বিভিন্ন পলিট্যাকনিক ইন্সটিটিউট ও টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ইন্সট্রাক্টর ও ওয়ার্কসপ সুপার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ২০২৩
নিচের কোনটি নাট্যগুণসম্পন্ন আখ্যান কাব্য?
সঠিক উত্তর হলো শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এর গঠনশৈলী দেখে।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি মূলত রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই—এই তিনটি চরিত্রের সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে চলে।
- এর মধ্যে নাটকের মতো সংলাপ ও অভিনয়ের উপযোগী পরিবেশ থাকায় একে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যগুণসম্পন্ন আখ্যান কাব্য বলা হয়।
- চণ্ডীদাসের নামে ভণিতা থাকলেও এটি মূলত একটি গীতি-নাট্যধর্মী রচনা, যা তৎকালীন সময়ে মানুষের মুখে মুখে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রচলিত ছিল।
সহজ কথায়, যেখানেই চরিত্রের সংলাপের মাধ্যমে কাহিনী এগিয়ে যায়, সেখানেই নাট্যগুণ প্রকাশ পায়, আর শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ঠিক সেই বৈশিষ্ট্যটিই বহন করে।
বাংলায় মহাভারত অনুবাদ করেছেন—
সঠিক উত্তর হলো কাশীরাম দাস। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি মহাভারতের অনুবাদক হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কাশীরাম দাস তাঁর সুললিত পয়ার ছন্দে মহাভারত অনুবাদ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌরাণিক কাহিনীগুলো সহজবোধ্য করে তুলেছিলেন।
- তাঁর এই অনুবাদটি আজও 'কাশীদাসী মহাভারত' নামে আমাদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত।
- অন্যান্য অপশনগুলো খেয়াল করলে দেখবেন, কৃত্তিবাস ওঝা মূলত রামায়ণের অনুবাদের জন্য বিখ্যাত, তাই এই কনফিউশন হওয়ার সুযোগ নেই।
রোসাঙ্গ-রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত হয়েছে—
সঠিক উত্তর হলো পদ্মাবতী। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভার অবদান ছিল অপরিসীম। এই রাজসভার রাজকর্মচারী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে কবি আলাওল তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ পদ্মাবতী রচনা করেন।
- পদ্মাবতী কাব্যটি মূলত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে রচিত।
- এটি বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় কবি আলাওল এই মহাকাব্যটি লিখেছিলেন, যা সে সময়ের বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিচের কোনটি খনার বচন?
সঠিক উত্তর হলো: আছে গরু, না বয় হাল, তার দুঃখ চিরকাল।
খনার বচন মূলত কৃষিভিত্তিক লোকজ্ঞান বা প্রবাদ। এই বচনগুলো আবহাওয়া, চাষাবাদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই অপশনটি কেন সঠিক, তা নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
- কৃষি নির্ভরতা: খনার বচনের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির সঠিক নিয়মকানুন।
- বাস্তব শিক্ষা: এখানে বলা হয়েছে, যার গরু আছে কিন্তু সে হাল চাষ করে না, সে অলসতার কারণে সারাজীবন কষ্ট পাবে। এটি কৃষকের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
- ঐতিহ্য: এই ধরণের ছড়া বা বচনগুলো যুগ যুগ ধরে গ্রামবাংলার কৃষকদের চাষাবাদের সময় দিকনির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সহজ কথায়, কৃষিকাজ ও পরিশ্রমের গুরুত্ব বোঝাতে এই বচনটি খনার বাণীর সাথে হুবহু মিলে যায়।