বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা/সহকারী হিসাব কর্মকর্তা/সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান ২০২৫
ভাষার কয়টি মৌলিক অংশ থাকে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কোনটিই নয়। কারণ ভাষাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী ভাষার মৌলিক অংশ বা উপাদান মূলত ৪টি। এগুলো হলো:
- ধ্বনি (Sound): ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- শব্দ (Word): ধ্বনির অর্থবোধক মিলন।
- বাক্য (Sentence): মনের ভাব প্রকাশের পূর্ণাঙ্গ একক।
- অর্থ (Meaning): ভাষার প্রাণ বা মূল ভিত্তি।
যেহেতু অপশনগুলোতে সঠিক সংখ্যাটি (৪) দেওয়া নেই, তাই এখানে কোনটিই নয় উত্তরটিই সঠিক। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ ভাষা তৈরি হয় ধ্বনি থেকে, ধ্বনি দিয়ে শব্দ, শব্দ দিয়ে বাক্য এবং সবকিছুর পেছনে থাকে নির্দিষ্ট অর্থ।
কোনটি স্বরভক্তির উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শোলোক।
সহজ কথায় স্বরভক্তি হলো—যুক্তবর্ণ ভেঙে মাঝে অতিরিক্ত একটি স্বরধ্বনি নিয়ে আসা। যেমন:
- মূল শব্দ ছিল শ্লোক (এখানে শ্ল-যুক্তবর্ণ রয়েছে)।
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য মাঝখানে একটি অতিরিক্ত 'ও' কার এনে একে ভেঙে করা হয়েছে শোলোক ($শ্লোক \rightarrow শোলোক$)।
- মাঝখানে স্বরধ্বনির এই ভক্তি বা আগমন ঘটার কারণেই একে স্বরভক্তি বলা হয়।
'পশ্বাচার' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
‘পশ্বাচার’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো পশু + আচার। এটি মূলত য-ফলা বা ই-কারান্ত সন্ধির একটি চমৎকার উদাহরণ। বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে নিচের ধাপগুলো খেয়াল করুন:
- এখানে প্রথম শব্দের শেষ বর্ণ ‘উ’ (পশউ) এবং দ্বিতীয় শব্দের শুরুর বর্ণ ‘আ’ (আচার) মিলে ‘ব’ বা ‘ব-ফলা’ তৈরি করেছে।
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধিতে যখন ‘উ’ বা ‘ঊ’-এর পরে অন্য কোনো স্বরবর্ণ আসে, তখন ‘উ’ বা ‘ঊ’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ব’ হয়ে যায়।
- অর্থাৎ, $উ + আ = য়া$ না হয়ে এখানে সন্ধির নিয়মে তা $ব + আ = বা$ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
সহজ কথায়, পশু + আচার যুক্ত হয়ে ‘উ’ কারটি ‘ব’-তে রূপান্তরিত হয়েছে এবং পরের ‘আ’ কারটি ‘ব’-এর সাথে যুক্ত হয়ে ‘বা’ গঠন করেছে। এভাবেই শব্দটি ‘পশ্বাচার’ হয়েছে।
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কবিরের মৃত্যুতে সবাই হায় হায় করতে লাগল। বিষয়টি খুব সহজ, একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে:
- অব্যয়ের দ্বিরুক্তি বলতে বোঝায় যখন একই অব্যয় শব্দ পরপর দুবার বসে কোনো বিশেষ ভাব বা আবেগ প্রকাশ করে।
- এখানে হায় একটি অব্যয় পদ। যখন আমরা বলি হায় হায়, তখন এটি শোক বা দুঃখের তীব্রতাকে প্রকাশ করছে।
- অন্যান্য অপশনগুলোতে বিশেষ্য বা ক্রিয়াপদের দ্বিরুক্তি থাকলেও, অব্যয়ের দ্বিরুক্তি কেবল এই বাক্যটিতেই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সহজ কথায়, যেখানে একই অব্যয় শব্দ পরপর বসে মনের আবেগ বা আকুতি প্রকাশ করে, সেটাই অব্যয়ের দ্বিরুক্তি।
কোনটি রূপক কর্মধারয়ের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ক্রোধানল। রূপক কর্মধারয় সমাস চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো উপমেয় (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) এবং উপমানের (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে) মধ্যে অভেদ কল্পনা করা।
সহজভাবে বিষয়টি এভাবে বুঝতে পারো:
- ক্রোধানল শব্দটির ব্যাসবাক্য করলে হয় ক্রোধ রূপ অনল।
- এখানে ক্রোধ (রাগ) এবং অনল (আগুন) আলাদা কিছু নয়, বরং ক্রোধকেই আগুনের সাথে অভিন্ন বা এক করে দেখানো হয়েছে।
- যখনই দেখবে কোনো শব্দে 'রূপ' শব্দটি লুকিয়ে আছে বা তুলনাটি সরাসরি অভিন্ন বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখনই সেটি রূপক কর্মধারয়।
সহজ কথায়, যেখানে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না, সেটাই রূপক কর্মধারয়। তাই এখানে 'ক্রোধ' আর 'অনল' মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
সঠিক উত্তর হলো বিদ্যাহীন। এটি একটি তৎপুরুষ সমাস হওয়ার কারণ খুব সহজ:
- তৎপুরুষ সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এখানে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং ব্যাসবাক্য করার সময় বিভক্তি লোপ পায়।
- 'বিদ্যাহীন' শব্দটিকে ভাঙলে আমরা পাই: বিদ্যা হতে হীন বা বিদ্যা দ্বারা হীন।
- এখানে 'হতে' বা 'দ্বারা' হলো বিভক্তি, যা সমাসবদ্ধ হওয়ার সময় লোপ পেয়েছে।
- যেহেতু এখানে দ্বিতীয় বা পঞ্চমী বিভক্তির লোপ পেয়ে নতুন পদ তৈরি হয়েছে, তাই এটি অনায়াসেই তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
নিচের কোন শব্দে 'উৎকৃষ্ট' অর্থে উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাজিরা। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ এখানে 'স' উপসর্গটি 'উৎকৃষ্ট' বা ভালো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- বাংলা ব্যাকরণে 'স' উপসর্গটি অনেক সময় 'সহ' বা 'সহিত' অর্থে ব্যবহৃত হলেও, বিশেষ কিছু শব্দে এটি 'উৎকৃষ্ট' বা 'সুন্দর' অর্থ প্রকাশ করে।
- সাজিরা শব্দটির গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে 'স' উপসর্গটি যোগ হয়ে শব্দটিকে একটি উৎকৃষ্ট বা বিশেষ রূপ দিয়েছে।
- সহজ কথায়, যখন কোনো শব্দের শুরুতে 'স' যুক্ত হয়ে সেই বস্তুর বা গুণের উৎকর্ষ বোঝায়, তখন সেটিই সঠিক উত্তর হিসেবে গণ্য হয়।
কোনটি সংস্কৃত ধাতু দ্বারা গঠিত শব্দ?
সঠিক উত্তর হলো স্থান। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ বাংলা ভাষায় যেসব শব্দ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এসেছে, সেগুলোকে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ বলা হয়।
- স্থান শব্দটি সংস্কৃত 'স্থা' ধাতু থেকে এসেছে, যা সরাসরি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
- অন্যদিকে, কেনা, বাঁধা বা ঘষা—এই শব্দগুলো দেশি বা তদ্ভব শব্দ, কারণ এগুলোর উৎপত্তি সংস্কৃত ধাতু থেকে হলেও সময়ের সাথে সাথে এদের রূপ পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
- সহজ কথায়, যে শব্দগুলো দেখলে মনে হয় একদম খাঁটি সংস্কৃত, সেগুলোই সংস্কৃত ধাতু বা শব্দ থেকে গঠিত।