৪৮ তম (বিশেষ) বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্ট (Medical Science) ১৮-০৭-২০২৫
'ইউসুফ-জোলেখা'র কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের জন্ম কোথায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চট্টগ্রাম। কারণ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর চট্টগ্রামের তৎকালীন সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য রচনা করেন এবং তাঁর জন্মস্থানও চট্টগ্রামের অঞ্চলেই ছিল।
'তিনি কথা বললেন না।'- বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: তিনি চুপ করে থাকলেন।
বাক্যের অর্থ পরিবর্তন না করে নেতিবাচক বা না-বোধক বাক্যকে অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-বোধক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম হলো মূল ভাবের দিকে নজর রাখা। 'তিনি কথা বললেন না' বাক্যটিতে কথা না বলার কথা বলা হয়েছে। এর সোজা ও সহজ অস্তিবাচক রূপ হলো তিনি চুপ করে ছিলেন বা থাকলেন, কারণ চুপ করে থাকা মানেই কথা না বলা।
ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কত সালে প্রকাশিত হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১৯৪৪।
কবি ফররুখ আহমদের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৪ সালে। আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক গ্রন্থ, যা মুসলিম রেনেসাঁসের চেতনা এবং ইসলামী ঐতিহ্যকে ধারণ করে রচিত হয়েছে। সালটি মনে রাখার জন্য এভাবে মনে রাখতে পারো যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে (১৯৪৪ সালে) এই অসামান্য কাব্যগ্রন্থটি আলোর মুখ দেখে।
'যে আলোতে কুমুদ ফোটে'- এককথায় কী হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কৌমুদী।
বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশের নিয়ম অনুযায়ী, চাঁদের আলো বা যে আলোতে কুমুদ ফুল ফোটে তাকে এক কথায় কৌমুদী বলা হয়। এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জ্ঞান ও শব্দার্থের অংশ, যা সরাসরি মনে রাখতে হয়।
বাক্যের অন্তর্গত শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কারক। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক থাকে, তাকেই মূলত কারক বলা হয়।
- সহজ কথায়, একটি বাক্যে কে কাজ করছে, কী দিয়ে করছে বা কোথায় করছে—এই সম্পর্কগুলো কারকের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
- ব্যাকরণের এই অংশটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, বাক্যের প্রতিটি শব্দ কীভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ তৈরি করছে।
তাই বাক্যের শব্দের পারস্পরিক সম্পর্কের আলোচনার প্রধান ক্ষেত্র হলো কারক।
ক্রিয়াপদের মূল অংশকে কী বলে?
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: জন্মখন্ড। কারণ বড়ু চণ্ডীদাস রচিত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত, যার একেবারে শুরুর বা প্রথম খণ্ডটির নাম হলো জন্মখন্ড। এই খণ্ড থেকেই মূলত কাব্যের মূল কাহিনী ও শ্রীকৃষ্ণের জন্মবৃত্তান্ত শুরু হয়েছে।
অনুভূতিজাত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ছমছম।
খুব সহজে মনে রাখার উপায় হলো— যে দ্বিরুক্ত শব্দগুলো মনের কোনো বিশেষ অনুভূতি, ভয়, বা শারীরিক অনুভূতি প্রকাশ করে, সেগুলোকে অনুভূতিজাত দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। যেমন, ভয়ে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠার অনুভূতি বোঝাতে 'ছমছম' শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
ছড়ার ছন্দকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: স্বরবৃত্ত।
খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো— ছোটবেলার ছড়া, রূপকথা বা লোকছড়ার প্রাণ হলো এই স্বরবৃত্ত ছন্দ। ঝিলিক দেওয়া দ্রুত লয় এবং অতিরিক্ত ঝোঁক বা পর্বের ছোট মাপই এই ছন্দের মূল চাবিকাঠি। তাই যেকোনো ছড়া বা শিশুসাহিত্যের ছন্দ দেখলেই চোখ বন্ধ করে স্বরবৃত্ত দাগিয়ে দেওয়া যায়!
'আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত, ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত।' - কার লেখা?
এই বিখ্যাত পঙক্তিটি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা। তিনি ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তার লেখায় সবসময়ই সমাজের ধনী ও শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ ফুটে উঠত।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- নজরুলকে বলা হয় 'বিদ্রোহী কবি'।
- তার কবিতায় 'শোষণ', 'রক্ত', 'জোঁক' বা 'ভাত কাড়ার' মতো শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি শোষক শ্রেণির প্রতি তার ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করে।
- এই ধরনের প্রতিবাদী ও বলিষ্ঠ ভাষা মূলত কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।