২৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 2004
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কে রচনা করেন?
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ধারায় দীনেশচন্দ্র সেন-এর নাম সবার আগে আসে। তিনি ১৯১১ সালে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- দীনেশচন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যের গবেষণায় পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।
- তার লেখা 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটিই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
- পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি আসলে চোখ বন্ধ করে দীনেশচন্দ্র সেন-কে বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৮৭২ সালে তিনি এই পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্গদর্শন'-এর প্রাণপুরুষ বলা হয়।
- এই পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের সূচনা করেছিলেন।
- তার বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষবৃক্ষ' এবং 'কৃষ্ণকান্তের উইল' এই পত্রিকাতেই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
তাই সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামই এই পত্রিকার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।
কোন কবিতা রচনার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্য নিষিদ্ধ হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আনন্দময়ীর আগমনে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় ক্ষুরধার লেখনীর জন্য কাজী নজরুল ইসলামের এই বিখ্যাত কবিতাটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করেছিল। মূলত এর তীব্র বিদ্রোহী সুর এবং দেশপ্রেমের জাগরণ ব্রিটিশ শাসকদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।
‘মৃন্ময়ী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের নায়িকা?
সঠিক উত্তর হলো সমাপ্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘সমাপ্তি’-এর কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র হলো মৃন্ময়ী।
গল্পটি পড়ার সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে মনে রাখা সহজ হবে:
- গল্পের নায়ক অপূর্ব এবং দুরন্ত স্বভাবের কিশোরী মৃন্ময়ীর সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই এই গল্পটি আবর্তিত।
- মৃন্ময়ী চরিত্রটি তার চঞ্চলতা এবং সাবলীলতার জন্য বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘গল্পগুচ্ছ’-এর অন্তর্ভুক্ত এই গল্পটিতে কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এক দারুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।
“উত্তম পুরুষ” উপন্যাসের রচয়িতা কে?
“উত্তম পুরুষ” উপন্যাসের রচয়িতা হলেন রশীদ করিম। বাংলা সাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের ধারায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- উপন্যাসটির নাম: উত্তম পুরুষ।
- লেখক: রশীদ করিম।
- এটি মূলত ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং লেখক এই উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারও পেয়েছিলেন।
রশীদ করিমের লেখনশৈলীতে মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন এবং মানুষের মনের ভেতরের জটিলতা খুব চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে, যা এই উপন্যাসেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
‘কাশবনের কন্যা’ কোন জাতীয় রচনা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উপন্যাস।
খুব সহজেই মনে রাখার উপায় হলো, বাংলা সাহিত্যে শামসুদ্দীন আবুল কালামের লেখা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রামীণ জনপদের জীবন্ত চিত্রসমৃদ্ধ ক্লাসিক সাহিত্যকর্ম হলো ‘কাশবনের কন্যা’, যা মূলত একটি সার্থক সামাজিক উপন্যাস।
কোনটি মুহম্মদ এনামুল হকের রচনা?
সঠিক উত্তর হলো মনীষা মঞ্জুষা। ড. মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত গবেষক এবং ভাষাবিদ। তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ রচনার মধ্যে মনীষা মঞ্জুষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক মূলত বাংলা ভাষার ইতিহাস, অভিধান প্রণয়ন এবং সাহিত্য গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখেছেন।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'বাংলা সাহিত্যে সুফি প্রভাব', 'মুসলিম বাংলা সাহিত্য' ইত্যাদি।
- পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁর এই বিশেষ গ্রন্থটির নাম মনে রাখা জরুরি, কারণ এটি প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন হিসেবে আসে।
বাংলা সাহিত্যে সনেট রচনার প্রবর্তক কে?
জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়। এটি ১৯২৫ সালের কথা, যখন কবিতাটি এই পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর থেকেই কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য মহলে ব্যাপক পরিচিতি পান।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য:
- সময়কাল: ১৯২৫ সাল।
- পত্রিকা: কল্লোল।
- গুরুত্ব: এই কবিতাটি প্রকাশের মাধ্যমেই পল্লীকবি জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন।
‘ক্ষীয়মাণ’-এর বিপরীত শব্দ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বর্ধমান। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- 'ক্ষীয়মাণ' শব্দটির অর্থ হলো যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
- এর বিপরীত অর্থ বোঝাতে এমন একটি শব্দ প্রয়োজন যা কোনো কিছুর বেড়ে যাওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়াকে নির্দেশ করে।
- 'বর্ধমান' শব্দটির অর্থ হলো যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বা বেড়ে চলেছে।
তাই, ক্ষয়ের বিপরীত হিসেবে বর্ধমান শব্দটিই এখানে সবচেয়ে উপযুক্ত।