১৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1992
What kind of man is quite the opposite type of “supercilious”?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Affable। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় যদি আমরা শব্দগুলোর অর্থ একটু খেয়াল করি:
- Supercilious মানে হলো এমন একজন মানুষ যে নিজেকে খুব বড় মনে করে এবং অন্যদের তুচ্ছ বা নিচু চোখে দেখে (অহংকারী বা উদ্ধত)।
- অন্যদিকে, Affable মানে হলো এমন একজন মানুষ যে খুব বন্ধুত্বপূর্ণ, মিশুক এবং যার সাথে সহজেই কথা বলা যায়।
যেহেতু 'Supercilious' মানে উদ্ধত বা অহংকারী, তাই এর ঠিক বিপরীত বা উল্টো স্বভাবের মানুষ হবে যে খুব নম্র ও অমায়িক। এই কারণেই 'Affable' শব্দটি এখানে একদম সঠিক। সহজ কথায়, অহংকারীর বিপরীত হলো অমায়িক বা মিশুক মানুষ।
‘গোঁফ-খেজুরে’- এই বাগধারাটির অর্থ কী?
‘গোঁফ-খেজুরে’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো নিতান্ত অলস।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
- বাগধারাটির উৎপত্তি হয়েছে এমন একজন মানুষের ধারণা থেকে, যে এতটাই অলস যে নিজের গোঁফে আটকে থাকা খেজুর খাওয়ার জন্যও সে কোনো পরিশ্রম করতে চায় না।
- অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজের হাতের কাছে থাকা খাবারটুকু খাওয়ার মতো সামান্য কষ্টটুকুও করতে নারাজ, তাকেই আমরা ‘গোঁফ-খেজুরে’ বা চরম অলস বলে থাকি।
পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন আসলে মনে রাখবেন, এটি মূলত অলসতার একটি চরম পর্যায়কে নির্দেশ করে।
কোন দুটি অঘােষ ধ্বনি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চ ছ। কারণটা খুব সহজ, বাংলা বর্ণমালার প্রতিটি বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণগুলো হলো অঘোষ ধ্বনি।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- প্রতিটি বর্গের প্রথম বর্ণ: ক, চ, ট, ত, প
- প্রতিটি বর্গের দ্বিতীয় বর্ণ: খ, ছ, ঠ, থ, ফ
যেহেতু চ হলো চ-বর্গের প্রথম বর্ণ এবং ছ হলো চ-বর্গের দ্বিতীয় বর্ণ, তাই এই দুটিই অঘোষ ধ্বনি। অন্য অপশনগুলোতে থাকা বর্ণগুলো বর্গের তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ণ, যা সাধারণত ঘোষ ধ্বনির অন্তর্ভুক্ত হয়।
কোন বাক্যে ‘ঢাক গুড়গুড়’ প্রবাদটির বিশেষ অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঢাক গুড়গুড় করে কী লাভ, আসল কথাটি বল। কারণ, ‘ঢাক গুড়গুড়’ প্রবাদটি মূলত কোনো বিষয়কে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে না বলে সরাসরি বা স্পষ্ট করে বলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- যখন কেউ মূল কথা এড়িয়ে অপ্রাসঙ্গিক বা অস্পষ্ট কথা বলে, তখন তাকে সরাসরি আসল কথাটি বলতে উৎসাহিত করতে এই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়।
- অন্যান্য অপশনগুলোতে প্রবাদের প্রয়োগটি সঠিক নয়, কারণ সেখানে প্রসঙ্গের সাথে প্রবাদটির অর্থের সামঞ্জস্য নেই।
” বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্রের নাম–“
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'কৃষ্ণকান্তের উইল'-এর মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মূলত গোবিন্দলাল এবং রোহিণীকে কেন্দ্র করেই। এই উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হলো গোবিন্দলাল ও রোহিণী।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায়:
- উপন্যাসের মূল দ্বন্দ্ব এবং ট্র্যাজেডি তৈরি হয়েছে গোবিন্দলালের প্রতি রোহিণীর আকর্ষণ এবং তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে।
- কৃষ্ণকান্তের উইলকে কেন্দ্র করে যে পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি হয়, তার কেন্দ্রেও এই চরিত্র দুটিই সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী।
তাই সঠিক উত্তর হলো গোবিন্দলাল ও রোহিণী।
কোন সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হয়?
সঠিক উত্তর হলো খ ১৯৬১ সালে। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬১ সালে।
- জন্মের ঠিক ১০০ বছর পর অর্থাৎ জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হয়: $1861 + 100 = 1961$।
এভাবে সাল যোগ করে খুব সহজেই যেকোনো মহাপুরুষের জন্ম শতবার্ষিকী বের করা সম্ভব।
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কোন কাব্যের উপজীব্য?
সঠিক উত্তর হলো সাত সাগরের মাঝি - ফররুখ আহমেদ।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। ফররুখ আহমেদকে বলা হয় 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি'। তাঁর কাব্যচর্চার মূল জায়গা জুড়ে ছিল ইসলামের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সামুদ্রিক অভিযানের রোমাঞ্চকর কাহিনী।
- সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থটি মূলত ইসলামের হারানো ঐতিহ্য এবং মুসলিম জাগরণের চেতনাকে ধারণ করে লেখা।
- কবি এই কাব্যে রূপক ও প্রতীকের মাধ্যমে ইসলামের স্বর্ণযুগের বীরত্বগাথা ও আধ্যাত্মিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
- তাই যখনই ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা আসবে, ফররুখ আহমেদের এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটির নামই সবার আগে মনে রাখতে হবে।
যা পূর্বে ছিল এখন নেই’—এক কথায় কী হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভূতপূর্ব। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- 'ভূত' শব্দের অর্থ হলো যা অতীতে ঘটে গেছে বা যা আগে ছিল।
- 'পূর্ব' মানে আগের সময়।
- অর্থাৎ, যা আগে ছিল কিন্তু বর্তমানে নেই, তাকেই এক কথায় বলা হয় ভূতপূর্ব।
সহজ কথায়, কোনো পদ বা অবস্থার ক্ষেত্রে আগে যিনি ছিলেন কিন্তু এখন নেই, তাকে বোঝাতে আমরা এই শব্দটি ব্যবহার করি। যেমন: ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি বা ভূতপূর্ব ছাত্র।
‘অনল প্রবাহ’ রচনা করেন
সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। ‘অনল প্রবাহ’ তাঁর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ। এই বইটি মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় মুসলিম সমাজে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি লিখেছিলেন।
- লেখক: সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
- মূল বৈশিষ্ট্য: এটি একটি অগ্নিঝরা দেশাত্মবোধক কাব্যগ্রন্থ, যা তৎকালীন সময়ে পাঠকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
পরীক্ষায় বারবার আসা এই প্রশ্নটি মনে রাখার জন্য শুধু লেখকের নামের সাথে বইটির নাম একবার মিলিয়ে নিলেই চলবে।
কোন বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব। বিষয়টি খুব সহজ, একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে:
- একটি বাক্যে যখন দুটি ক্রিয়া থাকে এবং প্রথম ক্রিয়াটি শেষ না হয়ে অন্য ক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকে, তখন তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
- এখানে 'খেয়ে' শব্দটি একটি অসমাপিকা ক্রিয়া, কারণ এটি দিয়ে কাজ শেষ হচ্ছে না।
- অন্যদিকে, 'যাব' শব্দটি দিয়ে বাক্যের অর্থ পুরোপুরি প্রকাশ পাচ্ছে এবং কাজ শেষ হচ্ছে, তাই এটিই হলো সমাপিকা ক্রিয়া।
সহজ কথায়, যে ক্রিয়া দিয়ে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়, সেটাই সমাপিকা ক্রিয়া। এই বাক্যে 'যাব' ক্রিয়াটি বাক্যের সমাপ্তি টেনেছে, তাই এটিই সঠিক উত্তর।