১২তম (বিশেষ) বিসিএস (পুলিশ) প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1991
প্রবল জোয়ারের কারণ ,যখন -
প্রবল জোয়ার বা ভরা কোটাল হওয়ার মূল কারণ হলো সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর অবস্থান। যখন এই তিনটি জ্যোতিষ্ক একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন জোয়ারের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয়। এর পেছনের সহজ যুক্তিগুলো হলো:
- মহাকর্ষীয় বলের যোগফল: সূর্য এবং চন্দ্র যখন একই সরলরেখায় থাকে, তখন তাদের সম্মিলিত মহাকর্ষীয় আকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর ওপর কাজ করে।
- একমুখী টান: সূর্য ও চন্দ্রের এই মিলিত আকর্ষণ পৃথিবীর জলরাশিকে একই দিকে প্রবলভাবে টেনে উপরে তুলে আনে, ফলে সমুদ্রের জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ফুলে ওঠে।
- অবস্থান: অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী যখন এক সরলরেখায় (Syzygy) অবস্থান করে, তখনই এই প্রবল জোয়ার বা ভরা কোটাল সৃষ্টি হয়।
সহজ কথায়, সূর্য ও চন্দ্রের মিলিত শক্তির টানেই পৃথিবীর জলরাশি এভাবে ফুলে ফেঁপে ওঠে, যা আমরা প্রবল জোয়ার হিসেবে দেখি।
আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় -
আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর মূল কারণ হলো মেঘের ভেতরে থাকা অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণার পারস্পরিক ঘর্ষণ। এই ঘর্ষণের ফলে মেঘের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে স্থির বিদ্যুৎ বা চার্জ জমা হয়।
- মেঘের ওপরের দিকে ধনাত্মক চার্জ এবং নিচের দিকে ঋণাত্মক চার্জ জমা হতে থাকে।
- যখন এই চার্জের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, তখন বাতাসের মধ্য দিয়ে বিশাল এক বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়।
- এই বৈদ্যুতিক ডিসচার্জ বা চার্জের আদান-প্রদানই আমাদের চোখে বিদ্যুৎ চমক হিসেবে ধরা দেয়।
সহজ কথায়, মেঘের কণাগুলোর মধ্যে ঘর্ষণের ফলে চার্জের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলেই বিদ্যুৎ চমকায়।
হাজার হ্রদের দেশ কোনটি ?
সঠিক উত্তর হলো ফিনল্যাণ্ড। এই দেশটিকে কেন 'হাজার হ্রদের দেশ' বলা হয়, তা খুব সহজেই বোঝা যায়:
- ফিনল্যাণ্ডে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১,৮৮,০০০-এর বেশি হ্রদ রয়েছে।
- দেশটির ভৌগোলিক আয়তনের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে এই স্বচ্ছ পানির হ্রদগুলো।
- বরফ যুগের হিমবাহের প্রভাবে এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, সেখানে প্রচুর প্রাকৃতিক জলাধার বা হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে।
সহজ কথায়, দেশটির মানচিত্রের দিকে তাকালে আপনি চারদিকে শুধু পানির আধার বা হ্রদ দেখতে পাবেন, তাই একে আদর করে 'হাজার হ্রদের দেশ' বলা হয়।
প্রাচীনতম বাঙ্গালী মুসলমান কবি কে?
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাচীনতম মুসলমান কবি হিসেবে শাহ্ মুহাম্মাদ সগীর-কে গণ্য করা হয়। তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪১০ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- সময়কাল: তিনি চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগের কবি, যা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের আদি ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে।
- অবদান: তাঁর 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।
তাই, প্রাচীনতম বাঙ্গালী মুসলমান কবি হিসেবে তাঁর নামই সবার আগে আসে।
'অনল-প্রবাহ' রচনা করেন-
সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। 'অনল-প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থটি মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি অগ্নিঝরা সৃষ্টি। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য কবিকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিছু সহজ তথ্য মনে রাখলে এটি আর ভুলবেন না:
- লেখক: সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি।
- প্রকাশকাল: ১৯০০ সাল।
- মূল বৈশিষ্ট্য: এটি একটি দেশাত্মবোধক কাব্যগ্রন্থ, যা তৎকালীন সময়ে পাঠকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।
পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই কবির নাম এবং তাঁর এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটির নাম একসাথে মনে রাখলে সহজেই উত্তর দেওয়া সম্ভব।
ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলে---
এখানে সঠিক উত্তর হলো ধাতু। বিষয়টি খুব সহজ, ব্যাকরণের ভাষায় ক্রিয়াপদকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে যে অবিভাজ্য মূল অংশটি পাওয়া যায়, তাকেই ধাতু বলা হয়।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- ক্রিয়াপদ তৈরি হয় ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রত্যয় বা বিভক্তি যুক্ত হয়ে।
- যেমন, 'করছি' একটি ক্রিয়াপদ। একে ভাঙলে পাওয়া যায় কর + ছি। এখানে 'কর' হলো মূল অংশ বা ধাতু।
- ঠিক একইভাবে, 'চলন্ত' শব্দটির মূল ধাতু হলো চল।
অর্থাৎ, কোনো ক্রিয়াপদ থেকে সব বাড়তি অংশ সরিয়ে ফেললে যে মূল রূপটি অবশিষ্ট থাকে, সেটিই হলো ধাতু।
বটতলার পুঁথি বলতে বোঝায়_
সঠিক উত্তর হলো দোভাষী বাংলা রচিত পুঁথি সাহিত্য। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- উনিশ শতকের দিকে কলকাতার বটতলা এলাকা থেকে সস্তা ও জনপ্রিয় কিছু বই ছাপা হতো।
- এই বইগুলোতে বাংলা, আরবি ও ফারসি শব্দের মিশ্রণে এক বিশেষ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হতো, যাকে বলা হয় দোভাষী বাংলা।
- সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করার জন্য এই পুঁথিগুলোতে ধর্মীয় ও লৌকিক কাহিনী সহজ ভাষায় তুলে ধরা হতো।
- তাই বটতলার ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত এই বিশেষ ঘরানার সাহিত্যই মূলত দোভাষী পুঁথি সাহিত্য নামে পরিচিত।
বাস্তিল দুর্গের পতন হয় কত সালে?
বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটেছিল ১৭৮৯ সালে। ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিষয়টি মনে রাখার জন্য নিচের ধাপগুলো খেয়াল করুন:
- ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- প্যারিসের সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের প্রতীক হিসেবে বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে এবং এর পতন ঘটায়।
- এই ঘটনাটিই মূলত রাজতন্ত্রের পতনের পথ প্রশস্ত করে এবং আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করে।
সহজ কথায়, ১৭৮৯ সালটি ফরাসি বিপ্লবের শুরুর বছর হিসেবে মনে রাখলেই বাস্তিল দুর্গের পতনের সালটি আর ভুলবেন না।
বাংলাদেশে উন্নত মানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে কোথায়?
বাংলাদেশে উন্নত মানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে জামালগঞ্জে। এটি মূলত জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ:
- জামালগঞ্জ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি হিসেবে পরিচিত।
- এখানে যে কয়লা পাওয়া যায় তা মূলত বিটুমিনাস জাতীয়, যা বেশ উন্নত মানের।
- ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অনুযায়ী, মাটির প্রায় $۶۴০$ থেকে $১,১৫০$ মিটার গভীরে এই কয়লার স্তর বিস্তৃত।
সহজ কথায়, বাংলাদেশের কয়লা খনিগুলোর মধ্যে জামালগঞ্জই সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং এর কয়লার মান বেশ উন্নত।
Who is the greatest modern English dramatist?
এখানে সঠিক উত্তর হলো George Bernard Show। জর্জ বার্নার্ড শ'কে আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি তাঁর অনন্য নাটক এবং সমাজ সংস্কারমূলক লেখনীর জন্য ১৯২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর বিখ্যাত নাটকগুলোর মধ্যে 'Arms and the Man' এবং 'Pygmalion' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।