৭ম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্ন সমাধান (স্কুল পর্যায়) ২০১১
প্রাপক বয়সে বড় হলে প্রেরক স্বাক্ষরের আগে কোন শব্দটি ব্যবহার করবে?
চিঠিপত্রে প্রাপক যদি বয়সে ছোট হন, তবে প্রেরক নিজের স্বাক্ষরের আগে স্নেহভাজন শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি মূলত স্নেহ বা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- স্নেহভাজন মানে হলো যিনি স্নেহের পাত্র বা যাকে স্নেহ করা হয়।
- যেহেতু প্রাপক বয়সে ছোট, তাই প্রেরক তাকে স্নেহ করার অধিকার রাখেন, আর সেই জায়গা থেকেই এই সম্বোধনটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
- এটি সম্পর্কের গভীরতা এবং বড় হিসেবে নিজের দায়িত্ববোধকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে।
নিচের কোনটি দ্বিগু সমাসের সমস্ত পদ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাতসমুদ্র। কারণটা খুব সহজ, দ্বিগু সমাস চেনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এর গঠন লক্ষ্য করা।
- দ্বিগু সমাসে পূর্বপদটি সবসময় একটি সংখ্যাবাচক শব্দ হয়।
- এখানে 'সাতসমুদ্র' শব্দটির শুরুতে 'সাত' একটি সংখ্যা নির্দেশ করছে।
- সমাহার বা সমষ্টি বোঝাতে এই সমাস ব্যবহৃত হয়, যেমন: সাত সমুদ্রের সমাহার = সাতসমুদ্র।
সহজ কথায়, যখনই কোনো সমাসবদ্ধ পদে শুরুতে সংখ্যা দেখবেন এবং শেষে সমাহার বা সমষ্টির অর্থ প্রকাশ পাবে, চোখ বন্ধ করে সেটাকে দ্বিগু সমাস বলে দেবেন!
যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটি পদকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সমস্যমান পদ। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- সমাস প্রক্রিয়ায় যে পদগুলো মিলে নতুন একটি পদ তৈরি হয়, সেই প্রতিটি আলাদা পদকে বলা হয় সমস্যমান পদ।
- সহজ কথায়, সমাসবদ্ধ হওয়ার আগে যে পদগুলো আলাদা থাকে, তাদের প্রত্যেকটিই হলো সমস্যমান পদ।
- উদাহরণস্বরূপ, 'সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন'—এখানে 'সিংহ' এবং 'আসন' হলো সমস্যমান পদ।
সহজ ট্রিক: সমাস তৈরির জন্য যে পদগুলো সমস্যা বা একত্রিত হওয়ার কাজ করে, তারাই হলো সমস্যমান পদ।
‘ইঁদুর কপাল’ – এর বিপরীতার্থক বাগধারা কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো একাদশে বৃহস্পতি। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- ‘ইঁদুর কপাল’ বাগধারাটির অর্থ হলো মন্দ ভাগ্য বা দুর্ভাগ্য।
- অন্যদিকে, ‘একাদশে বৃহস্পতি’ বাগধারাটির অর্থ হলো সৌভাগ্য বা সুসময়।
- যেহেতু প্রশ্নটিতে বিপরীতার্থক বাগধারা জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই মন্দ ভাগ্যের বিপরীত হিসেবে সৌভাগ্য বা একাদশে বৃহস্পতি-ই সঠিক উত্তর।
সহজ কথায়, ভাগ্য খারাপ হলে আমরা বলি ‘ইঁদুর কপাল’, আর ভাগ্য খুব ভালো হলে বলি ‘একাদশে বৃহস্পতি’।
‘গুণহীনের বৃথা আস্ফালন ‘– এর অর্থ নিচের কোন প্রবাদের মাধ্যমে বোঝানো যায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অসারের তর্জন গর্জন সার। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- অসার বলতে বোঝায় যার ভেতরে কোনো গুণ বা সারবস্তু নেই।
- তর্জন গর্জন মানে হলো অহেতুক চিৎকার বা বড় বড় কথা বলা।
- অর্থাৎ, যার ভেতরে কোনো যোগ্যতা নেই, সে-ই সাধারণত বেশি আস্ফালন বা বাহাদুরি দেখায়।
সহজ কথায়, যার কোনো গুণ নেই, তার বড় বড় কথা বলাটাই হলো তার একমাত্র কাজ বা 'সার'। তাই গুণহীনের বৃথা আস্ফালনের সাথে এই প্রবাদটি একদম নিখুঁতভাবে মিলে যায়।
পর্তুগীজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো চাহিদা। কারণ এটি পর্তুগীজ শব্দ নয়, বরং এটি একটি তুর্কি শব্দ।
সহজে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করতে পারেন:
- আনারস, আলমারি এবং গুদাম—এই শব্দগুলো পর্তুগীজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
- অন্যদিকে, চাহিদা শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে আগত।
পরীক্ষায় এমন প্রশ্ন আসলে শব্দগুলোর উৎস মনে রাখার জন্য ছোট ছোট ছন্দ বা তালিকা ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
নিচের কোন শব্দটি রোগ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
সঠিক উত্তর হলো মাথা ধরা। বাংলা ভাষায় বাগধারা বা শব্দপ্রয়োগের ক্ষেত্রে 'মাথা ধরা' বলতে সাধারণত শারীরিক অসুস্থতা বা মাইগ্রেন জাতীয় সমস্যাকে বোঝানো হয়।
- মাথা ধরা: এটি সরাসরি একটি শারীরিক অসুস্থতা বা রোগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অন্যান্য অপশনগুলো যেমন 'মাথা ব্যথা' বা 'মাথা ঘামান' সাধারণত দুশ্চিন্তা বা কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনার ক্ষেত্রে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সরাসরি রোগ অর্থে 'মাথা ধরা' শব্দগুচ্ছটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও সঠিক।