প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান (২৮.০৬.২০১৯) ৪র্থ ধাপ ১
নাসিক্য বর্ণ কোনগুলো?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঙ, ঞ, ণ। কারণ বাংলা বর্ণমালায় যে বর্ণগুলো উচ্চারণের সময় বাতাস মুখ দিয়ে বের হওয়ার পাশাপাশি নাক দিয়েও বের হয়, সেগুলোকে নাসিক্য বর্ণ বলা হয়।
- বর্গের পঞ্চম বর্ণগুলো (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) সাধারণত নাসিক্য ধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হয়।
- তাই খুব সহজেই মনে রাখার শর্ટકাট হলো—প্রতিটি বর্গের শেষের বর্ণগুলোই মূলত নাসিক্য বর্ণ।
‘উপকূল’ কোন সমাস?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অব্যয়ীভাব সমাস। খুব সহজে চেনার উপায় হলো:
- যে সমাসে পূর্বপদে কোনো অব্যয় (যেমন: উপ, প্রতি, a, বি ইত্যাদি) যুক্ত হয়ে অব্যয়ের অর্থই প্রধানভাবে বোঝায়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এখানে 'উপ' একটি অব্যয়, যা 'কুল-এর সমীপ' বা সামীপ্য অর্থে ‘উপকূল’ শব্দটি তৈরি করেছে। তাই এটি নিশ্চিতভাবেই অব্যয়ীভাব সমাস।
নিচের কোন শব্দটি প্রত্যয় সাধিত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো খণ্ডিত। কারণ শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই খণ্ড + ইত।
সহজ কথায়, কোনো শব্দের শেষে যখন নতুন কোনো শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ তৈরি করে, তখন তাকে প্রত্যয় সাধিত শব্দ বলে। এখানে লক্ষ্য করুন:
- মূল শব্দ: খণ্ড (একটি বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ)
- প্রত্যয়: ইত (যা এখানে যুক্ত হয়েছে)
- ফলাফল: খণ্ড + ইত = খণ্ডিত
অর্থাৎ, মূল শব্দের সাথে ইত প্রত্যয় যুক্ত হয়েই এই শব্দটি গঠিত হয়েছে, তাই এটি একটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখার জন্য কোন বিরামচিহ্ন বসে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হাইফেন। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ যখন আমরা কোনো সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলোকে আলাদা করে বা বিচ্ছিন্নভাবে দেখাতে চাই, তখন হাইফেন ব্যবহার করা হয়।
- সমাসবদ্ধ পদের বিভিন্ন অংশকে স্পষ্ট করার জন্য হাইফেন (-) চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: 'মা-বাবা', 'দেনা-পাওনা' বা 'অল্প-স্বল্প'—এই শব্দগুলোতে হাইফেন ব্যবহার করে পদগুলোর সংযোগ বা বিচ্ছিন্নতা বোঝানো হয়।
- বাক্যের মধ্যে শব্দের গঠন স্পষ্ট রাখতে এবং পড়ার সুবিধার্থে এটি একটি অপরিহার্য বিরামচিহ্ন।
‘তিনি অনেকদিন ধরে বহু কষ্ট করে সাঁতার শিখেছেন’ কোন ধরনের বাক্য?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: সরল।
বাক্যটিকে সহজভাবে বুঝতে হলে এর গঠন দেখতে হবে। এই বাক্যে একটিমাত্র কর্তা ('তিনি') এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া ('শিখেছেন') রয়েছে। যদিও বাক্যটিতে 'অনেকদিন ধরে', 'বহু কষ্ট করে' এর মতো বেশ কিছু বর্ধিত অংশ বা সম্প্রসারক আছে, তবুও মূল ব্যাকরণগত কাঠামোর দিক থেকে এটি একটিমাত্র খণ্ডবাক্য নিয়ে গঠিত। আর যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।