৭ম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্ন সমাধান (স্কুল পর্যায়) ২০১১
বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদচিহ্ন মোট কতটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১২টি।
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী বাক্য গঠনে বিরতি বা থামার স্থান বোঝাতে এবং অর্থের স্পষ্টতা রক্ষ It-এর জন্য মোট ১২টি যতি বা ছেদচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা লেখায় প্রথম এসব যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু করেন।
নিচের কোনটি অর্ধতৎসম শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গিন্নী। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- অর্ধতৎসম শব্দ বলতে সেই শব্দগুলোকে বোঝায়, যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- সংস্কৃত শব্দ 'গৃহিণী' থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে 'গিন্নী'।
- যেহেতু শব্দটি পুরোপুরি সংস্কৃত (তৎসম) নয়, আবার পুরোপুরি খাঁটি বাংলা (তদ্ভব) শব্দও নয়, তাই একে অর্ধতৎসম শব্দ বলা হয়।
সহজ কথায়, যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে সামান্য রূপ বদলে বাংলায় জায়গা করে নিয়েছে, সেগুলোই অর্ধতৎসম। এই তালিকায় 'গিন্নী' একটি চমৎকার উদাহরণ।
বাড়ি বা রাস্তার নামের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কমা।
চিঠি লেখার সময় বা ঠিকানা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়ি বা রাস্তার নামের পরে সামান্য বিরতি বোঝাতে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। যেমন: বাড়ি নং ১২, রোড নং ৫। তাই সঠিক উত্তরটি হবে কমা।
‘যার কোন মূল্যে নাই’- সমার্থক বাগধারা কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঢাকের বায়া।
‘ঢাকের বায়া’ বাগধারাটির অর্থ হলো যার কোনো মূল্য বা গুরুত্ব নেই (অকেজো)। ঢাকের দুই পাশের বাজনা থাকে—ডান পাশেরটা মূল বা প্রধান হলেও বাম পাশের বায়াটি তেমন কোনো কাজের নয় এবং এর আলাদা কোনো বিশেষ মূল্যও থাকে না। এই মজার তুলনার মাধ্যমেই মূলত গুরুত্বহীন বা মূল্যহীন মানুষ বা বস্তুকে বোঝানো হয়।
সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য নিখোঁজ সংবাদ কোন ধরনের পত্র?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিজ্ঞপ্তি। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ সংবাদপত্রে যখন কোনো বিশেষ তথ্য বা জরুরি ঘোষণা সাধারণ মানুষের নজরে আনার জন্য প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বিজ্ঞপ্তি বলা হয়।
- নিখোঁজ সংবাদ মূলত একটি তথ্যমূলক ঘোষণা, যা জনসাধারণের সহায়তার জন্য প্রচার করা হয়।
- যেহেতু এটি কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ, চুক্তি বা কোনো ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন নয়, তাই এটি সরাসরি বিজ্ঞপ্তির আওতাভুক্ত।
- সংবাদপত্রের নির্দিষ্ট কলামে এই ধরনের ঘোষণাগুলো সাধারণত 'বিজ্ঞপ্তি' বা 'নোটিশ' হিসেবেই গণ্য করা হয়।
নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শুকনো। কারণ চলিত রীতিতে শব্দের রূপ সাধারণত সহজ ও সংক্ষিপ্ত হয়।
- চলিত রীতিতে আমরা কথা বলার সময় যে শব্দগুলো ব্যবহার করি, শুকনো তার একটি আদর্শ উদাহরণ।
- অন্যদিকে, 'পড়িল' বা 'সহিত' শব্দগুলো সাধু রীতির অন্তর্ভুক্ত, যা বর্তমানে লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা গুরুগম্ভীর বা পুরনো ধাঁচের মনে হয়।
- সহজ কথায়, যে শব্দগুলো আমাদের দৈনন্দিন কথোপকথনের সাথে মিলে যায়, সেগুলোই চলিত রীতির শব্দ।
‘বিষ নেই তার কুলোপনা চক্কর ‘বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অক্ষম ব্যক্তির বৃথা আস্ফালন।
বাক্যটির ভেতরের অর্থটা খুব সহজে এভাবে মনে রাখতে পারো:
- যাদের সত্যিকারের কোনো ক্ষমতা বা শক্তি থাকে না, তারাই মূলত বেশি বাড়াবাড়ি বা বাহাদুরি দেখানোর চেষ্টা করে।
- বাস্তবে কোনো ক্ষতি করার সামর্থ্য না থাকলেও তাদের এই বকবক বা বড় বড় কথা বলাকেই মূলত ‘বিষ নেই তার কুলোপনা চক্কর’ বাগধারা দিয়ে বোঝানো হয়।
কোনটির অভাবে চিঠি লেখার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রাপকের ঠিকানা। কারণটা খুব সহজ—চিঠি লেখার মূল উদ্দেশ্যই হলো নির্দিষ্ট কারো কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
- চিঠির প্রধান কাজ হলো প্রাপকের কাছে তথ্য বা মনের ভাব পৌঁছানো।
- যদি চিঠিতে প্রাপকের ঠিকানাই না থাকে, তবে চিঠিটি কার কাছে যাবে বা কে এটি গ্রহণ করবে, তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।
- ঠিকানা ছাড়া চিঠি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না, ফলে যোগাযোগের পুরো প্রক্রিয়াটিই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তাই একটি চিঠির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রাপকের সঠিক ঠিকানা থাকাটা সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
‘দেশের সকল আলেমগণই সভায় উপস্থিত ছিলেন।’ বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বাহুল্য দোষ।
বাক্যটিতে 'সকল' এবং 'গণ'—দুটি শব্দই বহুবচন বোঝাতে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলায় যেকোনো একটি বহুবচনবাচক শব্দ ব্যবহার করলেই চলে। একই সঙ্গে দুটি ব্যবহার করায় অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় শব্দের উপস্থিতির কারণে বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ ঘটেছে।
‘সাক্ষী গোপাল’ বাগধারাটির অর্থ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নিষ্ক্রিয় দর্শক।
‘সাক্ষী গোপাল’ একটি খুব পরিচিত বাংলা বাগধারা। কোনো ঘটনার সময় উপস্থিত থেকে বা সাক্ষী হয়েও যারা কোনো ধরনের ভূমিকা রাখে না বা সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের বোঝাতেই এই বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়। সহজ কথায়, কোনো বিষয়ে কথা না বলে শুধু নীরব ভূমিকা পালন করাকেই নিষ্ক্রিয় দর্শক বলা হয়।