৪৬ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৪
পাহাড়পুরের ‘সোমপুর মহাবিহার’ বাংলার কোন শাসন আমলের স্থাপত্য কীর্তির নিদর্শন?
পাহাড়পুরের ‘সোমপুর মহাবিহার’ হলো পাল শাসন আমলের স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এই বিশাল বৌদ্ধ বিহারটি অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগে বা নবম শতাব্দীর শুরুতে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল নির্মাণ করেছিলেন।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তাই তাদের সময়েই এই ধরণের বিশাল স্থাপত্য গড়ে ওঠে।
- স্থাপত্য শৈলী: এটি মূলত একটি চতুর্ভুজাকার বিহার, যা তৎকালীন স্থাপত্যবিদ্যার উৎকর্ষের প্রমাণ দেয়।
- স্বীকৃতি: বর্তমানে এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত, যা আমাদের ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ।
সহজ কথায়, পাল রাজাদের আমলেই বাংলায় বৌদ্ধ স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ ছিল, আর সোমপুর মহাবিহার তারই সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার নেতৃত্ব দেন কে?
মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে আনসার বাহিনীর সদস্য ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
- এই গার্ড অব অনার প্রদানকারী দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন এসডিপিও মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নতুন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সামরিক অভিবাদন বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি বড় প্রতীক ছিল।
ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবিতে কোন দু’টি বিষয় কেন্দ্রিয় সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব ছিল?
ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবির মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা। এই দাবির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাকে সীমিত রাখা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রস্তাব করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থাকবে।
সঠিক উত্তর হলো প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র। এর পেছনের সহজ যুক্তিগুলো হলো:
- প্রতিরক্ষা: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সামরিক নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাখা হয়েছিল যাতে পুরো দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বিত থাকে।
- পররাষ্ট্র: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, চুক্তি এবং বিদেশের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রাখা হয়েছিল যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রটি একক সত্তা হিসেবে পরিচিতি পায়।
এই দুটি বিষয় বাদে বাকি সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব ছিল ৬-দফার অন্যতম মূল ভিত্তি।
বাংলার প্রাচীন জনপথ হরিকেল-এর বর্তমান নাম কী?
বাংলার প্রাচীন জনপদ হরিকেল-এর বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান হলো সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল। প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি একটি সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল, যা মূলত বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল নিয়ে গঠিত।
সহজে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:
- প্রাচীন ভৌগোলিক মানচিত্র অনুযায়ী হরিকেল জনপদটি মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
- ঐতিহাসিক বিভিন্ন শিলালিপি ও তাম্রশাসনে এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা আধুনিক ভৌগোলিক সীমানায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাথে মিলে যায়।
বাংলাদেশের কোন বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম?
বাংলাদেশের বিভাগগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে বরিশাল বিভাগ সবার নিচে। এর মূল কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান এবং নদীমাতৃক পরিবেশ।
- বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ এলাকা নদী ও খাল-বিল দ্বারা বেষ্টিত, যার ফলে এখানে বড় ধরনের শিল্পায়ন বা ঘনবসতিপূর্ণ শহর গড়ে ওঠার সুযোগ কিছুটা কম।
- জনশুমারির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য বিভাগের তুলনায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে মানুষের বসবাসের হার এখানে সবচেয়ে কম।
- সহজ কথায়, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং কৃষিপ্রধান জীবনযাত্রার কারণে এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ কোন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত?
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি (TCB) মূলত দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার কাজ করে। যেহেতু বাজারের পণ্য সরবরাহ, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়, তাই টিসিবিও এই মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত একটি সংস্থা।
- টিসিবি-র মূল কাজ হলো বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- বাজার ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
- তাই টিসিবি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ করে।
বাংলাদেশ সরকার কোন উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে?
বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো মূল্য সংযোজন কর (VAT)। সহজ কথায়, আমরা যখনই কোনো পণ্য কিনি বা সেবা গ্রহণ করি, তার ওপর যে কর দিতে হয়, সেটাই হলো ভ্যাট।
কেন এটি সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেয়, তার কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- বিস্তৃত পরিধি: দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়িক লেনদেন—সবক্ষেত্রেই ভ্যাট প্রযোজ্য।
- জনপ্রিয়তা ও প্রয়োগ: আয়কর বা অন্যান্য শুল্কের তুলনায় ভ্যাট আদায় করা সরকারের জন্য অনেক বেশি সহজ এবং কার্যকর।
- অর্থনৈতিক অবদান: দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কেনাবেচার পরিমাণ বিশাল হওয়ায় এখান থেকেই সরকারি কোষাগারে সবচেয়ে বেশি টাকা জমা হয়।
সহজভাবে মনে রাখতে পারেন, দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় কোম্পানি—সবার কেনাকাটার ওপর ভিত্তি করেই এই কর নির্ধারিত হয়, তাই এটিই রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত।
মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম কী?
মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম হলো সাংগ্রাই। এটি মূলত তাদের নববর্ষের উৎসব। এই উৎসবটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা খুব সহজে এভাবে বোঝা যায়:
- সাংগ্রাই হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব।
- বাংলা সনের শেষ দুই দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিনে তারা এই উৎসব পালন করে।
- এই উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো 'জলকেলি' বা পানি উৎসব, যেখানে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়।
সহজ কথায়, মারমা সংস্কৃতির প্রাণ হলো এই সাংগ্রাই উৎসব, যা তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে সবচেয়ে বড় মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তিগুলো সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদটি মূলত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো দেখুন:
- সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে।
- অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করাই এই অনুচ্ছেদের মূল লক্ষ্য।
- বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমেই সাংবিধানিক রূপ পেয়েছে।
তাই সঠিক উত্তর হলো ২৫। এটি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূলমন্ত্রই হলো সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে শত্রুতা নয়, যা এই অনুচ্ছেদেই বর্ণিত হয়েছে।
মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থার প্রচলন কোন জাতীসত্ত্বায় রয়েছে?
সঠিক উত্তর হলো গারো। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ গারো সমাজব্যবস্থা ঐতিহাসিকভাবেই মাতৃতান্ত্রিক। এই সমাজ ব্যবস্থায় পরিবারের প্রধান হন মা এবং বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয় মায়ের নামের ওপর ভিত্তি করে।
- সম্পত্তির উত্তরাধিকার: গারো সমাজে পরিবারের সম্পত্তির মালিক হন মা, এবং সাধারণত পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যাই মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন।
- বংশ পরিচয়: সন্তানেরা মায়ের গোত্র বা 'চালের' পরিচয় বহন করে।
- সামাজিক কাঠামো: বিয়ের পর বরকে সাধারণত কনের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করতে হয়, যা মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সহজ কথায়, গারোদের পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিটি স্তরে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে।