২৬তম (বিশেষ) বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 2004
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খােলা হয় কত সালে?
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলার সঠিক সালটি হলো ১৮০১ সাল। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮০০ সালে।
- কলেজটি প্রতিষ্ঠার ঠিক পরের বছরই, অর্থাৎ ১৮০১ সালে সেখানে বাংলা বিভাগ চালু করা হয়।
মূলত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বাংলা শেখানোর উদ্দেশ্যেই এই বিভাগটি খোলা হয়েছিল। তাই সালটি মনে রাখার জন্য কলেজ প্রতিষ্ঠার পরের বছর হিসেবে হিসাব করলেই চলবে।
‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ কোন জাতীয় রচনা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আত্মজৈবনিক উপন্যাস। মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত এই রচনাটিতে লেখকের নিজ জীবনের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে কাল্পনিক কাহিনীর এক সুন্দর মিশ্রণ ঘটেছে, যা মূলত তার জীবনেরই ছায়া অবলম্বনে রচিত। তাই এটি একটি অনন্য আত্মজৈবনিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
‘পাখি সব করে রব রাতি পােহাইল’-পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল’—এই বিখ্যাত পঙক্তিটির রচয়িতা হলেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য কিছু সহজ তথ্য:
- এটি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের বিখ্যাত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘শিশুশিক্ষা’-র অন্তর্গত একটি কবিতা।
- ছোটবেলায় আমাদের সবারই পাঠ্যবইয়ে এই ছড়াটি ছিল, তাই এটি মনে রাখা খুব সহজ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাথমিক পাঠ বা বর্ণমালার শিক্ষার সাথে এই পঙক্তিটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজসভার কবি?
সঠিক উত্তর হলো কৃষ্ণনগর রাজসভা। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত কবি, যিনি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার সভাকবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায়:
- ভারতচন্দ্র তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'অন্নদামঙ্গল' মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের অনুরোধেই রচনা করেছিলেন।
- এই কাব্য রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ মহারাজ তাঁকে 'রায়গুণাকর' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তাই ইতিহাসের পাতায় তিনি কৃষ্ণনগর রাজসভার কবি হিসেবেই সবচেয়ে বেশি সমাদৃত।
যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর- এখানে হারায় কোন ধাতু?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কর্মবাচ্যের ধাতু। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- বাংলা ব্যাকরণে যখন কোনো বাক্যে কর্তা নিজে কাজ না করে অন্য কারো দ্বারা বা কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে কাজ সম্পন্ন হয়, তখন তাকে কর্মবাচ্য বলা হয়।
- এখানে 'যা কিছু হারায়' বলতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নিজে কিছু হারাচ্ছে না, বরং জিনিসটি নিজে থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে।
- যখন কোনো ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কর্মবাচ্যের অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে কর্মবাচ্যের ধাতু বলে।
- সহজ কথায়, এখানে 'হার' ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'হারায়' শব্দটি তৈরি হয়েছে, যা কর্মবাচ্যের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
কে সর্বপ্রথম বাংলা টাইপ সহযােগে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন?
সঠিক উত্তর হলো ব্রাসি হ্যালহেড। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে তার অবদান অনন্য।
- ১৭৭৮ সালে হুগলি থেকে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত গ্রন্থ A Grammar of the Bengal Language।
- এই বইটির মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বাংলা টাইপ বা অক্ষর ব্যবহার করে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করা সম্ভব হয়েছিল।
- বাংলা হরফ তৈরির কারিগর চার্লস উইলকিন্সের সহায়তায় তিনি এই অসাধ্য সাধন করেছিলেন, যা বাংলা ভাষার মুদ্রণ ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক।
তত্ত্ববােধিনী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
সঠিক উত্তর হলো অক্ষয়কুমার দত্ত। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ১৮৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর 'তত্ত্ববোধিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই সভার মুখপত্র হিসেবেই তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- তিনি দীর্ঘ ১২ বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন, যা বাংলা গদ্যের বিকাশে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
সহজ কথায়, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার নাম শুনলেই অক্ষয়কুমার দত্তের নামটা মাথায় গেঁথে নিন, কারণ এই পত্রিকার জনপ্রিয়তা এবং মানোন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।
কোন গ্রন্থটি মহাকাব্য?
সঠিক উত্তর হলো বৃত্রসংহান। এটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত মহাকাব্য। মহাকাব্য চেনার সহজ উপায় হলো এর বিশাল কলেবর এবং পৌরাণিক বা বীরত্বগাথা নির্ভর কাহিনী।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করতে পারেন:
- বৃত্রসংহান মহাকাব্যটি মূলত পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত।
- বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' যেমন মহাকাব্য, তেমনি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গ্রন্থটিও মহাকাব্যের মর্যাদা পায়।
- অন্যান্য অপশনগুলো মূলত খণ্ডকাব্য বা পত্রকাব্য, যা মহাকাব্যের বিশাল পরিসর বা গঠন অনুসরণ করে না।
বত্রিশ সিংহাসন কার রচনা?
‘ঠকচাচা’ চরিত্রটি কোন্ উপন্যাসের?
সঠিক উত্তর হলো আলালের ঘরের দুলাল। প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ কৌশল:
- ঠকচাচা চরিত্রটি এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় একটি চরিত্র।
- উপন্যাসটির মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও অবক্ষয় তুলে ধরা, যেখানে ঠকচাচা চরিত্রটি তার চতুরতা ও স্বভাবের কারণে পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সহজ কথায়, ঠকচাচা মানেই আলালের ঘরের দুলাল—এই সম্পর্কটি মাথায় রাখলেই পরীক্ষার হলে আর ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।