর বা ক্রমিক থাকে, তখন গড় বের করার সবচেয়ে দ্রুত নিয়ম হলো প্রথম ও শেষ সংখ্যার যোগফলকে ২ দিয়ে ভাগ করা।
- এখানে প্রথম সংখ্যাটি হলো $1$ এবং শেষ সংখ্যাটি হলো $49$।
- গড় নির্ণয়ের সূত্রটি হলো: $\frac{\text{প্রথম সংখ্যা} + \text{শেষ সংখ্যা}}{2}$
- অর্থাৎ, $\frac{1 + 49}{2} = \frac{50}{2} = 25$
তাই সঠিক উত্তর হলো ২৫। এই শর্টকাট পদ্ধতিটি ব্যবহার করলে যেকোনো ক্রমিক সংখ্যার গড় আপনি কয়েক সেকেন্ডেই বের করে ফেলতে পারবেন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পটভূমিতে রচিত 'কবর' নাটকের নাট্যকার কে?
সঠিক উত্তর হলো মুনীর চৌধুরী।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত কালজয়ী নাটক 'কবর'-এর রচয়িতা হলেন মুনীর চৌধুরী। এই নাটকটি তিনি লিখেছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায়।
- নাটকের নাম: কবর
- নাট্যকার: মুনীর চৌধুরী
- প্রেক্ষাপট: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাটক, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। তাই পরীক্ষার জন্য এই তথ্যটি একদম ঠোঁটস্থ করে রাখা জরুরি!
১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিকে বাংলাদেশের কোন ভাস্করের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায় ?
১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান। তার শিল্পকর্মটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- ঘটনা: ১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিক।
- অর্জন: বাংলাদেশের ভাস্কর্য শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্ব: হামিদুজ্জামান খান, যিনি তার সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন।
তাই সঠিক উত্তর হলো হামিদুজ্জামান খান। তার এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে আছে।