২৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 2005
লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দৌলত কাজী। বাংলা সাহিত্যে লৌকিক বা রোমান্টিক প্রণয়োপখ্যান ধারার প্রথম সার্থক কবি ও রচয়িতা হলেন তিনি। আরাকান রাজসভার এই কবি 'সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করে মধ্যযুগের সাহিত্যে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। খুব সহজে মনে রাখার জন্য মাথায় রাখবেন, লৌকিক কাহিনীর পথচলা শুরু হয়েছিল দৌলত কাজীর হাত ধরেই।
সাপ্তাহিক সুধাকর’-এর সম্পাদক কে?
সঠিক উত্তর হলো শেখ আব্দুর রহিম।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। উনিশ শতকের শেষভাগে মুসলিম সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে শেখ আব্দুর রহিম ছিলেন অন্যতম। তিনি ১৮৮৯ সালে কুষ্টিয়া থেকে 'সাপ্তাহিক সুধাকর' পত্রিকাটি প্রকাশ ও সম্পাদনা শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে মুসলিম সমাজের জাগরণ ও সমাজ সংস্কারমূলক লেখালেখির জন্য এই পত্রিকাটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। তাই যখনই 'সাপ্তাহিক সুধাকর'-এর কথা আসবে, চোখ বন্ধ করে শেখ আব্দুর রহিমের নাম মনে রাখলেই চলবে!
মাসিক মােহাম্মদী কোন সালে প্রকাশিত হয়?
মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকাটির প্রকাশকাল হলো ১৯২৬ সাল। এটি বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম।
- পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৩৩ সনে, যা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৯২৬ সাল।
- মোহাম্মদ আকরাম খাঁ এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন, যা তৎকালীন মুসলিম সমাজে সাহিত্যচর্চা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রেখেছিল।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য, ১৯২৬ সালটি মনে রাখলেই চলবে, কারণ এটিই পত্রিকাটির যাত্রা শুরুর সঠিক সময়।
কোন পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়?
সঠিক উত্তর হলো কল্লোল। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই পত্রিকাটি একটি নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- কল্লোল পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে দীনেশরঞ্জন দাসের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যে 'কল্লোল যুগ' বা 'কল্লোল গোষ্ঠী' বলতে মূলত এই সময়কাল থেকেই আধুনিক ধারার সূচনাকে বোঝানো হয়।
- সালটি মনে রাখতে এভাবে ভাবতে পারেন: ১৯২৩ সালে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার যে জোয়ার বা কল্লোল উঠেছিল, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বাংলা ভাষায় কয়টি খাঁটি উপসর্গ আছে?
বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা হলো ২১টি। এটি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা ব্যাকরণে এই নির্দিষ্ট সংখ্যাটিই স্বীকৃত।
সহজে মনে রাখার জন্য আপনি এই তালিকাটি একবার দেখে নিতে পারেন:
- অ, অঘা, অজ, অনা
- আ, আড়, আন, আপ, আধা
- ইতি, উন, কদ, কু
- নি, পাতি, বি, ভর
- রাম, স, সা, সু
অর্থাৎ, মোট উপসর্গের সংখ্যা হলো ২১। এই সংখ্যাটি মুখস্থ রাখা পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছােটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের সংলাপ?
সঠিক উত্তর হলো সমাপ্তি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সমাপ্তি' গল্পের প্রধান চরিত্র মৃন্ময়ী। মৃন্ময়ীর দুরন্তপনা, চঞ্চল স্বভাব এবং বাঁধনহারা জীবনকে বোঝাতে লেখক তাকে 'ছোটখাট বর্গির উপদ্রব' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গল্পটি পড়লে দেখা যায়:
- মৃন্ময়ী সাধারণ শান্ত-শিষ্ট মেয়েদের মতো ছিল না, বরং সে ছিল বুনো স্বভাবের।
- তার এই চঞ্চলতা এবং আশেপাশের মানুষের ওপর তার প্রভাবকে লেখক খুব চমৎকারভাবে এই সংলাপটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তাই সাহিত্যের এই বিখ্যাত সংলাপটি সরাসরি সমাপ্তি গল্পের সাথেই যুক্ত।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'-কে গণ্য করা হয়। এটি রচনা করেছেন দীনেশচন্দ্র সেন।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- গ্রন্থের নাম: বঙ্গভাষা ও সাহিত্য।
- রচয়িতা: দীনেশচন্দ্র সেন।
- প্রকাশকাল: ১৮৯৬ সাল।
- গুরুত্ব: এটিই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
পরীক্ষায় মনে রাখার জন্য শুধু এই তথ্যটুকু মাথায় রাখলেই হবে যে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর এই বিখ্যাত গ্রন্থটির মাধ্যমে।
কত খ্রিস্টাব্দে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী’ পদক লাভ করেন?
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মর্যাদাপূর্ণ জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করে।
সহজে মনে রাখার জন্য একটি ছোট কৌশল:
- শরৎচন্দ্রের সাহিত্যিক জীবনের অন্যতম মাইলফলক হলো এই পুরস্কার প্রাপ্তি।
- সালটি মনে রাখতে এভাবে ভাবতে পারেন: ১৯২০-এর দশকের শুরুর দিকে (অর্থাৎ ১৯২৩ সালে) তিনি এই স্বীকৃতি পান।
রাজা রামমােহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কী?
রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম হলো গৌড়ীয় ব্যাকরণ। এটি বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ব্যাকরণ গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
সহজভাবে মনে রাখার কিছু তথ্য:
- রচনাকাল: ১৮৩৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- উদ্দেশ্য: ইংরেজি জানা পাঠকদের বাংলা ভাষা শেখানোর সুবিধার্থে তিনি এটি ইংরেজিতে লিখেছিলেন, যা পরে বাংলায় অনূদিত হয়।
- গুরুত্ব: বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার ক্ষেত্রে এই বইটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।
তাই পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন, রাজা রামমোহন রায় মানেই গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
‘মেছাে’ শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কী?
‘মেছো’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো মাছ + উয়া > ও। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- এখানে মূল শব্দ বা প্রকৃতি হলো মাছ।
- এর সাথে উয়া প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি তৈরি হয়েছে মাছ + উয়া = মাছুয়া।
- পরবর্তীতে ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়মে ‘মাছুয়া’ থেকে সংকুচিত হয়ে শব্দটি দাঁড়িয়েছে মেছো।
সহজ কথায়, মাছের সাথে সম্পর্কিত বা মাছ শিকারি বোঝাতে মাছ শব্দের সাথে উয়া প্রত্যয় যোগ করাই হলো এর সঠিক ব্যাকরণিক গঠন।