২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 2009
আ্যলুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ফিটকিরি।
খুব সহজ কথায়, আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে ফিটকিরি ব্যবহার করি, রাসায়নিকভাবে সেটি মূলত পটাশ অ্যালাম বা অ্যালুমিনিয়াম সালফেট যৌগ হিসেবে পরিচিত। এটি জল পরিষ্কার করা এবং বিভিন্ন কাজে বহুল ব্যবহৃত হয়।
তৎসম' শব্দের ব্যাবহার কোন্ রীতিতে বেশি হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাধু রীতি।
খুব সহজ কথায়, বাংলা ভাষার সাধু রীতিতে তৎসম অর্থাৎ সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। এই রীতিতে ভাষার রূপটা একটু গম্ভীর, তৎসম শব্দবহুল এবং তৎসম পদের গঠন ও অনুসর্গের ব্যবহার বেশি দেখা যায়, যা একে কথ্য ভাষা থেকে আলাদা করে তোলে।
ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: সাত সাগর এর মাঝি।
কবি ফররুখ আহমদের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হলো 'সাত সাগরের মাঝি'। এই কাব্যগ্রন্থে তার অসাধারণ ইসলামিক স্বত্বা, ঐতিহ্য এবং রেনেসাঁর ভাবধারা ফুটে উঠেছে, যা বাংলা সাহিত্যে তাকে অমর করে রেখেছে।
প্রাচীনতম বাঙ্গালী মুসলমান কবি কে?
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাচীনতম মুসলমান কবি হিসেবে শাহ্ মুহাম্মাদ সগীর-কে গণ্য করা হয়। তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪১০ খ্রিষ্টাব্দ) তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- সময়কাল: তিনি চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগের কবি, যা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের আদি ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে।
- অবদান: তাঁর 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।
তাই, প্রাচীনতম বাঙ্গালী মুসলমান কবি হিসেবে তাঁর নামই সবার আগে আসে।
‘চাচা’ কাহিনীর লেখক কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ মুজতবা আলী।
খুব সহজেই মনে রাখার উপায় হলো, তাঁর জনপ্রিয় ভ্রমণকাহিনী ও রম্যরচনায় বিভিন্ন চমৎকার চরিত্রের দেখা মেলে; যার মধ্যে 'চাচা' চরিত্রটি এবং এই বিখ্যাত কাহিনীটি তাঁরই সৃষ্টি। তাঁর লেখালেখির মুন্সিয়ানা ও রসাত্মক ভাষার মাধ্যমেই এটি খুব সহজে চিনে নেওয়া যায়।
মুসলমান নারী জাগরণের কবি ̶—
এখানে সঠিক উত্তর হলো বেগম রোকেয়া। কারণ তিনিই আমাদের সমাজে মুসলিম নারীদের শিক্ষা, অধিকার ও মুক্তির আন্দোলন সবার আগে শুরু করেছিলেন। তাঁকে বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত ও রূপকার বলা হয়।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের’ রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বডু চণ্ডিদাস। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অমূল্য নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটির একমাত্র আবিষ্কারক ও রচয়িতা হলেন এই আদি কবি। বাংলার প্রাচীনতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এর ভণিতায় 'বডু চণ্ডিদাস' নামটি পাওয়া যায় বলেই একে তাঁর রচনা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।
বাংলা কথ্যভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।
মনোযোগ দিয়ে মনে রাখার শর্টকাট কৌশল হলো:
- পর্তুগিজ মিশনারি মানোএল দা আস্সুম্পসাঁও বাংলা গদ্য ও কথ্যভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তার রচিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' (এবং 'ব্রেহ্ম্ত্ত্ব পর্তুগিজ ও বাংলা ছাঁদে') গ্রন্থটিই মূলত বাংলা কথ্যভাষার আদি মুদ্রিত গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে এই গ্রন্থগুলো রচনা করা হয়েছিল, যা বাংলা কথ্যভাষার ইতিহাসে প্রথম দলিল।
কবি আলাওলের জন্মস্থান কোথায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ফতেহাবাদ পরগনা। কারণ সপ্তদশ শতকের এই মহামহিম কবি চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি আরাকান রাজসভায় খ্যাতি অর্জন করলেও তাঁর জন্মস্থান নিয়ে এই ঐতিহাসিক তথ্যটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও পরীক্ষামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
'অনল-প্রবাহ' রচনা করেন-
সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। 'অনল-প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থটি মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি অগ্নিঝরা সৃষ্টি। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য কবিকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিছু সহজ তথ্য মনে রাখলে এটি আর ভুলবেন না:
- লেখক: সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি।
- প্রকাশকাল: ১৯০০ সাল।
- মূল বৈশিষ্ট্য: এটি একটি দেশাত্মবোধক কাব্যগ্রন্থ, যা তৎকালীন সময়ে পাঠকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।
পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই কবির নাম এবং তাঁর এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটির নাম একসাথে মনে রাখলে সহজেই উত্তর দেওয়া সম্ভব।