বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন পরীক্ষা ২০২১
ক্লাসিক্যাল অর্থনীতি, মুক্তবাজার ও অর্থনৈতিক উদারতাবাদের প্রবর্তক-
এখানে সঠিক উত্তর হলো অ্যাডাম স্মিথ। তাঁকে আধুনিক অর্থনীতির জনক বলা হয়।
খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে অর্থনীতিকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক উদারতাবাদের ধারণা প্রচারে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Wealth of Nations' আধুনিক অর্থনীতির ভিত গড়ে দেয়, যেখানে তিনি অদৃশ্য হাত বা 'Invisible Hand'-এর তত্ত্বর মাধ্যমে মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল কথা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
'বৈজ্ঞানিক-ব্যবস্থাপনা'-এর জনক কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো F. W. Taylor।
ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন তিনি। তাই তাঁকে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক বলা হয়। তাঁর এই চিন্তাধারা আধুনিক শিল্প ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
Henry Fayol ব্যবস্থাপনার কয়টি মূলনীতির কথা বলেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১৪টি।
আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হেনরি ফেয়ল (Henry Fayol) প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য মোট ১৪টি মূলনীতি বা নীতি প্রবর্তন করেছেন। এই মূলনীতিগুলো যেকোনো সংগঠনের পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশদান এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে।
Luca Pacioli উদ্ভাবিত 'Double Entry System'-এর অর্থ
এখানে সঠিক উত্তর হলো লেনদেনের দু'টি দিক এন্ট্রি।
লুকা প্যাসিওলি (Luca Pacioli) প্রবর্তিত 'ডাবল এন্ট্রি সিস্টেম' বা দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মূল কথাই হলো হিসাবের প্রতিটি লেনদেনের সমপরিমাণ দুটি দিক বা পক্ষ থাকতে হবে—যার একটি হলো ডেবিট (গ্রহিতা/সুবিধা প্রদানকারী) এবং অন্যটি হলো ক্রেডিট (দাতা/সুবিধা গ্রহণকারী)। সহজ কথায়, হিসাববিজ্ঞানে প্রতিটি ঘটনার দ্বৈত প্রভাব সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করাই হলো এই পদ্ধতির মূল ভিত্তি।
এর প্রধান ক্ষেত্র উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ।
এখানে সঠিক উত্তর হলো কস্ট অ্যাকাউন্টিং (Cost Accounting)।
ব্যবসার দুনিয়ায় কোনো পণ্য উৎপাদন করতে ঠিক কত খরচ হচ্ছে এবং তা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে বিতরণ খরচ কেমন পড়ছে—সেসব নিখুঁতভাবে হিসাব ও নিয়ন্ত্রণ করাই হলো কস্ট অ্যাকাউন্টিংয়ের মূল কাজ। এটি মূলত উৎপাদন খরচ কমিয়ে ব্যবসার মুনাফা বাড়াতে সরাসরি সাহায্য করে।
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কোনটি?
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সঠিক কর্তৃপক্ষ হলো Bangladesh Securities and Exchange Commission (BSEC)। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- শেয়ার বাজারের যাবতীয় নিয়ম-কানুন তৈরি করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের।
- এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যা সরাসরি শেয়ার বাজারের লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারকি করে।
- অন্যান্য অপশনগুলো যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত দেশের মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু শেয়ার বাজারের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিএসইসি-ই কাজ করে।
সহজ কথায়, শেয়ার বাজারের যেকোনো অনিয়ম বা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে BSEC-ই হলো চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ।
সরকার 'ট্রেজারি বিল' কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইস্যু করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
খুব সহজ কথায়, সরকার যখন স্বল্পমেয়াদী ঋণের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ট্রেজারি বিল বা ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করে, তখন সেই পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারের ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমেই। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে সরকারের পক্ষে এই সিকিউরিটিজ ইস্যু ও ব্যবস্থাপনা করে থাকে।
বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে কোন ব্যাংক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড।
খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো, বাংলাদেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের পথচলা শুরু হয়েছিল ডাচ-বাংলা ব্যাংকের হাত ধরে। ২০১১ সালে তারা 'রকেট' (পূর্বে ডিবিবিএল মোবাইল ব্যাংকিং নামে পরিচিত) সেবা চালুর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসে। তাই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অগ্রদূত বলা হয় ডাচ-বাংলা ব্যাংককে।
বাংলাদেশ কোন পণ্য রপ্তানি থেকে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তৈরি পোশাক।
বিষয়টা খুব সহজ! আমাদের দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে এই খাত থেকে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের কারণে তৈরি পোশাক শিল্প আজ আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ও প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত।
'বেইল আউট' শব্দটি জড়িত-
এখানে সঠিক উত্তর হলো রাগবি খেলায়। রাগবি খেলায় যখন কোনো খেলোয়াড় বল নিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় রান করার সময় মাটিতে পড়ে যান বা ট্যাকল হন, তখন তাকে দ্রুত খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ওই পজিশন থেকে বল পেছনে থাকা সতীর্থের দিকে ঠেলে দিতে হয়। খেলার এই বিশেষ নিয়ম বা কৌশলটিকেই মূলত 'বেইল আউট' বলা হয়ে থাকে।