প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান (২৮.০৬:২০১৯) ৪র্থ ধাপ ৩
‘তেপান্তর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
‘তেপান্তর’ শব্দটি দ্বিগু সমাসের একটি চমৎকার উদাহরণ। খুব সহজে মনে রাখার উপায় হলো:
- দ্বিগু সমাস চেনার প্রধান উপায় হলো শব্দের শুরুতে সংখ্যাবাচক শব্দ থাকা।
- এখানে ‘তেপান্তর’ শব্দটি ভাঙলে পাওয়া যায় ‘তিন প্রান্তরের সমাহার’।
- যেহেতু এখানে ‘তিন’ (সংখ্যা) দিয়ে সমাহার বা সমষ্টি বোঝানো হয়েছে, তাই এটি চোখ বন্ধ করেই দ্বিগু সমাস।
সহজ কথায়, যখনই কোনো শব্দে সংখ্যার উপস্থিতি থাকে এবং তা কোনো সমাহার বা মিলন বোঝায়, তখনই সেটি দ্বিগু সমাস হিসেবে গণ্য হয়।
‘মেঘলা’ কি ধরনের শব্দ?
সঠিক উত্তর হলো বিশেষণ। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- কোনো শব্দ যখন বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, তখন তাকে বিশেষণ বলা হয়।
- 'মেঘলা' শব্দটি দিয়ে মূলত আকাশের একটি বিশেষ অবস্থা বোঝানো হয়। যেমন— 'মেঘলা আকাশ'।
- এখানে 'আকাশ' হলো বিশেষ্য আর 'মেঘলা' শব্দটি সেই আকাশের অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছে। তাই ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী এটি একটি বিশেষণ পদ।
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গণনা, গণিকা, শোণিত। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী এই শব্দগুলো এভাবে লিখলেই শুদ্ধ হয়। বিষয়টি মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- গণনা: 'গণ' শব্দের সাথে 'না' যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়, তাই এখানে মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহৃত হয়।
- গণিকা: এটি একটি সংস্কৃত শব্দ, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী 'ণ' ব্যবহার করা হয়।
- শোণিত: 'শোণিত' শব্দের বানানে সবসময় মূর্ধন্য-ণ (ণ) বসে, দন্ত্য-ন (ন) ব্যবহার করলে বানানটি ভুল হয়ে যায়।
সহজ কথায়, এই শব্দগুলোতে তৎসম শব্দের নিয়ম মেনে মূর্ধন্য-ণ-এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। তাই এই তিনটি শব্দই মূর্ধন্য-ণ দিয়ে লেখা শুদ্ধ।
‘সিত’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
‘সিত’ শব্দের সঠিক সমার্থক শব্দ হলো শুক্ল। সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
- ‘সিত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সাদা বা ধবল।
- বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান অনুযায়ী, ‘শুক্ল’ শব্দটিও একই অর্থ অর্থাৎ সাদা বা উজ্জ্বল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- তাই যখনই কোনো প্রশ্নে ‘সিত’ শব্দটির অর্থ জানতে চাওয়া হবে, তখন চোখ বন্ধ করে ‘শুক্ল’ বা ‘ধবল’ জাতীয় শব্দগুলোকেই বেছে নিতে পারেন।
সহজ কথায়, সিত = শুক্ল = সাদা। বিষয়টি মনে রাখা একদম সহজ!
একই সঙ্গে উচ্চারিত দুটি মিলিত স্বরধ্বনিকে কি বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো যৌগিক স্বর। যখন দুটি ভিন্ন স্বরধ্বনি একসাথে মিলে একটি মাত্র স্বরধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হয়, তখন তাকে ব্যাকরণের ভাষায় যৌগিক স্বর (বা diphthong) বলা হয়। যেমন—'ঐ' (অ + ই) এবং 'ঔ' (অ + উ) হলো বাংলা ভাষার দুটি প্রধান যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ। খুব সহজে মনে রাখার নিয়ম হলো—একাধিক স্বর মিলে যখন জোড়া বেঁধে একটি আওয়াজ তৈরি করে, সেটাই যৌগিক স্বর!
‘অতিকায়’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
‘অতিকায়’ শব্দের সঠিক বিপরীত শব্দ হলো ক্ষুদ্রকায়। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- ‘অতিকায়’ শব্দটির অর্থ হলো যার শরীর বা আকার অনেক বিশাল বা বড়।
- এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করতে এমন একটি শব্দ প্রয়োজন যা ছোট আকার বা শরীরকে বোঝায়।
- ‘ক্ষুদ্র’ মানে ছোট এবং ‘কায়’ মানে শরীর বা দেহ। তাই ‘ক্ষুদ্রকায়’ শব্দটি সরাসরি ‘অতিকায়’-এর বিপরীত অর্থ বহন করে।
সহজ কথায়, বিশাল আকৃতির বিপরীত হলো ছোট আকৃতি, আর সেই কারণেই এখানে সঠিক উত্তরটি হলো ক্ষুদ্রকায়।
‘সুন্দর মাত্রই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।’ বাক্যে সুন্দর শব্দটি কোন পদ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: বিশেষ্য।
বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোনো দোষ, গুণ বা অবস্থার নাম হিসেবে বসেছে। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কিছুর নাম বোঝালে সেটি সবসময় বিশেষ্য পদ হয়। এখানে 'সুন্দর' বলতে সুন্দরের ভাব বা সৌন্দর্যকে বোঝানো হয়েছে, তাই এটি বিশেষ্য।