৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 2010
‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন—
সঠিক উত্তর হলো সঞ্জয় ভট্টাচার্য। বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগতে তিনি একজন অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তিত্ব।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল অনুসরণ করতে পারেন:
- সঞ্জয় ভট্টাচার্য মূলত তাঁর সম্পাদিত 'পূর্বাশা' পত্রিকার জন্যই বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
- এই পত্রিকাটি সেই সময়ের সাহিত্যিকদের লেখা প্রকাশের একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল।
- পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মনে রাখবেন, 'পূর্বাশা' পত্রিকার নাম শুনলেই যেন সরাসরি সঞ্জয় ভট্টাচার্যের কথা মাথায় আসে, কারণ এই দুটি নাম একে অপরের পরিপূরক।
পাহাড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন—
সঠিক উত্তর হলো শামসুর রাহমান। কবি শামসুর রাহমানের জন্মস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও, পাঠ্যবই ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুযায়ী তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈতৃক নিবাস ছিল নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার অন্তর্গত পাহাড়তলী গ্রামে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- শামসুর রাহমান মূলত ঢাকা শহরের কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তার শেকড় বা পৈতৃক ভিটা হলো নরসিংদীর পাহাড়তলী গ্রাম।
- পরীক্ষায় যখনই এই প্রশ্নটি আসবে, মনে রাখবেন কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাসই হলো পাহাড়তলী।
‘সাহচর্য’ শব্দের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
‘সাহচর্য’ শব্দটি গঠিত হয়েছে সহচর শব্দের সাথে য (ষ্ণ্য) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, শব্দের শেষে ‘য’ প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন ঘটে, যাকে আমরা ‘গুণ’ বা ‘বৃদ্ধি’ বলি।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- মূল শব্দ: সহচর
- প্রত্যয়: য
- সন্ধি বা প্রত্যয় যোগের নিয়ম: সহচর + য = সাহচর্য। এখানে ‘স’ এর সাথে ‘আ’ কার যুক্ত হয়ে শব্দটি ‘সাহচর্য’ রূপ ধারণ করেছে।
তাই সঠিক উত্তর হলো সহচর + য। এটি একটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ, যেখানে মূল শব্দের সাথে ‘য’ যুক্ত হয়ে ভাববাচক বিশেষ্য তৈরি করেছে।
রবীন্দ্রনাথের ‘সােনার তরী’ কবিতা কোন ছন্দে রচিত?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মূলত মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এই ছন্দটি বোঝার জন্য খুব সহজ একটি কৌশল মনে রাখতে পারেন:
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে প্রতিটি মাত্রার হিসাব খুব সুনির্দিষ্ট থাকে।
- এখানে মুক্তদল ১ মাত্রা এবং বদ্ধদল ২ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।
- ‘সোনার তরী’ কবিতার প্রতিটি পঙক্তি পড়ার সময় একটি নির্দিষ্ট লয় বা তাল বজায় থাকে, যা মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সহজ কথায়, শব্দের ধ্বনি বা মাত্রার সুশৃঙ্খল বিন্যাসই এই কবিতাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের এক অনন্য উদাহরণ করে তুলেছে।
নিচের কোনটি মীর মশাররফ হােসেনের জন্ম-মৃত্যু সাল?
মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ও মৃত্যু সাল মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী, যার জীবনকাল ছিল উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বিংশ শতকের শুরু পর্যন্ত।
- জন্ম: ১৮৪৭ সাল (কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়)।
- মৃত্যু: ১৯১১ সাল (রাজবাড়ী জেলার পদমদীতে)।
সহজভাবে মনে রাখুন, তিনি ১৮৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ঠিক ৬৪ বছর পর ১৯১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাই সঠিক উত্তর হলো ১৮৪৭-১৯১১।
অপ’ কী ধরনের উপসর্গ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সংস্কৃত। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গগুলোকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘অপ’ হলো একটি অতি পরিচিত সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
সহজভাবে মনে রাখার কিছু কৌশল:
- বাংলা ভাষায় মোট ২০টি সংস্কৃত উপসর্গ রয়েছে।
- ‘অপ’ দিয়ে তৈরি কিছু সাধারণ শব্দ হলো: অপমান, অপবাদ, অপকর্ম।
- যেহেতু এই উপসর্গগুলো সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে, তাই এগুলোকে সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলা হয়।
তাই যখনই ‘অপ’, ‘অনু’, ‘অব’, বা ‘প্র’-এর মতো উপসর্গ দেখবেন, চোখ বন্ধ করে ধরে নেবেন এগুলো সংস্কৃত উপসর্গ।
নিচের কোনটি অঘােষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চ। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। ব্যঞ্জনবর্ণের বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণগুলো হলো অঘোষ ধ্বনি, আর প্রথম ও তৃতীয় বর্ণগুলো হলো অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
সহজভাবে বোঝার উপায়:
- চ হলো চ-বর্গের প্রথম বর্ণ।
- বর্গের প্রথম বর্ণ হওয়ার কারণে এটি একই সাথে অঘোষ এবং অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
সহজ কথায়, প্রতিটি বর্গের প্রথম বর্ণগুলো (যেমন: ক, চ, ট, ত, প) সবসময় অঘোষ অল্পপ্রাণ হয়। তাই এখানে চ সঠিক উত্তর।
কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক?
সঠিক উত্তর হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান নিয়ে মনে রাখার সহজ উপায়টি হলো:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সাহিত্যিকদের জন্মস্থান মনে রাখার জন্য তাদের বিখ্যাত উপন্যাসের সাথে গ্রামের নাম মিলিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন, বঙ্কিমচন্দ্রের ক্ষেত্রে 'কাঁঠালপাড়া' নামটি তার নামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
সহজ কথায়, কাঁঠালপাড়া বললেই আমাদের মনে রাখতে হবে এটি বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্রের পৈতৃক ভিটা।
বাংলা ভাষায় ছন্দ প্রধানত কত প্রকার?
বাংলা ভাষায় ছন্দ প্রধানত ৩ প্রকার। বিষয়টি মনে রাখা খুবই সহজ, কারণ আমাদের ছন্দের মূল ভিত্তি এই তিনটি ধারার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে:
- স্বরবৃত্ত ছন্দ: এটি মূলত দ্রুত লয়ের ছন্দ, যা ছড়া বা লোকগীতিতে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: এই ছন্দে প্রতিটি মাত্রার হিসাব খুব নিখুঁত থাকে, যা সাধারণত কবিতা বা গানে পাওয়া যায়।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: এটি বাংলা কবিতার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ধীরস্থির লয়ের ছন্দ।
সহজ কথায়, ছন্দের এই তিনটি ধরনই বাংলা কবিতার মূল কাঠামো তৈরি করে। তাই সঠিক উত্তর হলো ৩ প্রকার।
ঠাকুরমার ঝুলি’ কী জাতীয় রচনার সংকলন?
সঠিক উত্তর হলো রুপকথা। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংগৃহীত এই বিখ্যাত গ্রন্থটি মূলত বাংলার লোকগাথা ও রূপকথার গল্পের এক অনন্য ভাণ্ডার।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে দাদী-নানির মুখে শোনা সেই জাদুকরী সব গল্প।
- এই বইয়ের প্রতিটি গল্পই কাল্পনিক জগত, রাক্ষস-খোক্কস, রাজপুত্র আর পরীদের নিয়ে সাজানো, যা সাহিত্যের ভাষায় রূপকথা হিসেবে পরিচিত।
- এটি কোনো সাধারণ ছোটগল্প বা গ্রাম্যগীতিকা নয়, বরং আমাদের লোকসংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রূপকথার জাদুতে মুগ্ধ করে আসছে।