পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার (০৭.০৩.২০১৪)
'ফোঁড়ন' শব্দটি গঠিত হয়েছে-
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রত্যয়যোগে।
শব্দটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, 'ফুট' মূল শব্দের সাথে '-অন' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'ফোঁড়ন' শব্দটি গঠিত হয়েছে। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী শব্দের শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরির প্রক্রিয়াকেই প্রত্যয়যোগ বলা হয়।
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে -
এখানে সঠিক উত্তর হলো ফলশ্রুতি।
শব্দটির সঠিক প্রয়োগ বা অর্থ বুঝতে ছোট্ট একটি বিষয় খেয়াল রাখলেই চলবে:
- 'শ্রুতি' অর্থ শোনা, আর 'ফলশ্রুতি' মানে হলো কোনো কাজের ভালো বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল।
- কিন্তু অনেক সময় মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত বা খারাপ পরিণতি বোঝাতেও ভুলবশত 'ফলশ্রুতি' শব্দটি ব্যবহার করে ফেলেন, যা ব্যাকরণের দিক থেকে এর অপপ্রয়োগ।
বাংলা ভাষায় ওষ্ঠ্য ধ্বনির সংখ্যা কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৫টি। খুব সহজেই মনে রাখার জন্য বাংলা বর্ণমালার 'প' বর্গীয় ধ্বনিগুলো খেয়াল করতে পারো।
- 'প' বর্গের ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় দুটি ঠোঁট বা ওষ্ঠের সাহায্যে উচ্চারিত হয়।
- এই ধ্বনিগুলো হলো: প, ফ, ব, ভ, ম।
- তাই মোট ওষ্ঠ্য ধ্বনির সংখ্যা হলো ঠিক ৫টি।
'Archetype' শব্দের অর্থ কি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: আদিরূপ।
ইংরেজি 'Archetype' শব্দটির বাংলা পরিভাষা হলো আদিম রূপ বা মূল নমুনা। কোনো কিছুর প্রারম্ভিক বা মূল রূপ বোঝাতেই এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
কোনটি তে মধ্য স্বর লোপ পেয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গামছা।
বিষয়টা খুব সহজে এভাবে মনে রাখতে পারো:
- মূল শব্দ ছিল 'গামছা', যা দ্রুত উচ্চারণ করতে গিয়ে মাঝের 'অ' বা স্বরধ্বনিটি উধাও হয়ে গেছে।
- অর্থাৎ, দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার্থে শব্দের মাঝের কোনো স্বরধ্বনি লোপ পাওয়ার প্রক্রিয়াকেই মধ্য স্বর লোপ বলে।
নিচের কোনটি হিন্দি শব্দ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো ফুফা।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলোকে উৎস অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে 'ফুফা' একটি চমৎকার উদাহরণ যা সরাসরি হিন্দি ভাষা থেকে আমাদের ভাষায় এসেছে। এ ধরনের শব্দ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর উচ্চারণ ও দৈনন্দিন ব্যবহারের ধরন খেয়াল রাখা, যা আমাদের পরিচিত সংস্কৃতির সাথে মিলে যায়।
নিচের কোনটি যুগ্মরীতি দ্বিরুক্ত শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: বই-টই।
বিষয়টা খুব সহজ! যখন প্রথম শব্দটি সঠিক থাকে এবং তার সাথে মিল রেখে আরেকটি অর্থহীন বা সমার্থক শব্দ জোড়া দেওয়া হয়, তখন তাকে যুগ্মরীতি দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। এখানে 'বই' হলো আসল শব্দ এবং তার সাথে 'টই' মিলে তৈরি হয়েছে বই-টই, যা এই নিয়মের সাথে perfectly মিলে যায়।
প্রাচীন বাংলার জনপদ ও অর্থনীতির পরিচয় প্রথম কার কোন গ্রন্থে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: নীহাররঞ্জন রায় এর 'বাঙালীর ইতিহাস'।
বিষয়টা খুব সহজভাবে মনে রাখতে পারেন—বাঙালি জাতির উৎপত্তি, প্রাচীন জনপদ, সমাজ এবং অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র নিয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে প্রামাণ্য গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেছিলেন পন্ডিত নীহাররঞ্জন রায়। তাঁর বিখ্যাত 'বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)' গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থার অত্যন্ত সুনিপুণ ও বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়।
'সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন'। এখানে 'আপে' অর্থ কি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো স্বয়ং। প্রাচীন বা মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে ঈশ্বর বা প্রভূর ক্ষেত্রে 'আপে' শব্দটি ব্যবহৃত হতো যার সাধারণ অর্থ হলো নিজে বা স্বয়ং। অর্থাৎ, এখানে বোঝানো হয়েছে যে প্রভু নিজেই সেই নিগূঢ় তত্ত্ব বা বাক্য বুঝতে পেরেছেন।
কোন বাক্যটি চলিত ভাষায় লেখা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন।
বিষয়টা খুব সহজ! চলিত রীতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত এবং আধুনিক রূপ ব্যবহার করা। এই বাক্যে 'তার', 'দিলেন' — এগুলো সবই চলিত রূপ। অন্যদিকে বাকি অপশনগুলোতে 'করিয়া', 'তাহার', 'হইয়া থাকে'-এর মতো গুরুগম্ভীর ও সাধু রীতির শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।