৪৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৩
1/A, 3/C, 5/E, ?
এই ধারাটি খুব সহজেই বোঝা যায় যদি আমরা লব (উপরের সংখ্যা) এবং হর (ইংরেজি বর্ণ) আলাদাভাবে খেয়াল করি। এখানে প্রতিটি পদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন কাজ করছে:
- সংখ্যার ক্ষেত্রে: প্রতিটি পদের লব ২ করে বাড়ছে। যেমন: $1, 3, 5$ এর পরের সংখ্যাটি হবে $5 + 2 = 7$।
- বর্ণের ক্ষেত্রে: ইংরেজি বর্ণমালার অবস্থান অনুযায়ী প্রতিটি বর্ণ ২ ঘর করে এগিয়েছে। যেমন: $A(1), C(3), E(5)$। এর পরের বর্ণটি হবে $5 + 2 = 7$ তম বর্ণ, যা হলো G।
তাই সব মিলিয়ে সঠিক উত্তরটি হলো 7/G।
‘ধ্বনি’ সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
সঠিক উত্তর হলো ধ্বনি দৃশ্যমান, কারণ এটি একটি ভুল তথ্য। ধ্বনি আসলে দৃশ্যমান কোনো বস্তু নয়, বরং এটি একটি শ্রবণযোগ্য বিষয়। বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো দেখুন:
- ধ্বনি অদৃশ্য: ধ্বনি বা সাউন্ড আমরা কেবল কানে শুনতে পাই, কিন্তু খালি চোখে একে দেখা সম্ভব নয়।
- উচ্চারণ ও শ্রবণ: ধ্বনি তৈরি হয় আমাদের বাগযন্ত্রের মাধ্যমে এবং এটি বাতাসের কম্পনের ফলে তৈরি হয়, যা আমরা কান দিয়ে শুনি।
- ভাষার ভিত্তি: মানুষের ভাষার মূল ভিত্তিই হলো ধ্বনি। আমরা যখন কথা বলি, তখন মুখ দিয়ে যে অর্থবোধক শব্দ বা ধ্বনি বের হয়, সেগুলোই ভাষার বাগ্ধ্বনি হিসেবে পরিচিত।
সহজ কথায়, ধ্বনি হলো শোনার বিষয়, দেখার বিষয় নয়। তাই 'ধ্বনি দৃশ্যমান' বাক্যটি ভুল।
স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মুক্তাক্ষর। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- যেসব অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে, অর্থাৎ যে অক্ষরগুলো টেনে উচ্চারণ করা যায়, সেগুলোকে মুক্তাক্ষর বলে।
- সহজ কথায়, কোনো অক্ষরের শেষে যদি কোনো স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) যুক্ত থাকে, তবে সেটিই মুক্তাক্ষর।
- উদাহরণস্বরূপ, 'মা' শব্দটি একটি মুক্তাক্ষর, কারণ এর শেষে 'আ' স্বরধ্বনিটি স্পষ্ট।
তাই মনে রাখবেন, অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকা মানেই সেটি মুক্ত বা স্বাধীন, আর এই কারণেই একে মুক্তাক্ষর বলা হয়।
শুদ্ধ বানানের গুচ্ছ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী এই শব্দগুলো কেন শুদ্ধ, তা নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
- শিরশ্ছেদ: সন্ধির নিয়মে 'শিরঃ' + 'ছেদ' মিলে হয় 'শিরশ্ছেদ'। এখানে বিসর্গ সন্ধির ফলে 'শ্' যুক্ত হওয়াটা জরুরি।
- দরিদ্রতা: 'দরিদ্র' শব্দের সাথে 'তা' প্রত্যয় যোগ করলে 'দরিদ্রতা' হয়। অনেকে ভুল করে 'দারিদ্র্য' লিখতে গিয়ে 'দরিদ্রতা' শব্দটিকে ভুল মনে করেন, কিন্তু ব্যাকরণ অনুযায়ী 'দরিদ্রতা' একটি শুদ্ধ শব্দ।
- সমীচীন: এই শব্দটিতে দুটি 'ঈ' কারই দীর্ঘ (দীর্ঘ-ই) হয়। এটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো, শব্দটি উচ্চারণ করার সময় দুই জায়গাতেই দীর্ঘ স্বরধ্বনি ব্যবহার করা হয়।
এই তিনটি শব্দই বাংলা একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ সঠিক।
আরবি ‘কলম’ শব্দটি ‘কলমোস’ শব্দ থেকে এসেছে। ‘কলমোস’ কোন ভাষার শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গ্রিক। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ আমাদের পরিচিত অনেক শব্দের উৎসই প্রাচীন গ্রিক ভাষা।
- আরবি ‘কলম’ শব্দটি মূলত গ্রিক শব্দ ‘kalamos’ থেকে এসেছে।
- প্রাচীনকালে গ্রিকরা নলখাগড়া বা রিড (reed) দিয়ে তৈরি কলম ব্যবহার করত, যেটিকে তারা ‘কালামোস’ বলত।
- ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারায় এই শব্দটি আরবি ভাষায় প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় স্থায়ী রূপ পায়।
সহজ কথায়, শব্দের মূল উৎস খুঁজতে গেলে আমরা দেখি যে, গ্রিক শব্দ ‘kalamos’ থেকেই আজকের এই ‘কলম’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে।
‘ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।’ মন্তব্যটি কোন ভাষা-চিন্তকের?
সঠিক উত্তর হলো সুকুমার সেন।
ভাষাতত্ত্ব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রখ্যাত ভাষাবিদ সুকুমার সেন এই চমৎকার মন্তব্যটি করেছিলেন। তার মতে, ভাষা কেবল আমাদের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম বা বাহন নয়, বরং আমাদের চিন্তা বা ভাবনার জন্মও হয় ভাষার মাধ্যমেই। অর্থাৎ, ভাষা ও চিন্তা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
- মূল কথা: ভাষা ছাড়া গভীর চিন্তার বিকাশ সম্ভব নয়।
- মনে রাখার কৌশল: এই বিখ্যাত উক্তিটি ভাষাবিজ্ঞানী সুকুমার সেনের মৌলিক চিন্তাধারার একটি অংশ, যা বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ক আলোচনায় প্রায়ই উদ্ধৃত করা হয়।
সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
সঠিক উত্তর হলো মানোএল দ্য আসসুম্পসাঁও। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- পর্তুগিজ মিশনারি মানোএল দ্য আসসুম্পসাঁও ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন থেকে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।
- বইটির নাম ছিল 'Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez'।
- এটি মূলত পর্তুগিজ ভাষাভাষীদের বাংলা শেখানোর উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল, তাই এটিই বাংলা ভাষার ইতিহাসের প্রথম ব্যাকরণ হিসেবে স্বীকৃত।
সহজ কথায়, বাংলা ব্যাকরণের আদি রচয়িতা হিসেবে মানোএল দ্য আসসুম্পসাঁও-এর নামই সবার আগে আসে।
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি?
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো এ। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখার জন্য জিহ্বার অবস্থানের দিকে খেয়াল করলেই হয়:
- বাংলা স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা কোথায় অবস্থান করছে, তার ওপর ভিত্তি করে এদের ভাগ করা হয়।
- এ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় জিহ্বা সামনের দিকে এগিয়ে থাকে এবং মুখ কিছুটা কম খোলা থাকে, তাই একে সম্মুখ স্বরধ্বনি বলা হয়।
- আবার, জিহ্বার উচ্চতা অনুযায়ী এটি মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে বলে একে উচ্চমধ্য পর্যায়ের ধ্বনি হিসেবে গণ্য করা হয়।
সহজ কথায়, জিহ্বার অবস্থান ও মুখের আকৃতি বিবেচনা করলে এ-ই হলো একমাত্র ধ্বনি যা উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনির শর্ত পূরণ করে।
‘তাম্বুলিক’ শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তামসিক। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ ‘তাম্বুলিক’ শব্দটির অর্থ হলো যারা পানের ব্যবসা করেন বা পানের সাথে সম্পর্কিত।
- তাম্বুলিক শব্দের অর্থ হলো পান বিক্রেতা বা পান চাষি।
- পান-ব্যবসায়ী, পর্ণকার এবং বারুই—এই তিনটি শব্দই মূলত পান বা পানের ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বোঝায়।
- অন্যদিকে, তামসিক শব্দটি এসেছে ‘তম’ গুণ থেকে, যার অর্থ অলসতা, অন্ধকার বা অজ্ঞতা। এটি পানের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’ – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অনন্বয়ী অব্যয়। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- বাক্যের অন্য পদের সাথে কোনো সম্পর্ক না রেখে যে অব্যয় মনের ভাব বা আবেগ প্রকাশ করে, তাকেই অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- এখানে 'ভারি' শব্দটি বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি কোনো ব্যাকরণগত সম্পর্কে যুক্ত নেই, বরং এটি বাক্যের মধ্যে একটি বিশেষ আবেগ বা জোর (emphasis) প্রকাশ করছে।
- যেহেতু এই অব্যয়টি বাক্যের গঠন বা পদের সাথে অন্বিত বা যুক্ত নয়, তাই এটি অনন্বয়ী অব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।