৪৬ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৪
অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের কোন অংশের কর্মকর্তা?
সঠিক উত্তর হলো নির্বাহী বিভাগ। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- সংবিধান অনুযায়ী, তিনি রাষ্ট্রপতির পরামর্শে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং সরকারের আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন।
- যেহেতু তিনি সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক কাজের সাথে সরাসরি যুক্ত এবং সরকারের পক্ষ হয়ে আদালতে কাজ করেন, তাই তাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নির্বাহী বিভাগের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে কোন নদী কার্পজাতীয় মাছের রেণুর প্রধান উৎস?
সঠিক উত্তর হলো হালদা। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এর পেছনের কারণগুলো খুব সহজ:
- প্রাকৃতিক পরিবেশ: হালদা নদীর পানির তাপমাত্রা, গভীরতা এবং স্রোতের গতিবেগ কার্পজাতীয় মাছের ডিম ছাড়ার জন্য একদম আদর্শ।
- জোয়ার-ভাটা: এই নদীর জোয়ার-ভাটার বিশেষ চক্র মাছের ডিম ছাড়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
- স্বকীয়তা: বিশ্বের খুব কম নদীই আছে যেখানে রুই, কাতলা, মৃগেল বা কালবাউসের মতো মাছেরা প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার করতে পারে।
সহজ কথায়, হালদা নদী হলো আমাদের দেশের মাছের প্রাকৃতিক আঁতুড়ঘর, যেখান থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রেণু সংগ্রহ করা হয়।
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এ কয়টি ভৌগোলিক হটস্পট নির্ধারণ করা হয়েছে?
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ (Delta Plan 2100) বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এখানে সঠিক উত্তর হলো ৬টি।
এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য পুরো বাংলাদেশকে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ৬টি হটস্পটে ভাগ করা হয়েছে। হটস্পটগুলো হলো:
- উপকূলীয় অঞ্চল
- বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল
- হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল
- নদী ও মোহনা অঞ্চল
- নগর অঞ্চল
- পার্বত্য অঞ্চল
সহজ কথায়, এই ৬টি ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক এলাকার সমস্যার ধরন অনুযায়ী আলাদা আলাদা কৌশল গ্রহণ করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য কে ছিলেন?
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে যখন সংবিধান প্রণয়নের জন্য ৩৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, তখন সেই কমিটিতে একমাত্র নারী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- কমিটির নাম: সংবিধান প্রণয়ন কমিটি।
- মোট সদস্য: ৩৪ জন।
- নারী সদস্য: মাত্র ১ জন, তিনি হলেন রাজিয়া বানু।
সংবিধানের ইতিহাসের এই তথ্যটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মনে রাখা সহজ যে, সংবিধান তৈরির সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কেবল রাজিয়া বানু।
কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে কোন বাঙালি বিজ্ঞানী গবেষণা করেছেন?
সঠিক উত্তর হলো জামাল নজরুল ইসলাম। কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে কয়জন বিজ্ঞানী কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো দেখুন:
- জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ।
- তিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং কৃষ্ণগহ্বরের গঠন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক গবেষণা করেছেন।
- তার লেখা বিখ্যাত বই The Ultimate Fate of the Universe-এ তিনি মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ এবং কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি দেয়।
তাই মহাকাশ বিজ্ঞান বা কৃষ্ণগহ্বর সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন এলে চোখ বন্ধ করে তার নাম মনে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ!
কোন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন পদক পান?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নারীর ক্ষমতায়ন। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউএন উইমেন (UN Women) থেকে এই সম্মানজনক পদকটি পেয়েছিলেন। এর পেছনের মূল কারণগুলো হলো:
- বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ।
- নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে তাদের সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসা।
সহজ কথায়, বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের ক্ষমতায়নের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন খেতাবে ভূষিত হন।
বাংলাদেশের ২য় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ কবে শেষ হবে?
সঠিক উত্তর হলো ২০৪১। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটি মূলত রূপকল্প ২০৪১-এর লক্ষ্য অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ হলো ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত।
- এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
- তাই এই পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হবে ২০৪১ সালে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ কোন দেশ থেকে পণ্য রপ্তানি বাবদ সবচেয়ে বেশি আয় করেছে?
২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিষয়টি বেশ সহজ, কারণ:
- বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় একক বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র।
- দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ তার মোট রপ্তানি আয়ের একটি বিশাল অংশ এই দেশটি থেকে অর্জন করে আসছে।
- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য অর্থবছরেও একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল তালিকার শীর্ষে।
সহজ কথায়, আমাদের পোশাক খাতের বিশাল চাহিদার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
বাংলাদেশের নবীনতম নদী কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো যমুনা। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে যমুনা তুলনামূলকভাবে অনেক পরে সৃষ্টি হয়েছে।
- ১৭৮৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক বিচারে এটিই বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে নবীনতম।
তাই পরীক্ষার জন্য এই তথ্যটি মাথায় রাখলে খুব সহজেই উত্তরটি মনে রাখা সম্ভব।
‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক হলেন প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।
এই সিনেমাটি নির্মাণের পেছনের মূল কারণগুলো খুব সহজ:
- বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই বায়োপিকটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- শ্যাম বেনেগাল তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাস্তবধর্মী এবং ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
- বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান নেতার বর্ণাঢ্য জীবনকে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য তাকেই পরিচালক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল।
তাই সঠিক উত্তর হলো শ্যাম বেনেগাল।