কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা ২০২১
'এ ভরা বাদর মাহ ভাদর/শূন্য মন্দির মোর।'- কে লিখেছেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিদ্যাপতি। এই বিখ্যাত পদটি মধ্যযুগের পদাবলি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি বিদ্যাপতির লেখা।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- বিদ্যাপতিকে 'মৈথিলি কোকিল' বলা হয়, কারণ তার পদের ভাষা ও সুর অত্যন্ত মধুর।
- এই পদটিতে রাধার বিরহ ও বর্ষার প্রকৃতির যে চমৎকার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা বিদ্যাপতির লেখনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- সাহিত্যিক পরীক্ষায় এই লাইনটি প্রায়ই আসে, তাই এটি বিদ্যাপতির কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে মনে রাখা জরুরি।
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।'- পদটির রচয়িতা কে?
এই বিখ্যাত পদটির রচয়িতা হলেন জ্ঞানদাস। মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির কবিদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:
- জ্ঞানদাস মূলত রাধাকৃষ্ণের প্রেম ও বিরহের পদ রচনার জন্য বিখ্যাত।
- 'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল'—এই পঙক্তিটি তার বিরহ পর্যায়ের পদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই পদটি জ্ঞানদাসের অন্যতম প্রধান নিদর্শন হিসেবে মনে রাখা জরুরি।
'চন্দ্রাবতী' কি?
সঠিক উত্তর হলো কাব্য। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- 'চন্দ্রাবতী' মূলত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত নারী কবি চন্দ্রাবতীর নামানুসারে পরিচিত।
- এটি মূলত একটি আখ্যানমূলক কাব্য বা কাব্যগ্রন্থ হিসেবেই বাংলা সাহিত্যে সমাদৃত।
- সহজ কথায়, এটি কোনো নাটক বা পদাবলি নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ আখ্যানধর্মী কাব্য যা লোকগাথা ও জীবনবোধের মিশেলে তৈরি।
তাই পরীক্ষার খাতায় 'চন্দ্রাবতী' দেখলে চোখ বন্ধ করে কাব্য অপশনটি বেছে নিতে পারেন। এটি মনে রাখার জন্য চন্দ্রাবতীকে একজন কবির নাম হিসেবে মনে রাখলেই হয়, যার প্রধান কাজই ছিল কাব্য রচনা করা।
'নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশি ভাষা, পুরে কি আশা?'- পঙ্ক্তিটির রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রামনিধি গুপ্ত। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই বিখ্যাত পঙ্ক্তিটি তাঁরই সৃষ্টি।
- এই পঙ্ক্তিটি মূলত তাঁর লেখা একটি টপ্পা গানের অংশ।
- রামনিধি গুপ্ত, যিনি 'নিধুবাবু' নামেও পরিচিত, বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক হিসেবে বিশেষভাবে সমাদৃত।
- স্বদেশি ভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই তিনি এই অমর পঙ্ক্তিটি রচনা করেছিলেন।
তাই পরীক্ষার খাতায় এই প্রশ্নটি দেখলে সরাসরি রামনিধি গুপ্ত নামটিকে বেছে নেবেন।
'পদ্মানদীর মাঝি' কার লেখা?
সঠিক উত্তর হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এই উপন্যাসটি মূলত জেলে জীবনের বাস্তব চিত্র নিয়ে লেখা।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তববাদী উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত।
- 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের মূল চরিত্র কুবের এবং তার জীবনসংগ্রামের নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন লেখক।
- বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যবই বা যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বারবার আসে, তাই লেখকের নাম মনে রাখাটা খুব জরুরি।
'দেয়াল' রচনাটি কার?
'দেয়াল' উপন্যাসটি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর লেখা। এটি তাঁর অন্যতম আলোচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট হলো বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উত্তাল সময়, অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
- হুমায়ূন আহমেদের লেখনীতে ইতিহাস ও কল্পনার এমন চমৎকার মিশ্রণ খুব কম লেখকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই মনে রাখার জন্য শুধু মনে রাখুন—'দেয়াল' মানেই হুমায়ূন আহমেদের ঐতিহাসিক দলিল।
বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো আরেক ফাল্গুন। এটি প্রখ্যাত লেখক জহির রায়হানের লেখা একটি কালজয়ী উপন্যাস।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- আরেক ফাল্গুন উপন্যাসটি মূলত ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
- ভাষা আন্দোলনের চেতনা এবং সেই সময়ের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র এই উপন্যাসে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে এটি পরিচিত।
'অনীক' শব্দের অর্থ
'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
- তার বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন 'গল্পগুচ্ছ'-এর একেবারে শুরুর দিকের অন্যতম জনপ্রিয় গল্প হলো 'পোস্টমাস্টার'।
- গ্রামীণ জীবনের সহজ-সরল আবেগ এবং পোস্টমাস্টার ও রতনের মধ্যকার মানবিক সম্পর্কটি তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে এই গল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন।
কোনটি 'ক্ষুধার্ত" শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ
'ক্ষুধার্ত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ক্ষুধা + ঋত। এটি মূলত অ + ঋ = অর্ত (গুণ সন্ধি) নিয়মে গঠিত হয়েছে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- এখানে 'ক্ষুধা' শব্দের শেষে একটি অ-কার আছে।
- পরের শব্দের শুরুতে আছে 'ঋ'।
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, অ + ঋ মিলে হয় 'অর্ত'।
- তাই, ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধ + অর্ত = ক্ষুধ + আর্ত = ক্ষুধার্ত।
সহজ কথায়, অ-কারের সাথে ঋ-কার যুক্ত হয়ে 'অর্ত' তৈরি করে, যা শব্দটিকে 'ক্ষুধার্ত' রূপ দেয়।