১৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1993
“সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন। হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন”। — চরণ দুইটি কার লেখা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শেখ ফজলুল করিম। এই বিখ্যাত পঙক্তিটি তাঁর লেখা 'প্রার্থনা' কবিতার অংশ।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- শেখ ফজলুল করিম মূলত তাঁর সহজ-সরল ও নীতিমূলক কবিতার জন্য পরিচিত।
- এই কবিতাটি আমাদের পাঠ্যবইয়ে নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয়।
- পরীক্ষায় এই লাইনগুলো প্রায়ই আসে, তাই কবির নামটা একবার মনে গেঁথে নিলে আর ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।
যে ভূমিতে ফসল জন্মায় না—
যে ভূমিতে ফসল জন্মায় না, তাকে এক কথায় বলা হয় ঊষর। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ঊষর শব্দটির আক্ষরিক অর্থই হলো এমন ভূমি যা অনুর্বর বা যেখানে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়।
- সাধারণত লবণাক্ত বা শুষ্ক মাটির কারণে যখন কোনো জমিতে ফসল ফলানো যায় না, তখন সেই বিশেষ অবস্থাকে বোঝাতে আমরা ঊষর শব্দটি ব্যবহার করি।
তাই পরীক্ষার খাতায় এই প্রশ্নটি দেখলে সরাসরি ঊষর উত্তরটি বেছে নিতে পারেন, কারণ এটিই এই পরিস্থিতির সবচেয়ে সঠিক ও মানসম্মত শব্দ।
অপমান’ শব্দের ‘অপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিপরীত।
খুব সহজভাবে মনে রাখার কৌশল হলো— ‘মান’ শব্দের অর্থ সম্মান বা মর্যাদা। এর আগে যখন ‘অপ’ উপসর্গটি যুক্ত হয়ে ‘অপমান’ শব্দ তৈরি হয়, তখন তা সম্মানের ঠিক উল্টো বা বিপরীত অর্থ অর্থাৎ অসম্মান প্রকাশ করে। তাই এখানে ‘অপ’ উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
‘সোনালী কাবিন’ এর রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর হলো আল-মাহমুদ। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ধারার অন্যতম প্রধান কবি আল-মাহমুদ তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালী কাবিন’-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
এই বিষয়টি মনে রাখার জন্য কিছু সহজ তথ্য:
- সোনালী কাবিন বাংলা সাহিত্যের একটি আধুনিক সনেট গুচ্ছ।
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং কবি আল-মাহমুদকে বাংলা কবিতার ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
- পরীক্ষায় বারবার আসা এই প্রশ্নটি মনে রাখতে ‘আল-মাহমুদ’ এবং ‘সোনালী কাবিন’ শব্দ দুটিকে একসাথে মাথায় গেঁথে নিন।
বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার নাম—
সঠিক উত্তর হলো উত্তরাধিকার। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই সাহিত্য পত্রিকাটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি নিয়মিতভাবে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও গবেষণামূলক লেখা প্রকাশ করে থাকে।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য:
- বাংলা একাডেমী আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- তাদের মুখপত্র বা সাহিত্য পত্রিকার নাম হিসেবে উত্তরাধিকার নামটি বিশেষভাবে পরিচিত।
- এটি মূলত সাহিত্যের মানসম্মত চর্চা ও প্রসারের লক্ষ্যে নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
ঠক চাচা’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর হলো আলালের ঘরের দুলাল।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হলো 'আলালের ঘরের দুলাল'। এই উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণই হলো এর চরিত্রগুলো। কেন এই উত্তরটি সঠিক, তার কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ঠক চাচা চরিত্রটি এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় একটি চরিত্র।
- উপন্যাসটিতে তৎকালীন সমাজের ভণ্ডামি ও কুসংস্কারকে ফুটিয়ে তুলতে লেখক ঠক চাচার মতো চরিত্রকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই চরিত্রটি তার চাতুর্য এবং সংলাপের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
তাই যখনই 'ঠক চাচা'র কথা আসবে, চোখ বন্ধ করে ধরে নেবেন এটি আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসেরই অংশ।
বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা কোন সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
সঠিক উত্তর হলো ১৮৭২ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭২ সালের এপ্রিল মাসে (বৈশাখ ১২৭৯ বঙ্গাব্দ)।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- বঙ্কিমচন্দ্রের কালজয়ী এই পত্রিকাটি প্রকাশের সালটি হলো ১৮৭২।
- বাংলা সাহিত্যের বিকাশে এই সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পত্রিকা থেকেই বাংলা প্রবন্ধ ও উপন্যাসের ধারায় এক বড় পরিবর্তন আসে।
ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মূল পার্থক্য-
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য –
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য মূলত ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই পার্থক্যটি বোঝার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- ক্রিয়াপদের রূপ: সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ পূর্ণাঙ্গ থাকে (যেমন: করিতেছি, চলিল), কিন্তু চলিত ভাষায় তা সংক্ষিপ্ত ও সহজ হয় (যেমন: করছি, চলল)।
- সর্বনাম পদের রূপ: সাধু ভাষায় সর্বনাম পদগুলো বেশ গুরুগম্ভীর হয় (যেমন: তাহার, কাহারা), অন্যদিকে চলিত ভাষায় এগুলো ছোট ও সাবলীল (যেমন: তার, কারা)।
সহজ কথায়, সাধু ভাষা যেখানে ব্যাকরণগতভাবে সুনির্ধারিত ও দীর্ঘ রূপ অনুসরণ করে, চলিত ভাষা সেখানে ক্রিয়াপদ ও সর্বনামের সংক্ষিপ্ত ও গতিশীল রূপ ব্যবহার করে ভাষাকে সহজবোধ্য করে তোলে।
সমকাল পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
সঠিক উত্তর হলো সিকানদার আবু জাফর।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'সমকাল' একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী পত্রিকা ছিল, যা ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক সিকানদার আবু জাফর। তিনি দীর্ঘ সময় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- পত্রিকার নাম: সমকাল
- সম্পাদক: সিকানদার আবু জাফর
- প্রকাশকাল: ১৯৫৭ সাল
পরীক্ষায় মনে রাখার জন্য এই তথ্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জ্ঞান হিসেবে নোট করে রাখতে পারেন।