১৬তম (বিশেষ) বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1994
পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ কথাটি কার?
সঠিক উত্তর হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
এই বিখ্যাত উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা' থেকে নেওয়া হয়েছে। উপন্যাসটির শুরুতে যখন নবকুমার সমুদ্রতীরে পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন, তখন কপালকুণ্ডলা তাকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বলেছিলেন।
- উপন্যাস: কপালকুণ্ডলা
- লেখক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- প্রেক্ষাপট: সমুদ্রতীরে পথ হারানো নবকুমারকে কপালকুণ্ডলার প্রথম সম্ভাষণ।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটি অন্যতম জনপ্রিয় এবং পরিচিত একটি সংলাপ, যা মূলত কপালকুণ্ডলা চরিত্রের রহস্যময়তা ও গাম্ভীর্যকে ফুটিয়ে তোলে।
প্রত্যয়গতভাবে শুদ্ধ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উৎকর্ষ। ব্যাকরণগতভাবে 'উৎকর্ষ' শব্দটি নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষ্য পদ, তাই এর সাথে বাড়তি কোনো প্রত্যয় যোগ করার প্রয়োজন নেই।
- 'উৎকৃষ্ট' একটি বিশেষণ পদ, যার বিশেষ্য রূপ হলো 'উৎকর্ষ'।
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ্য পদের সাথে পুনরায় 'তা' বা 'ত্ব' প্রত্যয় যোগ করে বিশেষ্য তৈরি করা বাহুল্য দোষ বা অশুদ্ধি হিসেবে গণ্য হয়।
- তাই 'উৎকর্ষতা' শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল, শুদ্ধ রূপটি হলো কেবল উৎকর্ষ।
‘অচিন’ শব্দের ‘অ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
‘অচিন’ শব্দটিতে ‘অ’ উপসর্গটি নঞর্থক বা না-বাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণে যখন কোনো শব্দের শুরুতে ‘অ’ যুক্ত হয়ে তার বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে নঞর্থক উপসর্গ বলা হয়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- ‘চিন’ মানে যা পরিচিত।
- এর আগে ‘অ’ যুক্ত হয়ে ‘অচিন’ হয়েছে, যার অর্থ ‘যা চেনা নয়’ বা ‘অপরিচিত’।
- এখানে ‘অ’ শব্দটি মূলত ‘না’ বা ‘অভাব’ বোঝাচ্ছে, তাই ব্যাকরণের ভাষায় একে নঞর্থক বলা হয়।
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে কারা প্রথম এসেছিল?
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সবার আগে এসেছিল পর্তুগিজরা। এর পেছনে মূল কারণ হলো সমুদ্রপথের আবিষ্কার এবং বাণিজ্যের প্রসার।
- ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা সমুদ্রপথে ভারতে আসার পথ আবিষ্কার করেন, যা পর্তুগিজদের জন্য বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলে দেয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় পর্তুগিজরা বাংলায় তাদের বাণিজ্যিক ঘাঁটি স্থাপন করে, যা ছিল ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম।
- তাদের এই আগমনের ফলে বাংলায় বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্তুগিজ সংস্কৃতিরও কিছুটা প্রভাব পড়েছিল।
সহজ কথায়, পর্তুগিজরাই ছিল প্রথম ইউরোপীয় শক্তি যারা সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বাংলায় বাণিজ্যিক আধিপত্য বিস্তারের সূচনা করেছিল।
জিয়া সার কারখানায় উৎপাদিত সারের নাম কি?
জিয়া সার কারখানায় উৎপাদিত প্রধান সারের নাম হলো ইউরিয়া। এই কারখানাটি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে ইউরিয়া সার উৎপাদন করে থাকে।
- জিয়া সার কারখানা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদন কেন্দ্র।
- এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন ($CH_4$) থেকে অ্যামোনিয়া ($NH_3$) তৈরি করা হয়।
- পরবর্তীতে সেই অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ($CO_2$) বিক্রিয়ায় ইউরিয়া ($NH_2CONH_2$) সার প্রস্তুত করা হয়।
সহজ কথায়, প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এখানে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হয়, যা আমাদের কৃষিখাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
‘সব কটি জানালা খুলে দাও না’-এর গীতিকার কে?
এই কালজয়ী গানটির গীতিকার হলেন মরহুম নজরুল ইসলাম বাবু। গানটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং আবেগঘন একটি দেশাত্মবোধক গান।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:
- গানটির সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
- গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন।
- গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু এই একটি গানের মাধ্যমেই বাংলা সংগীতে অমর হয়ে আছেন।
পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই গীতিকার হিসেবে নজরুল ইসলাম বাবু-র নামটা মনে রাখলেই চলবে।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘সঞ্চিতা’ কাব্যটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন?
কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সঞ্চিতা’ উৎসর্গ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল মাথায় রাখতে পারেন:
- নজরুল ইসলাম তাঁর সাহিত্যিক জীবনে রবীন্দ্রনাথকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁকে গুরুতুল্য মনে করতেন।
- এই গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তিনি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সঞ্চিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে উৎসর্গ করেন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে লেখক ও কবির পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য নিদর্শন।
কোন উপন্যাসটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঘরে-বাইরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাসগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম জনপ্রিয় একটি কাজ। কেন এটি সঠিক, তা খুব সহজে এভাবে মনে রাখতে পারেন:
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়, যা মূলত স্বদেশি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর তালিকায় ঘরে-বাইরে, চোখের বালি, গোরা এবং শেষের কবিতা সবসময় শীর্ষে থাকে।
- পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রবীন্দ্রনাথের এই চারটি উপন্যাসের নাম মনে রাখলে খুব সহজেই এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব।
‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হাসান হাফিজুর রহমান।
বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের স্মারক এবং বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত ঐতিহাসিক গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারি'-এর প্রথম সংকলক ও সম্পাদক ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত এই সংকলনটি ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রকাশিত প্রথম প্রামাণিক দলিল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘রোহিনী’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর হলো কৃষ্ণকান্তের উইল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণীয় চরিত্র হলো রোহিনী।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- রোহিনী চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জটিল ও মানবিক একটি চরিত্র।
- উপন্যাসের মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে গোবিন্দলাল, ভ্রমর এবং এই রোহিনীকে কেন্দ্র করেই।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই মনে রাখার জন্য 'কৃষ্ণকান্তের উইল' এবং 'রোহিনী' নাম দুটি একসাথে মনে রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।