৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২১
১৬.৫ এর ১.৩% কত?
১৬.৫ এর ১.৩% নির্ণয় করার সহজ নিয়মটি নিচে দেওয়া হলো:
- ১.৩% মানে হলো \(\frac{1.3}{100}\)
- অতএব, হিসাবটি দাঁড়ায়: \(16.5 \times \frac{1.3}{100}\)
- প্রথমে সংখ্যা দুটি গুণ করি: \(16.5 \times 1.3 = 21.45\)
- এবার ১০০ দিয়ে ভাগ করলে দশমিক বিন্দু ২ ঘর বামে সরে যাবে: \(\frac{21.45}{100} = 0.2145\)
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ০.২১৪৫।
কেন্তমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?
সঠিক উত্তর হলো হিত্তিক ও তুখারিক। ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় কেন্তম (Centum) ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে এই দুটি শাখাই মূলত এশীয় অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছিল। বিষয়টি মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- কেন্তম ভাষাগোষ্ঠীর বেশিরভাগ শাখা ইউরোপীয় হলেও, হিত্তিক (Hittite) এবং তুখারিক (Tocharian) শাখা দুটি প্রাচীন এশিয়ার ভৌগোলিক সীমানায় বিস্তৃত ছিল।
- হিত্তিক ভাষা মূলত প্রাচীন আনাতোলিয়া বা বর্তমান তুরস্ক অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।
- তুখারিক ভাষা মধ্য এশিয়ার তারিম অববাহিকা অঞ্চলে ব্যবহৃত হতো।
সহজ কথায়, কেন্তম শাখার মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এই দুটি নামই এশিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
‘রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’ এর অর্থ কী?
‘রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’ এটি একটি প্রাচীন প্রবাদ বা ধাঁধা। এর অর্থ হলো গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।
বিষয়টি একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু সহজভাবে মনে রাখার উপায় হলো:
- রুখ শব্দের অর্থ হলো গাছ।
- তেন্তুলি মানে হলো তেঁতুল।
- পুরো বাক্যটি আক্ষরিক অর্থেই গাছের তেঁতুল কুমিরে খাওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করে, যা মূলত একটি অসম্ভব বা অলৌকিক পরিস্থিতির বর্ণনা দেয়।
তাই সঠিক উত্তর হলো গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
বিজয়গুপ্তের লেখা বিখ্যাত মঙ্গলকাব্যটির নাম হলো পদ্মপুরাণ। এটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের অন্যতম জনপ্রিয় একটি কাব্য।
সহজভাবে মনে রাখার কিছু তথ্য:
- বিজয়গুপ্তের এই কাব্যটি 'পদ্মপুরাণ' নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- অনেক সময় কবি নিজেই তার কাব্যের নাম হিসেবে 'পদ্মপুরাণ' উল্লেখ করেছেন।
- মনসা দেবীকে 'পদ্মা' নামে ডাকা হয় বলেই এই কাব্যের নাম রাখা হয়েছে পদ্মপুরাণ।
সহজ কথায়, মনসা দেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য রচিত এই কাব্যটিই বিজয়গুপ্তের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
দৌলত উজির বাহরাম খাম সাহিত্যসৃষ্টিতে কার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন?
সঠিক উত্তর হলো জমিদার নিজাম শাহ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি দৌলত উজির বাহরাম খান তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'লাইলী-মজনু' রচনার সময় চট্টগ্রামের লস্কর উজির বা জমিদার নিজাম শাহের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।
বিষয়টি মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল অনুসরণ করতে পারেন:
- কবি দৌলত উজির বাহরাম খান মূলত চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- সে সময় চট্টগ্রামের স্থানীয় শাসক বা জমিদার নিজাম শাহ ছিলেন সাহিত্যের একজন বড় সমঝদার।
- তাঁরই উৎসাহ ও আর্থিক সহায়তায় কবি এই অমর কাব্যটি রচনা করেন।
তাই ইতিহাসে দৌলত উজির বাহরাম খানের নাম এলেই তাঁর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জমিদার নিজাম শাহ-এর নাম সরাসরি চলে আসে।
চর্যাপদে’র প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নেপাল। এর পেছনে একটি মজার ইতিহাস আছে যা মনে রাখা খুব সহজ:
- ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- দীর্ঘদিন ধরে এই পুঁথিটি নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ছিল বলেই এর প্রাপ্তিস্থান হিসেবে নেপালকে ধরা হয়।
- সহজ কথায়, চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপিটি নেপাল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল, তাই এটিই এর সঠিক উত্তর।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
সঠিক উত্তর হলো বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর। এই বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মেদিনীপুর জেলার (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর) বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম ভগবতী দেবী।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই বীরসিংহ গ্রামের নামটির সাথে বিদ্যাসাগরের নামটা একবারে গেঁথে নিন।
‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে
সঠিক উত্তর হলো ‘অনন্ত প্রেম’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বিখ্যাত কবিতাটি মূলত জন্মান্তরবাদ এবং ভালোবাসার চিরন্তন রূপ নিয়ে লেখা।
কবিতাটির মূল ভাবটি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- এখানে কবি ভালোবাসাকে কেবল একটি জীবনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি।
- ‘শত রূপে শত বার’ এবং ‘জনমে জনমে যুগে যুগে’ কথাগুলো দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভালোবাসা সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে অসীম বা অনন্ত।
- তাই কবিতার এই লাইনগুলো পড়লেই বোঝা যায় এটি কবির ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতার অংশ।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী?
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সঠিক উপাধি হলো মহামহোপাধ্যায়। এই উপাধিটি মূলত প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিতদের দেওয়া হতো যারা সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অসাধারণ পাণ্ডিত্য অর্জন করতেন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ এবং সংস্কৃত সাহিত্যের গবেষক।
- তার পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে এই বিশেষ সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'চর্যাপদ' আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যা তার গভীর জ্ঞান ও গবেষণারই ফসল।
“ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”-কে এই দামান ছেলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কামাল পাশা। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত 'কামাল পাশা' কবিতায় এই দামাল ছেলে বলতে তুরস্কের আধুনিক রাষ্ট্রপতির জনক মোস্তফা কামাল পাশাকে বোঝানো হয়েছে।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায়:
- নজরুল ইসলাম তার কবিতায় কামাল পাশার বীরত্ব ও সাহসিকতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- কবিতার মূল উপজীব্যই হলো কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- তাই 'দামাল ছেলে' হিসেবে এখানে কামাল পাশাকেই নির্দেশ করা হয়েছে।