১১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1990
বৈরাগ্য সাধনে ___ সে আমার নয়। শূন্যস্থান পূরণ করুন।
এখানে সঠিক উত্তর হলো মুক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা 'বৈরাগ্য সাধনে' থেকে এই লাইনটি নেওয়া হয়েছে। পুরো লাইনটি হলো: "বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়।"
সহজ কথায়, কবি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, সংসার ত্যাগ করে বা সন্ন্যাসী হয়ে ঈশ্বরকে পাওয়া বা মুক্তি লাভ করা তার পথ নয়। তিনি মানুষের ভিড়ে, সংসারের কাজের মাঝেই পরমাত্মাকে খুঁজে পেতে চান। তাই এই শূন্যস্থানে মুক্তি শব্দটিই সবচেয়ে উপযুক্ত।
সমাস ভাষাকে ___
এখানে সঠিক উত্তর হলো সংক্ষিপ্ত করে। সমাসের মূল কাজই হলো বড় কোনো বাক্য বা বাক্যাংশকে ছোট করে একটি শব্দে রূপান্তর করা।
- সহজ কথায়: অনেকগুলো পদের মিলন ঘটিয়ে একটি মাত্র পদে পরিণত করাই সমাসের কাজ।
- উদাহরণ: 'সিংহাসন' শব্দটি আসলে 'সিংহ চিহ্নিত আসন'—এই বড় বাক্যটির সংক্ষিপ্ত রূপ।
- কেন এটি কার্যকর: সমাস ব্যবহারের ফলে ভাষার বাহুল্য কমে এবং কথা বলা বা লেখার সময় অনেক বেশি শ্রুতিমধুর ও সংক্ষিপ্ত হয়।
‘সূর্য’ এর প্রতিশব্দ
এখানে সঠিক উত্তর হলো আদিত্য। সূর্যকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়, যার মধ্যে 'আদিত্য' অন্যতম।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়টি খেয়াল করতে পারেন:
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী, অদিতির গর্ভজাত সন্তান বলেই সূর্যকে আদিত্য বলা হয়।
- সূর্যের আরও কিছু পরিচিত প্রতিশব্দ হলো: রবি, ভাস্কর, দিনমণি, সবিতা এবং দিবাকর।
অন্যান্য অপশনগুলো (সুধাংশু, শশাঙ্ক, বিধু) মূলত চাঁদের প্রতিশব্দ, তাই সেগুলো এখানে প্রযোজ্য নয়।
‘অর্ধচন্দ্র’-এর অর্থ
‘অর্ধচন্দ্র’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো গলাধাক্কা দেয়া।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। এর পেছনের কারণগুলো হলো:
- বাস্তব জীবনে কাউকে যখন অপমান করে বের করে দেওয়া হয়, তখন হাত দিয়ে ঘাড় বা গলা চেপে ধরা হয়।
- এই হাত বাঁকানো অবস্থায় দেখতে অনেকটা অর্ধচন্দ্র বা অর্ধেক চাঁদের মতো লাগে।
- এ কারণেই কাউকে অপমান করে বের করে দেওয়া বা তাড়িয়ে দেওয়াকে রূপক অর্থে গলাধাক্কা দেওয়া বা ‘অর্ধচন্দ্র’ বলা হয়।
সহজ কথায়, কাউকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার দৃশ্যটিই এই বাগধারার মূল ভিত্তি।
বেগম রােকেয়ার রচনা কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো অবরোধবাসিনী। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা এই বিখ্যাত গ্রন্থটি মূলত তৎকালীন সমাজের নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কঠোর পর্দা প্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একটি তীব্র প্রতিবাদ।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- বেগম রোকেয়াকে বলা হয় নারী জাগরণের অগ্রদূত।
- তাঁর লেখনীর মূল উপজীব্য ছিল নারীর মুক্তি ও অবরোধ প্রথার সমালোচনা।
- অবরোধবাসিনী নামটি দেখলেই বোঝা যায় এটি নারীদের বন্দিদশা নিয়ে লেখা, যা বেগম রোকেয়ার আদর্শের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
বাংলা গীতিকবিতায় ‘ভােরের পাখি’ কে?
বাংলা গীতিকবিতার ধারায় বিহারীলাল চক্রবর্তী-কে ‘ভোরের পাখি’ বলা হয়। এই বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই বিহারীলালকে এই উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক গীতিকবিতার সূচনা তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল, ঠিক যেমন ভোরের আলো ফুটে উঠলে নতুন দিনের সূচনা হয়।
- তাঁর কবিতার স্নিগ্ধতা এবং প্রকৃতিপ্রেমের কারণেই তাঁকে ভোরের পাখির সাথে তুলনা করা হয়।
তাই সাহিত্যিক আলোচনায় যখনই ‘ভোরের পাখি’র কথা আসবে, চোখ বন্ধ করে বিহারীলাল চক্রবর্তী-কে বেছে নিতে পারেন। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
‘সংশয়’-এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো প্রত্যয়।
বিষয়টা খুব সহজ। ‘সংশয়’ শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু নিয়ে সন্দেহ বা দ্বিধা থাকা। এর বিপরীত অবস্থা হলো কোনো কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া বা দৃঢ় বিশ্বাস রাখা। এই দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তাকেই বলা হয় ‘প্রত্যয়’।
- সংশয়: সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা।
- প্রত্যয়: দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা।
তাই ব্যাকরণগতভাবে সংশয়ের বিপরীত শব্দ হিসেবে প্রত্যয় সবচেয়ে উপযুক্ত।
‘ক্ষমার যােগ্য’-এর বাক্য সংকোচন
‘ক্ষমার যোগ্য’ বা যাকে ক্ষমা করা যায়, তাকে এক কথায় বলা হয় ক্ষমার্হ।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- এখানে ‘ক্ষমা’ শব্দের সাথে ‘অহ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- ব্যাকরণগতভাবে কোনো কিছু পাওয়ার বা হওয়ার যোগ্য বোঝাতে আমরা প্রায়ই শব্দের শেষে ‘অহ’ বা ‘ইত’ যুক্ত করি।
- তাই ‘ক্ষমা’ + ‘অহ’ মিলে খুব সহজেই মনে রাখা যায় শব্দটি হবে ক্ষমার্হ।
_ সেপ্টেম্বর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস। শূন্যস্থান পূরণ করুন।
সঠিক উত্তর হলো ৮। প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল অনুসরণ করতে পারেন:
- সাক্ষরতা দিবস মানেই শিক্ষার আলো ছড়ানো।
- ইউনেস্কো (UNESCO) ১৯৬৬ সালে এই দিনটিকে বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- সহজভাবে মনে রাখুন: ৮ সেপ্টেম্বর মানেই সাক্ষরতার দিন।
এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের কাছে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিশ্বব্যাপী শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য সচেতনতা তৈরি করা।
‘মােস্তফা চরিত’ গ্রন্থের রচয়িতা
‘মোস্তফা চরিত’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন মওলানা আকরম খাঁ। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
- মওলানা আকরম খাঁ ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং লেখক।
- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী নিয়ে লেখা এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় সিরাত সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
- সহজ ও সাবলীল ভাষায় নবীজির জীবন ও আদর্শ ফুটিয়ে তোলাই এই বইটির মূল বৈশিষ্ট্য।