৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৯
‘আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি’। এটি-
এখানে সঠিক উত্তর হলো রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন।
আমরা সমাজে মিলেমিশে চলার সময় কিছু নিয়মকানুন এবং মূল্যবোধ মেনে চলি, যা মূলত আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সামাজিক অনুশাসন থেকেই তৈরি হয়। একজন ভালো নাগরিক হতে হলে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুশাসনেরই সরাসরি প্রকাশ।
‘বিপরীত বৈষম্য’-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়-
এখানে সঠিক উত্তর হলো সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। কারণ সমাজে পিছিয়ে থাকা বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়, যা ‘বিপরীত বৈষম্য’ (Reverse Discrimination) বা ইতিবাচক বৈষম্যের নীতি হিসেবে পরিচিত।
মূল্যবোধ হলো-
এখানে সঠিক উত্তর হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ।
মূল্যবোধ বলতে মূলত সেই আদর্শ, বিশ্বাস ও নীতিমালাকে বোঝায়, যা সমাজে মানুষের একে অপরের সঙ্গে চলাফেরা, আচরণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দেয়। এটি সমাজের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করতে এবং সুশৃঙ্খল সম্পর্ক বজায় রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো-
এখানে সঠিক উত্তর হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
জাতিসংঘের মতে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক স্বাধীনতার পূর্ণ বিকাশ ও উন্নয়ন ঘটানো। যখন রাষ্ট্রে সুশাসন থাকে, তখন নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সুযোগ পায়।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো-
এখানে সঠিক উত্তর হলো নियमित কর প্রদান করা। কারণ, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টিকিয়ে রাখতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, যা মূলত নাগরিকদের দেওয়া কর থেকেই আসে। তাই নিয়মিত কর প্রদান করা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের অন্যতম প্রধান ও বাধ্যতামূলক কর্তব্য।
জাতিসংঘ কোন সালে মানবাধিকার সংক্রান্ত বৈশ্বিক ঘোষণার ঐতিহাসিক নথিটি গ্রহণ করে?
সঠিক উত্তর হলো ১৯৪৮ সাল। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই বিশ্বজুড়ে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- জাতিসংঘ গঠিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- এর ঠিক ৩ বছর পরেই, অর্থাৎ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে 'মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র' (Universal Declaration of Human Rights) গৃহীত হয়।
- এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে 'মানবাধিকার দিবস' পালন করা হয়।
মিনস্ক নিচের কোন দেশের রাজধানী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তাজাকিস্তান।
খুব সহজেই মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে পারো, মধ্য এশিয়ার সুন্দর দেশ তাজাকিস্তানের রাজধানী ও প্রধান শহর হলো মিনস্ক। সাধারণ জ্ঞান বা ভূগোল অংশে এ ধরনের রাজধানীভিত্তিক প্রশ্ন প্রায়ই আসে, তাই দেশের সাথে রাজধানীগুলোর নাম নিয়মিত চর্চা করলে পরীক্ষাতে খুব দ্রুত উত্তর করা সম্ভব।
সর্বশেষ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন কোন সালের কোন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে?
সঠিক উত্তর হলো ফেব্রুয়ারি, ২০১৯। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন সাধারণত প্রতি বছর জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি ঐতিহাসিকভাবেই ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আয়োজিত হয়ে থাকে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- এই সম্মেলনটি বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট, যা প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্ধারিত থাকে।
- ২০১৯ সালের সম্মেলনটি ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- তাই সাল এবং মাসের হিসাব মিলিয়ে সঠিক উত্তরটি হলো ফেব্রুয়ারি, ২০১৯।
কোন দেশটি ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলে অবস্থিত নয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পোল্যান্ড।
বিষয়টা খুব সহজ! বাল্টিক সাগরকে ঘিরে থাকা দেশগুলোকে মূলত বাল্টিক রাষ্ট্র বা অঞ্চল বলা হয়। পোল্যান্ড মধ্য ইউরোপে অবস্থিত এবং এর উত্তর দিকে বাল্টিক সাগর থাকলেও, এটি ভৌগোলিকভাবে বাল্টিক অঞ্চলের মূল দেশগুলোর (যেমন: ইস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া) অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই পোল্যান্ডই এখানে সঠিক উত্তর।
OIC-এর কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ২য় শীর্ষ সম্মেলন।
১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি-র (OIC) দ্বিতীয় ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই সম্মেলনেই ওআইসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।