মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর (০৫.০৩.২০২১)
'ক্ষুদ্র শত্রু ভাবি লোক অবহেলে যারে / বহুবিধ সঙ্কটে সে ফেলাইতে পারে।' কবিতার লাইন দুটি কার রচনা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
খুব সহজভাবে মনে রাখার একটি চমৎকার উপায় হলো, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত কবিতা ও সনেটের নৈতিক শিক্ষাগুলো আমাদের বাস্তব জীবনে দারুণভাবে প্রযোজ্য। 'ক্ষুদ্র শত্রু ভাবি লোক অবহেলে যারে'—এই দারুণ দার্শনিক লাইনটি তাঁরই অমর সৃষ্টি, যা ছোট বা অবহেলার পাত্রকেও কখনো দুর্বল ভাবতে নিষেধ করে।
'রেংমিটা' বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিভুক্ত একটি গোত্রের ভাষা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ম্রো।
ম্রো বা মুরু আদিবাসীদের নিজস্ব সমৃদ্ধ ভাষা রয়েছে, আর এই 'রেংমিটা' হলো মূলত ম্রো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরই একটি বিলুপ্তপ্রায় বা অত্যন্ত সংকেতবাহী ভাষার গোত্র বা রূপ। সাধারণ জ্ঞান ও বিসিএস পরীক্ষার জন্য এই তথ্যটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তাই মনে রাখা খুব সহজ যে রেংমিটা নামটি ম্রো সংস্কৃতির সাথে জড়িত।
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বই এর রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ম্যানুয়েল আসুম্পসাঁউ।
খ্রিস্টান মিশনারি দো পর্তুগিজ পাদ্রী ম্যানুয়েল আসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ও শব্দসংকলন গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত 'ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থটিতেই প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও শব্দার্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, যা ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
'সত্যবাবু মারা গেছেন' শীর্ষক বইটির রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ফয়েজ আহমদ। জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ তাঁর চমৎকার লেখার মাধ্যমে এই বইটি উপহার দিয়েছেন। তাঁর সাবলীল ও আকর্ষণীয় রচনাশৈলী খুব সহজেই পাঠকদের মন জয় করে নেয়।
বাংলা বর্ণমালা 'ল' কী বর্ণ নামে পরিচিত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পার্শ্বিক বর্ণ। কারণটা খুব সহজ—উচ্চারণের সময় জিভের দুই পাশ বা পার্শ্ব দিয়ে বাতাস বের হয়ে যায় বলে 'ল' কে পার্শ্বিক বর্ণ বলা হয়।
গঠনরীতি অনুযায়ী 'প্রভাত' - নিষ্পন্ন শব্দ।
এখানে সঠিক উত্তর হলো সমাস। কারণ 'প্রভাত' শব্দটি কোনো নিয়মের বাইরে গিয়ে সরাসরি কোনো প্রত্যয় বা উপসর্গ দিয়ে তৈরি হয়নি, বরং এটি অর্থ সংক্ষেপ করার মাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি সমাসবদ্ধ পদ। সমাসের কাজ হলো বড় বাক্য বা অর্থকে ছোট করে একটি সুন্দর ও নতুন শব্দ তৈরি করা, ঠিক যেমন এখানে হয়েছে।
'সওগাত' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তুর্কি।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন বিদেশি শব্দের মধ্যে 'সওগাত' একটি অতি পরিচিত শব্দ, যার অর্থ উপহার বা উপঢৌকন। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী এবং উৎপত্তিগত ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় যে, এই শব্দটি সরাসরি তুর্কি ভাষা থেকে আমাদের বাংলা ভাষায় এসেছে। মনে রাখার সহজ উপায় হলো— আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক সামাজিক ও সংস্কৃতিমূলক শব্দ তুর্কি ভাষা থেকে ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে 'সওগাত' অন্যতম।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত '/' চিহ্নটিকে কী চিহ্ন বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিকল্প। কারণ বাংলা ব্যাকরণে এবং লেখায় '/' (স্ল্যাশ) চিহ্নটিকে 'বিকল্প চিহ্ন' বলা হয়, যা সাধারণত দুটি শব্দের বা বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
নিচের কোনটিতে শব্দের অপপ্রয়োগ হয়নি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জন্মবার্ষিক। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী শব্দটিতে কোনো ধরনের বাহুল্য বা গঠনগত ভুল নেই।
অন্য শব্দগুলোতে কেন অপপ্রয়োগ ঘটেছে:
- 'অধীনস্থ' শব্দটিতে 'অধীন' ও 'স্থ' দুটি প্রত্যয় একত্রে থাকায় এটি একটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট (সঠিক হতো 'অধীন')।
- 'কার্যকরী' এর জায়গায় 'কার্যকর' ব্যবহার করাই ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ।
- 'ইদানিং' শব্দের মধ্যেই 'কাল' বা সময় লুকিয়ে আছে, তাই আলাদা করে 'কাল' যোগ করে 'ইদানিংকাল' বলা একটি গুরুচণ্ডালী দোষ ও অপপ্রয়োগ।
পক্ষান্তরে, জন্মবার্ষিক শব্দটি সম্পূর্ণ শুদ্ধ এবং এর ব্যবহারে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটেনি।
নিচের কোন শব্দে বিশেষ নিয়মে 'ষ' বসেছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুর্বিষহ।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত ই-কার বা উ-কারের পরে 'ষ' (ধ্বনিতুল্য মূর্ধন্য 'ষ') ব্যবহৃত হয়। দুর্বিষহ শব্দটিতে 'বি' উপসর্গের পর 'সহ' যুক্ত হওয়ার সময় বিশেষ নিয়মে দন্ত্য 'স' বদলে মূর্ধন্য 'ষ' হয়ে গেছে। নিয়মটির মূল কথা হলো— কিছু শব্দে স্বভাবতই বা বিশেষ নিয়মে দন্ত্য 'স'-এর জায়গায় 'ষ' বসে, যা এই শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছে।